১৫ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ১লা অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, হেমন্তকাল

প্রকাশিতঃ জানুয়ারি ২৭, ২০১৮, ১১:০০ পূর্বাহ্ণ


বাংলাদেশ রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের অফিসার্স কলোনির অর্ধশতাধিক গাছ কোনো দরপত্র ছাড়াই কেটে নেওয়া হয়েছে। কেটে নেওয়া বেশ কিছু গাছের গোড়া এখনো রয়ে গেছে। আলামত গোপন করার জন্য ইতিমধ্যে কিছু গাছের গোড়া তুলেও ফেলা হয়েছে। গাছ কেটে নেওয়ার পর কয়েকটি গাছের গোড়ায় আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে।

কর্তৃপক্ষ বলছে, অফিসার্স কলোনির ভেতরের সংস্কারের জন্য মাত্র তিন-চারটি গাছ কাটা হয়েছে। সেই গাছগুলো কলোনির ভেতরেই রাখা হয়েছে। দরপত্রের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। কিন্তু ভেতরে গিয়ে দরপত্রের মাধ্যমে বিক্রি করার মতো তেমন কোনো কাটা গাছ পাওয়া যায়নি। ভেতরের কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কাটা সব গাছ ইতিমধ্যে সরিয়ে ফেলা হয়েছে।
রাজশাহী নগরের শ্রীরামপুর এলাকায় রেলওয়ের এই অফিসার্স কলোনি বেশ কয়েক বছর র‍্যাবের ক্যাম্প হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। এক বছরের বেশি সময় আগে র‍্যাব তাদের নিজস্ব ক্যাম্পাসে চলে যায়। তারপর থেকে এই কলোনিতে রেলওয়ের কর্মকর্তারা থাকেন। রেলওয়ের সহকারী প্রকৌশলী নাজীব কায়সার গাছের তত্ত্বাবধানের দায়িত্বে রয়েছেন। এই কলোনির গেটে লেখা রয়েছে, বিনা অনুমতিতে প্রবেশ নিষেধ। ভেতরের গাছের অবস্থা দেখার জন্য সহকারী প্রকৌশলী নাজীব কায়সারের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, সংস্কারের জন্য তিন-চারটা গাছ কাটা হয়েছে। বাইরে থেকে অনেক বেশি গাছ কাটার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে, এ কথা শুনে তিনি বলেন, মানুষ তো বলার সময় ওই রকম বাড়িয়েই বলে। চারটার কথা শুনলে তারা ৪০টার কথা বলে। তিনি বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশেই গাছগুলো কাটা হয়েছে। কাটার জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, কাটা গাছ ভেতরেই রয়েছে। দরপত্র আহ্বানের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।
কলোনির ভেতরের এলাকা ঘুরে দেখা যায়, একটি চারা কাঁঠালগাছ, আমগাছের কিছু ডাল, মরা পাতা ও একটি শিমুলগাছের গুঁড়ি পড়ে রয়েছে। তখন শিমুলগাছের গুঁড়িটা কেটে দুভাগ করা হচ্ছিল। সাংবাদিকদের ভেতরে ঢুকতে দেখে যে শ্রমিক শিমুলগাছের গুঁড়িটা কাটছিলেন, তিনি চলে যান। এগুলো দরপত্র আহ্বান করে বিক্রি করার মতো কোনো কাঠের গাছ নয়।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে কেটে নেওয়া গাছের গোড়া পাওয়া গেল। কলোনির ভেতরে ৫৫টি গাছ কেটে নেওয়ার চিহ্ন রয়েছে। এর মধ্যে কোনো গাছের গোড়া অবিকল রয়েছে। কোনোটির গোড়া মাটি খুঁড়ে তুলে ফেলা হয়েছে। তবে তার পাশেই মোটা শিকড় রয়েছে। আবার কোনো গাছ কেটে নেওয়ার পর গোড়ায় আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে, যাতে বোঝা না যায় যে সেখান থেকে গাছ কেটে নেওয়া হয়েছে। কলোনির ভেতরে যেসব কর্মচারী রয়েছেন, তাঁদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গাছগুলো প্রায় ছয় মাসের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে কাটা হয়েছে।
এই গাছগুলোর মধ্যে বেশির ভাগই মেহগনি। এ ছাড়া রয়েছে কয়েকটি নারকেল, পেয়ারা ও আমগাছ। সাম্প্রতিক সময়ে কাটা এই গাছগুলো ছাড়া কলোনির ভেতরে আরও ১৮টি পুরোনো গাছের গোড়া দেখা গেছে। কলোনির ভেতর থেকে বের হওয়ার পর রেলওয়ের সহকারী প্রকৌশলী নাজীব কায়সারের মুঠোফোনে বারবার চেষ্টা করা হলেও তিনি আর ফোন ধরেননি। রেলওয়ের প্রধান প্রকৌশলী রমজান আলীর মুঠোফোনে চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন কেটে দেন।
গাছ কাটার জন্য রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বন বিভাগের কোনো অনুমতি নিয়েছে কি না, জানতে চাইলে রাজশাহী বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এস এম সাজ্জাদ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে রেলওয়ে গাছ কাটার জন্য তাঁদের কাছ থেকে অনুমতি নিয়েছে বলে তাঁর মনে পড়ছে না। তিনি বলেন, সরকারি সম্পত্তির গাছ কাটতে হলে অবশ্যই বন বিভাগের অনুমতি নিতে হবে। সাধারণত উন্নয়নমূলক কোনো কর্মকাণ্ডের ব্যাপার না থাকলে বন বিভাগ থেকে তাজা গাছ কাটার অনুমতি দেওয়া হয় না।

Leave a Reply

এই বিভাগের আরো খবর

৯৭/৩/খ, উত্তর বিশিল, মিরপুর-১, ঢাকা-১২১৬
মোবাইলঃ ০১৭১২-৬৪৩৬৭৩, বার্তা বিভাগঃ ০১৭১২-৬৪৪৩৫০, সার্কুলেশন বিভাগঃ০১৯১৬০৯৯০২০
ইমেইলঃ [email protected], [email protected]

সম্পাদক:
মোঃ সুলতান চিশতী

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ
মহসিন হাসান খান (বুলবুল)

নির্বাহী সম্পাদকঃ
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন

সহকারী সম্পাদকঃ
মোঃ আতোয়ার হোসেন

আইন উপদেষ্টাঃ
শাহিন সরকার


.: Developed By :.
Great IT