ব্যাটিংয়ের ধরনটাই পাল্টে ফেলেছেন সৌম্য

Monday, November 19th, 2018

ডেক্স নিউজ: রঙ্গিন পোশাকে তিনি হার্ডহিটার। দলও তার কাছ থেকে এটাই প্রত্যাশা করে। কিন্তু সাদা পোশাকে তো কেবল হার্ডহিটার হলে চলবে না; উইকেটে টিকে থাকতে হবে। লড়তে হবে পাঁচদিন। কিন্তু রানের জন্য ছটফট করে সুন্দরভাবে শুরু করা ইনিংস অনেকবার বিসর্জন দিয়েছেন সৌম্য সরকার। বাদ পড়েছিলেন টেস্ট দল থেকে। উইন্ডিজের বিপক্ষে আবারও সুযোগ পেয়ে নিজের ব্যাটিং দর্শন পরিবর্তনের কথা শোনালেন এই বিধ্বংসী ওপেনার।
২০১৫ সালে টেস্ট অভিষেকের পর পাকিস্তান ও ভারতের বিপক্ষে তিনটি ম্যাচ খেলার পর প্রথমবার বাদ পড়েন। এরপর ২০১৭ সালে আবারও সুযোগ পেয়ে প্রথম ৭ ইনিংসে ৪ হাফ সেঞ্চুরি করেন। কিন্তু পরের ৭ ইনিংসে ৪বার দুই অংকই স্পর্শ করতে পারেননি! দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ব্লুমফন্টেইনে ৯ ও ৩ রানে আউট হওয়ার পর কারণে আবারও বাদ পড়েন তিনি। ১০ টেস্টে ১৯ ইনিংসে ২৯.৩৬ গড়ে সৌম্যর রান ৫৫৮। কোনো সেঞ্চুরি নেই; হাফ সেঞ্চুরি ৪টি। সর্বোচ্চ স্কোর ৮৬।
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে লিটন দাসের ব্যর্থতায় এবার ক্যারিবীয় সিরিজে ডাক পেয়েছেন জাতীয় দলে। আগামী ২২ নভেম্বর যে তিনি ইমরুল কায়েসের সঙ্গী হবেন সেটা নিশ্চিত। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের শেষ ওয়ানডেতে হুট করে দলে ডাক পেয়ে বিধ্বংসী সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছিলেন। ঘরোয়া লিগেও অসাধারণ পারফর্মেন্স করে যাচ্ছেন তিনি। যে কারণে তার ওপর আবারও আস্থা রেখেছেন নির্বাচকেরা।
আজ গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সৌম্য নিজেই বললেন নিজেকে বদালানোর কথা, ‘টেস্ট দলে অনেকদিন পর সুযোগ পেয়েছি। যেখানেই ব্যাটিং করার সুযোগ পাই চেষ্টা করব উইকেটে সময় কাটাতে। মাঝখানে ব্যাটিংয়ে আসলে তেমন কিছুই করিনি, খেলাই চলছিল। একটাই পরিকল্পনা ছিল উইকেটে বেশি সময় দেওয়া। অনুশীলন বাড়িয়েছিলাম। যেহেতু জাতীয় লিগে স্পিন বেশি খেলতে হয় তাই বাঁহাতি স্পিন আর অফ স্পিন খেলার দিকে বেশি মনোযোগ ছিল।’
জাতীয় লিগে এক সেঞ্চুরি আর চার ফিফটিতে ৬৭.২৮ গড়ে সৌম্য করেন তৃতীয় সর্বোচ্চ ৪৭১ রান। প্রথম শ্রেণির এই ক্রিকেট টুর্নামেন্ট চলার সময়ে জিম্বাবুয়ের সঙ্গে ওয়ানডে প্রস্তুতি ম্যাচ ও সিরিজের তৃতীয় ওয়ানডেতে করেছিলেন সেঞ্চুরি। এবার উইন্ডিজ সিরিজ নিয়ে নিজের পরিকল্পনা সম্পর্কে সৌম্য বলেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে আলাদা কোনো পরিকল্পনা করিনি। যদি সেঞ্চুরি করে নিজের জায়গা পাকা করার কথা চিন্তা করি তাহলে চাপে পড়ব। লক্ষ্য থাকবে সুযোগ পেলে উইকেটে বেশি সময় থাকা।’