নওগাঁ-৪ (মান্দা) আসন পূনরুদ্ধার করতে চায় বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ডাঃ ইকরামুল বারী টিপু

Sunday, November 18th, 2018
নওগাঁ প্রতিনিধিঃ
নওগাঁ-৪ (মান্দা) আসনে ধানের শীষের প্রার্থী হতে বিএনপির মনোনয়ন ফরম
সংগ্রহ করেছেন মান্দা উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক, মান্দা
উপজেলা পরিষদের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও নওগাঁ জেলা বিএনপির যুগ্ম
সাধারণ সম্পাদক ডাঃ ইকরামুল বারী টিপু।
আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হতে
পারলে ২০০৮ সালে হারানো নওগাঁ-৪ (মান্দা) আসনটি বিপুৃল ভোটের ব্যবধানে
পুণরুদ্ধার করতে চান ডাঃ ইকরামুর বারী টিপু।
১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় নির্বাচন থেকে ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ
নির্বাচন পর্যন্ত এ আসনটি ছিল বিএনপির দখলে। ২০০৮ সালে চলে আসনটি
চলে যায় আওয়ামী লীগের হাতে। সর্বশেষ ২০১৪ সালে বিনা ভোটে জয় পান
বর্তমান পাট ও বস্ত্র মন্ত্রী ইমাজ উদ্দিন প্রামানিক।
ডাঃ ইকরামুল বারী টিপু ১৯৮৮-৮৯ সালে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজে পড়াকালিন
সময়ে ছাত্রদলের রাজনীতিতে যোগ দেন। ১৯৯১-৯২ সালে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ
হাসপাতালের ইন্টার্নি চিকিৎসক পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। ১৯৯৪ সালে যখন
মান্দা উপজেলায় বিএনপি বা অঙ্গ সংগঠনের কোন কমিটি ছিলনা সে সময় তার
নেতৃত্বে তৎকালিন কেন্দ্রিয় ছাত্রদলের সহ-সভাপতি হারুনুর রশিদ ও তৎকালিন
ছাত্রদলের অন্যতম নেত্রী আসিফা আশরাফী পাপিয়ার নেতৃত্বে মান্দা উপজেলায়
ছাত্রদলের প্রথম কমিটি গঠন করা হয়। ১৯৯৫ সালে তার নেতৃত্ব রাজশাহী সিটি
কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিনুর উপস্থিতিতে যুবদলের কমিটি
গঠন করা হয়।
ডাঃ ইকরামুল বারী টিপু ১৯৯৬-১৯৯৯ সালে মান্দা থানা বিএনপির যুগ্ম
আহবায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এই ধারাবাহিতায় ১৯৯৯ সালে ও ২০০৩
সালে অনুষ্ঠিত বিএনপির মান্দা উপজেলা কমিটির সম্মেলনে বিনা
প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মান্দা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন এবং
সুনাম ও নিষ্ঠার সাথে তার উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৪ সালে তিনি
নওগাঁ জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। একই সাথে
ডক্টরস এ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ ড্যাব এর সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব
পালন করেন।
১৭তম বিসিএস ক্যাডারের চিকিৎসক ইকরামুল বারী টিপু সরকারী চাকুরী
করাকালিন সময়েই মান্দা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন
করতে গিয়ে তৎকালিন আওয়ামীলীগ সরকারের দ্বারা বার বার নির্যাতিত হন। মান্দা
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক থাকাকালে তৎকালিন সরকারের রোষানলে পড়েন
এবং সরকারী চাকুরী ছেড়ে দিয়ে বিএনপির সার্বক্ষনিক কর্মী হিসেবে তার
জীবন নতুন করে শুরু করেন।
ডাঃ ইকরামুল বারী টিপু আওয়ামীলীগের শাসনামলে বিভিন্ন মিথ্যা মামলায়
অভিযুক্ত হন। এই মামলার বোঝা মাথাই নিয়ে ২০০৯ সালে অনুষ্ঠিত উপজেলা পরিষদ
নির্বাচনের বিএনপির প্রার্থী হিসেবে আওয়ামীলীগের প্রার্থীকে ২০ হাজার
ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে মান্দা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
নওগাঁর মান্দা উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নে ডাঃ ইকরামুল বারী টিপু দীর্ঘদিন ধরে
সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানের পৃষ্ঠপোষকতাসহ অংশগ্রহণ করে
আসছেন। এ ছাড়া গত ১০ বছরে সরকারের বিভিন্ন নির্যাতন, হামলা, মামলায়
নেতাকর্মীদের পাশে থেকেছেন তিনি।
নওগাঁ-৪ (মান্দা) আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী ডাঃ ইকরামুল বারী
টিপু বলেন, ‘দলের কেন্দ্রীয় নীতি নির্ধারকরা যদি আমাকে প্রার্থী হিসেবে
ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করার সুযোগ দেন তাহলে হারানো এ আসন আমি
পূনরুদ্ধার করতে পারব এবং দলীয় মনোনয়ন পেলে বিজয়ী হয়ে আসনটি দেশনেত্রী
খালেদা জিয়ার হাতে তুলে দিতে পারব ইনশা আল্লাহ।’
গত ১৩ নভেম্বর মঙ্গলবার নওগাঁর মান্দা উপজেলার বিপুল নেতাকর্মীকে সঙ্গে নিয়ে
ঢাকার নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মনোনয়ন ফরম উত্তোলন করেন এবং ১৪
নভেম্বর বুধবার জমা দেন ডাঃ ইকরামুল বারী টিপু। এ সময় মান্দা উপজেলা
বিএনপির সাবেক অর্থ সম্পাদক মোজাম্মেল হক মুকুল, উপজেলা তাতী দলের
সভাপতি নাজিম উদ্দিন, উপজেলা কৃষক দলের আহবায়ক আতিকুর রহমান টুলু,
বিএনপির নেতা মনসুর রহমান, আল মামুন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য প্রভাষক
এমদাদুল হক, জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক হেলাল উদ্দিন হিল্লোলসহ মান্দা উপজেলা
বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলসহ অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ তার সাথে উপস্থিত ছিলেন।