উৎসব পালনে ব্যস্ত সবাই, নদীয়া-মুর্শিদাবাদের হাসপাতালে রক্ত সঙ্কট

Monday, November 19th, 2018

ডেক্স নিউজ: গরমে সরকারি কর্মীদের রক্তদান কর্মসূচি পালন করার পরামর্শ দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সে কথা অনুযায়ী পুলিশ থেকে প্রশাসনিক কর্মকর্তারা যে এগিয়ে আসেননি, এমনটাও নয়। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলো ব্লক স্বাস্থ্য কর্মীদের নামও।
ভারতের মুর্শিদাবাদ জেলাজুড়ে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে ও থানায়-থানায় রক্তদান শিবির করার ধুম পড়ে যায়। ওই শিবিরগুলোতে সাধারণ কর্মীদের সঙ্গে লাল-নীল বাতি লাগানো গাড়ি থেকে নেমে জেলাপ্রশাসনিক কর্তারাও রক্ত দান করতে পিচপা হননি।
ওই বছর গরমের সময়ে রক্তের অভাব সাময়িকভাবে মিটেছিল। পাশাপাশি উৎসবের মওসুমেও ফি-বছর একইভাবে রক্তের অভাব দেখা দেয়।
কিন্তু দুর্গাপূজা উৎসবের আনন্দে মেতে থাকার কারণে রক্তদান শিবির আয়োজন হয় না বললেই চলে। ফলে জেলা ব্লাড ব্যাংক থেকে বিভিন্ন মহকুমা ব্লাড ব্যাংকে রক্ত সঙ্কট দেখা দেয়।
উৎসব মওসুমে রক্তের ওই অভাব মেটাতে রবিবার শিবিরের আয়োজন করার পাশাপাশি রক্তদাতাদের উৎসাহ দিতে বহরমপুরের বিডিও রাজর্ষি নাথ নিজেই রক্ত দেন। রবিবার বহরমপুর বিডিও কার্যালয় চত্বরে ওই রক্তদান শিবিরের সূচনা করেন জেলাশাসক পি উলাগানাথন।
তিনি বলছেন, গ্রীষ্মের সময় এরকম রক্তের সঙ্কট দেখা দিয়েছিল। সেই সময় সকলে মিলে বেশি করে শিবিরের আয়োজন করে রক্তের অভাব মেটানো সম্ভব হয়েছিল। বহরমপুরের বিডিও উদ্যোগ নেওয়ায় স্বনির্ভর গোষ্ঠীর নারীরা স্বেচ্ছায় রক্ত দিতে এগিয়ে এসেছেন, এতে অন্যান্য ব্লক প্রশাসনও উৎসাহিত হবে।
রবিবার নবগ্রামের সাবিনা বিবি ‘এ’ নেগেটিভ রক্তের সন্ধানে বহরমপুরে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জেলা ব্লাড ব্যাংকে হাজির হ। ছেলে হাসিম মণ্ডলকে অবিলম্বে রক্ত দিতে হবে বলে চিকিৎসক পরামর্শ দিয়েছেন।
কিন্তু রক্তের জন্য হন্যে হয়ে ঘুরেও রক্ত জোগাড় করতে পারেননি তিনি। ‘ওই গ্রুপের কোনো রক্ত নেই’ বলে ব্লাড ব্যাংক কর্তৃপক্ষ সাফ জানিয়ে দেয়। যেখানে পরিস্থিতি সামাল দিতে জেলা ব্লাড ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ৬০ বোতল রক্ত রানাঘাট থেকে নিয়ে আসে।
এ প্রসঙ্গে জেলা ব্লাড ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত চিকিৎসক তথা মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সুপার প্রভাসচন্দ্র মৃধা বলছেন, কোনো গ্রুপের রক্ত নেই। রক্তের অভাব মেটাতে রানাঘাট ব্লাডব্যাংক থেকে ৬০ ইউনিট রক্ত নিয়ে এসে পরিস্থিতি সামাল দিতে হয়েছে।