মনোনয়ন প্রত্যাশীদের রণেভঙ্গ রাজশাহী-১ আওয়ামী লীগের তৃণমূল ফারুকেই চাই

Thursday, November 15th, 2018


আলিফ হোসেন, তানোর প্রতিনিধি:
রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) ভিআইপি এই সংসদীয়
আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী এক শ্রেণীর বগী
নেতা একশ্রেণীর বিপদগামী, জনবিচ্ছিন্ন, বিতর্কিত ও
দলছুট কথিত নেতাকর্মী এবং আওয়ামী লীগবিরোধী
মতাদর্শী বহিরাগতদের নিয়ে এমপি ফারুকের মনোনয়ন
ঠেকানোর ঘোষণা দিয়ে রাজনীতির মাঠে নেমে তৃণমূলের
সাড়া পেতে ব্যর্থ হয়ে মনোনয়ন দৌড় থেকে ছিটকে পড়ে
রণেভঙ্গ দিয়ে রাজনীতির মাঠ থেকে অনেকটা নির্বাসিত বলে
গুঞ্জন বইছে। রাজশাহী-১ আসনের রাজনৈতিক মাঠে জামায়াত-
বিএনপির সঙ্গে টেক্কা দিয়ে বিজয়ী হবার মতো নেতৃত্ব
এমপি ফারুক ব্যতিত অন্যকারো নেই বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে
আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকগণ এখানে আবারো এমপি
ফারুকে দলীয় মনোনয়ন দেয়ার চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে তাকে
মাঠ গোছানোর নির্দেশ দিয়েছেন বলে একাধিক সূত্র
নিশ্চিত করেছে। অর এর মধ্য দিয়ে কথিত মনোনয়ন প্রত্যাশী
অনেকের রাজনৈতিক জীবনের অবসান হতে চলেছে, আবার
রাজ্য-রাজকন্যা (নেতৃত্ব) হারানোর আশঙ্কায় কারো কারো
চোখে-মূখে হতাশার চিত্র ফুটে উঠেছে। জনবিচ্ছিন্ন এসব
বগী নেতা গণমানুষের নেতা, আদর্শিক ও পরীক্ষিত নেতৃত্ব
এমপি ফারুকের বিরুদ্ধে একটি বলয় সৃষ্টির পরিকল্পনা করেও ব্যর্থ
হয়েছে বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা রয়েছে। সম্প্রতি
গোদাগাড়ী উপজেলার মোহনপুর ইউপির কাপাসিয়া এলাকায়
বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা মনোনয়ন প্রত্যাশী মতিউর রহমানের
গাড়ি ভাংচুর করায় বিষয়টি আবারো আলোচনায় উঠে
এসেছে। তৃণমূলের অভিযোগ, মনোনয়ন নিশ্চিত না হয়েও
মতিউর রহমান আওয়ামী লীগের সম্ভবনাময় গোছানো মাঠ
নস্ট, এমপি ফারুক বিরোধী বলয় সৃষ্টি করতে গিয়ে আওয়ামী
লীগের বিরোধীতা করে বক্তব্য দেয়ায় তৃলমূল বিক্ষুব্ধ হয়ে তার
গাড়ি ভাংচুর করে। এ ঘটনার পর অনেক মনোনয়ন প্রত্যাশী
মাঠ ছেড়ে উধাও বলে এলাকায় জনশ্র“তি রয়েছে। আর এতেই
প্রমাণ হয়েছে এখানে এমপি ফারুকের বিকল্প নেতৃত্ব নাই
নতুন কাউকে কোনো অবস্থাতেই তৃণমূল মেনেও নিবে না
বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আগামি একাদ্বশ জাতীয় সংসদ
নির্বাচনে জোট-মহাজোটের ভোটযুদ্ধে নিয়ে যখন
রাজশাহীর আসনগুলোতে চলছে প্রার্থীদের দৌড়-ঝাঁপ তখন
রাজশাহী-১ আসনে আবারো (সাবেক) শিল্প প্রতিমন্ত্রী ওমর
ফারুক চৌধূরীকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দেবার দাবি ও
তাকে সাম্ভব্য প্রার্থী বিবেচনা করেই মাঠে ঐক্যবদ্ধ হয়ে
কাজ করছেন তৃণমূলের নেতারা। রাজশাহী-১ আসন বিএনপি-
জামায়াতের আঁতুড় ঘর বলে পরিচিত হলেও এমপির ফারুকের
রাজনৈতিক দূরর্শীতায় সেই আঁতুড় ঘর তছনছ করে
আওয়ামী লীগের বসত ঘরে পরিণত করেছে। এখানে প্রায় কুড়ি
বছর ধরে সংগঠনকে তৃণমুল পর্যন্ত শক্তিশালী করতে এমপি
ফারুকের অবদানের পুরুস্কার হিসেবে আবারো তাকে আওয়ামী
লীগের প্রার্থী করা হয়েছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত
করেছে। আওয়ামী লীগের এই সিদ্ধান্ত ও তৃণমূলের
নেতাকর্মীদের অবস্থার কথা উপলব্ধি করতে পেরে একশ্রেণীর
মনোনয়ন প্রত্যাশী রণেভঙ্গ দিয়ে মাঠ ছেড়েছে। এ ব্যাপারে
তানোর উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের সভাপতি ও কলমা ইউপি
চেয়ারম্যান লুৎফর হায়দার রশিদ ময়না বলেন, স্থানীয় সাংসদ,
