ফুটবলে চাই পরিচর্যা ও পেশাগত সুরক্ষা

Tuesday, November 6th, 2018
সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জিতিয়াছে বাংলাদেশ। এই টুর্নামেন্টে ইহা বাংলাদেশের দ্বিতীয় শিরোপা। ২০১৫ সালে প্রথম শিরোপা জিতিবার সময় অবশ্য টুর্নামেন্টটি অনূর্ধ্ব-১৬ বত্সর বয়সীদের লইয়া অনুষ্ঠিত হইয়াছিল। এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ চ্যাম্পিয়নশিপের সঙ্গে সঙ্গতি রাখিবার জন্য ২০১৭ সাল হইতে টুর্নামেন্টটি অনূর্ধ্ব-১৫ বত্সর বয়সীদের লইয়া অনুষ্ঠিত হইতেছে। বাংলাদেশের দলটি সেমিফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারে জিতিয়া ফাইনালে উঠে। নেপালে অনুষ্ঠিত শনিবারের ফাইনালে নির্ধারিত সময়ের খেলা ১-১ সমতায় শেষের পর, পুনরায় টাইব্রেকারে ৩-২ গোলের জয়ে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয় বাংলাদেশ। সেমিফাইনালের ন্যায় ফাইনালেও গোলরক্ষক মেহেদী হাসানের নৈপুণ্যে টাইব্রেকার উত্রাইয়া চ্যাম্পিয়ন হয় বাংলাদেশ। শিরোপার সহিত ফেয়ার প্লে অ্যাওয়ার্ডও জিতিয়াছে বাংলাদেশ। প্রতিযোগিতায় সর্বোচ্চ গোলদাতাও (৪টি) হইয়াছেন বাংলাদেশের নিহাদ। দেশের জন্য গৌরব বহিয়া আনিবার জন্য বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৫ দলকে জানাই অভিনন্দন।

 

ক্রিকেটে উত্তরোত্তর সাফল্যের পাশাপাশি একসময়ের সবচাইতে জনপ্রিয় ক্রীড়া ফুটবল যেন ম্রিয়মাণ হইয়া পড়িয়াছে। জাতীয় ফুটবল দলের র্যাংকিং পিছাইতে পিছাইতে দক্ষিণ এশিয়ার দলগুলির মধ্যেও তলানিতে গিয়া পৌঁছাইয়াছে। কিন্তু সামপ্রতিক সময়ে বয়সভিত্তিক টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের ছেলেরা ভালো ফল বহিয়া আনিতেছে, যদিও ছেলেদের তুলনায় মেয়েদের সাফল্যের হার অধিক। সমপ্রতি অনুষ্ঠিত এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের ছেলেদের তরুণ একটি দল (অনূর্ধ্ব ২৩) ইতিহাসে প্রথম বারের মতো দ্বিতীয় রাউন্ডে উত্তীর্ণ হয়। কাতারের মতো দলকে হারাইয়া ও থাইল্যান্ডের সঙ্গে ড্র করিয়া তাহারা দৃষ্টান্ত স্থাপন করিয়াছে। অনূর্ধ্ব ১৫ দলের সাফল্য, পুনরায় দেশবাসীকে স্বপ্ন দেখিতে উদ্বুদ্ধ করিয়াছে। কিন্তু স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে হইলে প্রয়োজন যথাযথ পরিকল্পনা, উদ্যোগ ও পরিচর্যা। এই তরুণ দলটিকে লইয়া দীর্ঘমেয়াদী নিরবচ্ছিন্ন পরিচর্যায় রাখিতে হইবে। একটি-দুইটি চমকের মধ্যে যেন সাফল্যের স্রোত হারাইয়া না যায়, ফেডারেশনের ব্যবস্থাপকদের সেই দিকটিতে বিশেষভাবে নজর দিতে হইবে। ব্যর্থতার চোরাগলি হইতে দল যেহেতু একবার বাহির হইয়াছে, তাহাকে আর ফেরত্ পাঠানো ঠিক হইবে না। অনূর্ধ্ব-১৬ দলটি যেইবার চ্যাম্পিয়ন হইয়াছিল, সেইবার স্বাগতিক দেশ হিসাবে চ্যাম্পিয়ন হইয়াছিল। আর এইবার বিদেশে গিয়া চ্যাম্পিয়ন হইয়াছে। এই দলটিকেই যদি নিরবচ্ছিন্ন নিবিড় পরিচর্যায় রাখা যায় তাহা হইলে ভবিষ্যতে বড়দের দলেও তাহারা ভালো করিতে পারিবে।

 

কিন্তু এই পরিচর্যার বিষয়টি যে ঠিকমতো হইতেছে, তাহা বলা যাইবে না। গতবারের অনূর্ধ্ব-১৬ দলের সাফল্যের পর ধানমন্ডির শেখ জামাল ক্লাব সংবর্ধনা দিয়াছিল। আর বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন কেবল তাহাদের একটি করিয়া ব্লেজার উপহার দিয়াছিল। সেই দলের খেলোয়াড়দের অনেকেই আর খেলায় যুক্ত নাই, নানান পেশায় ছড়াইয়া পড়িয়াছেন। ইহার অর্থ ফুটবলে যথেষ্ট পেশাগত সুরক্ষা নাই। এইরূপ হইলে মেধাবী ও পরিশ্রমী খেলোয়াড়েরা বিকশিত হইবে না। তাইতো বয়সভিত্তিক খেলায় ভালো করিলেও বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাফল্য তেমন নাই। নেপাল হইতে ফিরিয়া বিজয়ী দলের কোচ মোস্তফা আনোয়ার পারভেজ বিমানবন্দরে এই ছেলেদের সাফল্যের ধারা অব্যাহত রাখিতে দীর্ঘমেয়াদী প্রশিক্ষণের গুরুত্ব তুলিয়া ধরিয়াছেন। তিনি দাবি করিয়াছেন, এই ছেলেগুলি যেন হারাইয়া না যায়। সম্ভাবনাকে চূড়ান্ত সাফল্যের দিকে লইয়া যাইবার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ কি লইতে সক্ষম হইবে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন?