সাইবার অপরাধে সচেতনতার বিকল্প নাই

Thursday, November 1st, 2018

ইন্টারনেটের ভার্চুয়াল জগত কল্পতরুর মতোন। সেই মায়ামুগ্ধ জগতে সময় কাটাইবার প্রবণতা বৃদ্ধি পাইতেছে বিশ্বব্যাপী। বাংলাদেশও ইহার বাহিরে নহে। একটি জগতে সব ধরনের মানুষের আগাগোনা থাকিবে কিন্তু অপরাধ থাকিবে না—তাহা তো হইতে পারে না। সুতরাং সাইবার ওয়ার্ল্ড তথা ইন্টারনেটের ভার্চুয়াল জগতেও বিভিন্ন ধরনের অপরাধের ঘটনা বৃদ্ধি পাইতেছে ব্যাপকহারে। একটি পরিসংখ্যান হইতে জানা যায়, বর্তমানে দেশে পৌনে ৭ কোটি ইন্টারনেট গ্রাহকের মধ্যে ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা আড়াই কোটির কাছাকাছি। এই বিপুল সংখ্যক মানুষ যখন সাইবার জগতে বিচরণ করেন, তখন অপরাধীরাও জাল পাতেন শিকার ধরিতে।

ইন্টারনেটের ভার্চুয়াল জগতের যেকোনো ধরনের অপরাধের জন্য বিভিন্ন মাত্রায় শাস্তির বিধান রহিয়াছে। তবে সমপ্রতি আইন ও সালিস কেন্দ্রের (আসক) একটি গবেষণায় জানা গিয়াছে যে, বাংলাদেশে সাইবার অপরাধের শিকার হইয়া আইনি পদক্ষেপ নেওয়াদের ৫৪ শতাংশই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকায় সন্তুষ্ট নহেন। এই গবেষণায় বলা হইয়াছে যে, ২০১১ সাল হইতে ২০১৮ সালের আগস্ট অবধি ৬৮ জন শিশু অনলাইনে নির্যাতনের শিকার হইয়াছে। এইসব ঘটনায় অভিযোগ করা মাত্র ৭ শতাংশ ভিকটিম আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকায় সন্তোষ প্রকাশ করিয়াছেন। আর ৪৪ শতাংশ ভিকটিম মনে করেন—দোষীদের বিচারের আওতায় আনা গেলে অনলাইনে যৌন হয়রানির সংখ্যা অনেকটাই কমিয়া যাইবে। তাহা ছাড়া, ২৩ শতাংশ ভিকটিম আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার পরও ব্যাপারটা প্রকাশ করেন না হয়রানির ভয়ে। ১৭ শতাংশ ভিকটিম লোকলজ্জার ভয়ে পুরো ব্যাপারটিই প্রকাশ করা কিংবা অভিযোগ করিতে অনিচ্ছুক থাকেন। স্থানীয় প্রভাবশালীদের ভয়ে নীরব থাকে ৫ শতাংশ ভিকটিম। অন্যদিকে ৩০ শতাংশই জানেন না অনলাইনে যৌন হয়রানির শিকার হইলে কোথায় এবং কীভাবে আইনি পদক্ষেপ লইতে হইবে।

তবে এই সমস্যা কেবল বাংলাদেশের নহে, সারা বিশ্বের। কিছুদিন পূর্বে যুক্তরাজ্যের একটি প্রতিষ্ঠানের গবেষণায় দেখা গিয়াছে, দেশটির মোট সাইবার অপরাধের মাত্র ২ শতাংশ ভিকটিম পুলিশের নিকট আসেন। তাহা ছাড়া, শতকরা মাত্র একজন ভিকটিম তাহার ঘটনা পুলিশকে জানান। যুক্তরাজ্যের সাইবার নিরাপত্তা পরামর্শক প্রতিষ্ঠান প্রাইস ওয়াটারহাউজ কুপার্স (পিডব্লিউসি)-এর তথ্য অনুযায়ী, অতীতে সেইখানে সাইবার অপরাধের শিকার হইবার হার ছিল ৬৯ শতাংশ। বর্তমান অবস্থাও উহার উনিশ-বিশ। দেখা যাইতেছে, সারা বিশ্বই সাইবার অপরাধের সমস্যায় জর্জরিত। প্রকৃতপক্ষে, ভার্চুয়াল জগতের বিকাশ ঘটিতেছে যেই গতিতে, তাহার সহিত তাল মিলাইয়া সিংহভাগ মানুষই সতর্কতার সহিত পদক্ষেপ ফেলিবার নিয়মকানুনে অভ্যস্ত হইয়া উঠিতে পারিতেছে না। সেই সুযোগে নানা ছদ্মবেশে অপরাধ করিবার প্রবণতাও বৃদ্ধি পাইতেছে অনেক বেশি।

সাইবার অপরাধীদের ধরিতে কেবল আধুনিক প্রযুক্তি থাকিলেই হইবে না, তাহার সঠিক ব্যবহার ও আইনের যথার্থ প্রয়োগ করিবার মতো প্রশিক্ষিত দক্ষ জনবলও প্রয়োজন। ডিজিটাল হইবার পথে বাংলাদেশ জোর কদমে অগ্রসর হইতেছে বিধায় এই জগত বিকশিত করিবার পাশাপাশি ইহার সকল ধরনের সুরক্ষার দিকটিও সমান গুরুত্ব দিয়া গড়িয়া তুলিতে হইবে।