(সাবেক) শিল্প প্রতিমন্ত্রী ও রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের
সভাপতি ওমর ফারুক চৌধূরীর বিকল্প কোনো নেতৃত্ব এখনো
এখানে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে গড়ে উঠেনি। যারা তাঁর
বিরোধীতা করে মনোনয়ন প্রত্যাশী বলে প্রচার করছে তারা
আওয়ামী লীগে কেউ নই। তিনি বলেন, তানোর-গোদাগাড়ীর
আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য
ওমর ফারুক চৌধূরীকেই চেনেন। এখানে অন্য কোনো ব্যক্তির
কোনো অবস্থানই নেই। মাঠ পর্যায়ের নেতা ও কর্মী-
সমর্থকরা অন্য কারো অবস্থান কখানো কোনো অবস্থাতেই
মেনেও নেবে না। তিনি আরো বলেন, সাবেক শিল্প প্রতিমন্ত্রী
ওমর ফারুক চৌধূরী আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে
নির্বাচন করছে, এর কোনো বিকল্প শব্দ তানোর-গোদাগাড়ী
আওয়ামী লীগে নেই। তৃণমূলের নেতাকর্মীরা ইতোমধ্যেই ওমর
ফারুক চৌধূরীর পক্ষে নির্বাচনী মাঠে কাজ শুরু করে নৌকার
পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি করে মাঠের পুরো নিয়ন্ত্রণ নিজেদের
হাতে নিয়ে তারা ইতমধ্যে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি
গঠনের কাজ শুরু করেছেন।
জানা গেছে, আগামী একাদ্বশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের
তফসিল ঘোষণার আগেই ওমর ফারুক চৌধূরীকে আওয়ামী
লীগের প্রার্থী দরে নিয়েই তানোর-গোদাগাড়ী আওয়ামী
লীগের পক্ষে সব ধরণের প্র¯ত্ততি সম্পন্ন করা হয়েছে। এ
ব্যাপারে গোদাগাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল
একাধিক জৈষ্ঠ নেতা বলেন, সম্প্রতি বিভিন্ন জায়গায়
(সাবেক) ডিআইজি মতিউর রহমানের পোষ্টার চোখে পড়ছে।
তবে মতিউর রহমান নামের ওই ব্যক্তির সঙ্গে সাধারণ মানুষ তো
দুরে থাক দলের সিংহভাগ নেতাকর্মীর কোনো সম্পর্ক গড়ে
উঠেনি নেতাকর্মীরাই তাকে চেনেন না। তারা বলেন, এখানে
ওমর ফারুক চৌধূরীর কোনো বিকল্প নেই। এ ব্যাপারে
কাঁকনহাট পৌর মেয়র আব্দুল মজিদ মন্ডল বলেন, নির্বাচনের
মাঠে অনেক মৌসুমি নেতা দেখা যায়। এবারও তার ব্যতিক্রম
নেই। তিনি বলেন, এখানে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ওমর
ফারুক চৌধূরীই শেষ কথা। এ ব্যাপারে রাজশাহী জেলা আওয়ামী
লীগের ত্রাণ ও পূর্ণবাসন বিষয়ক সম্পাদক শরীফ খাঁন ক্ষুব্ধ
প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, এসব আউল-ফাঊলদের কথায় কান
দিয়ে সময় নস্ট ব্যতিত কিছু নই, তিনি বলেন, এমপি ফারুক
চৌধূরী ছিল, আছে এবং তিনিই আওয়ামী লীগের প্রার্থী
এটাই শেষ কথা। তিনি আরো বলেন, রাজশাহী-১ আসনে ওমর
ফারুক চৌধূরীর কোনো বিকল্প নেই ব্যক্তি হিসেবে ওমর ফারুক
চৌধূরী কোনো অনিয়ম-দূর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, ক্ষমতার
অপব্যবহারকে প্রশ্রয় দেননি সরকারি পলিটেকনিক
ইন্সটিটিউট নির্মাণে কয়েক কোটি টাকা মূল্যর তার
ব্যক্তিগত সম্পতি দান, এমপির সম্মানি ভাতা না দিয়ে দলের
দরিদ্র নেতাকর্মীদের মধ্যে বিতরণ এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়ের
নৈশপ্রহরী থেকে পুলিশ সদস্য, পুলিশের এএসআই, এসআই,
এএসপি, জেলা জজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারী বিনা
টাকায় নিয়োগ দিয়ে তিনি ইতমধ্যে তার সততার পরিচয়
দিয়েছেন। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে তানোর এবং গোদাগাড়ী
উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের সকল
নেতাকর্মী ঐক্যবদ্ধভাবে ওমর ফারুক চৌধূরীকে আবারো দলীয়
মনোনয়ন দিতে দলের হাইকমান্ডের কাছে লিখিতভাবে
সুপারিশও করেছেন। এব্যাপারে একাধিকার যোগাযোগের
চেস্টা করা হলেও মনোনয়ন প্রত্যাশী কারো কোনো বক্তব্য পাওয়া
যায়নি। #