১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, শরৎকাল

৩ হাজার ৫৯৮ কোটি ৭৫ লাখ টাকার বাজেট ঘোষণা

প্রকাশিতঃ জুলাই ২৬, ২০১৮, ১১:৫৩ পূর্বাহ্ণ


ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জন্য ৩ হাজার ৫৯৮ কোটি ৭৫ লাখ টাকার বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। এবারের বাজেট গত অর্থবছরের চেয়ে ২৬১ কোটি ৮ লাখ টাকা বেশি। তবে নতুন এ বাজেটে কর (হোল্ডিং, পরিচ্ছন্ন, লাইটিং) বাড়ানো হয়নি, বরং কমেছে।

বুধবার দুপুরে নগর ভবনে বাজেট ঘোষণা করেন ডিএসসিসির মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন। একই সঙ্গে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের ২ হাজার ১৪ কোটি ৩১ লাখ টাকার সংশোধিত বাজেট অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। গত অর্থবছরে বাজেট ছিল ৩ হাজার ৩৩৭ কোটি ৬৭ লাখ টাকার।

এবার প্রস্তাবিত বাজেটে উন্নয়ন ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৮৬০ কোটি ২৩ লাখ টাকা, যা এবারের বাজেটের ৮০ শতাংশ। এ ছাড়া মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে এবার ২৬ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। গত বছর এ খাতে ব্যয় ধরা হয়েছিল ২৫ কোটি ৬০ লাখ টাকা। তবে সংশোধিত বাজেটে ১৩ কোটি ৯০ লাখ টাকা দেখানো হয়েছে। এ ছাড়া চলতি অর্ধবছরে প্রস্তাবিত বাজেটে কর (হোল্ডিং, পরিচ্ছন্ন, লাইটিং) ধরা হয়েছে ৩৩০ কোটি টাকা। এবারের কর গত অর্থবছরের তুলনায় ১৮৫ কোটি টাকা কম। গতবার কর ধরা হয়েছিল ৫১৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে আদায় করা হয়েছিল ১৮০ কোটি টাকা। কর কম ধরার কারণ সম্পর্কে সংবাদ সম্মেলনে ডিএসসিসি মেয়র কোনো ব্যাখ্যা দেননি।

এবার বাজেটে কবরস্থান ও শ্মশানঘাট খাতে কোনো রাজস্ব আয় ধরা হয়নি। গত অর্থবছরে ৭০ লাখ টাকা আয় ধরা হয়েছিল। এ বিষয়ে সাঈদ খোকন বলেন, ‘আগামী ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছি। শহরের ধনী-গরিব সবার জন্য বিনা মূল্যে করপোরেশনের কবরস্থানে দাফন ও শ্মশানঘাট শেষকৃত্যানুষ্ঠানসহ আনুষঙ্গিক ব্যবস্থা করা হয়েছে।’

রাজস্ব আয়: চলতি অর্থবছরে প্রস্তাবিত বাজেটে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৯০৯ কোটি ৪২ লাখ টাকা। এই আয় গত বছরের তুলনায় ১৫৯ কোটি ৩৬ লাখ টাকা কম। এবার নিজস্ব আয়ের অন্যতম বড় খাত ধরা হয়েছে বাজার সালামি, ৩০৫ কোটি টাকা। তবে বাজার সালামি গত বছরের তুলনায় ৮ কোটি টাকা কম।

গত বছর বাজার ভাড়া আদায় করা হয়েছিল ৩০ কোটি টাকা। এবারের বাজেটেও সমপরিমাণ টাকা আয় ধরা হয়েছে। ট্রেড লাইসেন্স বাবদ আয় ধরা হয়েছে ৮০ কোটি টাকা। গত বছরে তা ধরা হয়েছিল ৭০ কোটি টাকা। বিজ্ঞাপন কর (সিনেমা) ধরা হয়েছে পাঁচ কোটি টাকা। বাস বা ট্রাক টার্মিনাল খাতে আয় ধরা হয়েছে ৩ কোটি ৪৭ লাখ টাকা।

এ ছাড়া ঈদুল আজহা উপলক্ষে অস্থায়ী পশুর হাট বরাদ্দ বাবদ আয় ধরা হয়েছে ৮ কোটি ৫০ লাখ। ইজারা (টয়লেট, ঘাট, কাঁচাবাজার) ১ কোটি ৩১ লাখ। জবাইখানা ইজারা বাবদ ১০ লাখ। আয়ের মধ্যে আরও আছে রাস্তা খনন ফি ২০ কোটি, যন্ত্রপাতি ভাড়া ৫ কোটি, শিশুপার্ক ৫ কোটি, বিভিন্ন ফরম বিক্রি ২ কোটি, কমিউনিটি সেন্টার ভাড়া ২ কোটি ৫০ লাখ, সম্পত্তি হস্তান্তর কর ১০০ কোটি এবং পেট্রলপাম্পে ২০ কোটি টাকা।

এ ছাড়া সরকারি মঞ্জুরি (থোক) খাতে ৭০ কোটি ও সরকারি বিশেষ মঞ্জুরি (থোক) বাবদ ৪৩৯ কোটি টাকা এবং সরকারি ও বৈদেশিক সহায়তামূলক প্রকল্প খাতে ২ হাজার ৪৮ কোটি ৬২ লাখ টাকা আয়ের খাতে ধরা হয়েছে। এসব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা চলতি অর্থবছরে বাস্তবায়িত হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন মেয়র।

ব্যয়: ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটে অন্যতম বড় ব্যয়ের খাত ধরা হয়েছে কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ইত্যাদি বাবদ ৩৪০ কোটি টাকা। বিদ্যুৎ, জ্বালানি, পানি ও গ্যাস বাবদ ১০৯ কোটি, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণে ২৭ কোটি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ১০ কোটি ৭০ লাখ, বিজ্ঞাপন ও প্রচারণায় ৬ কোটি ৫০ লাখ টাকাসহ বিভিন্ন খাতে ওই বাজেটের খরচের খাত নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাজেট ঘোষণা অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে ডিএসসিসির মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তিন বছরের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরেন সাঈদ খোকন। তিনি বলেন, ‘আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর গত তিন বছরে করপোরেশনের সবার চেষ্টায় সার্বিক উন্নতি হয়েছে। বিশেষ করে রাস্তা, ফুটপাত, নর্দমা সংস্কার ও মেরামত, এলইডি বাতি সংযোজন, পাবলিক টয়লেট, মাঠ, কমিউনিটি সেন্টার, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা ও যানজট নিরসনে ডিএসসিসির সার্বিক কর্মকাণ্ডে গতিশীলতা এসেছে।’

বাজেট ঘোষণার সময় ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী খান মোহাম্মদ বিলালসহ সংস্থাটির বিভিন্ন দপ্তরের প্রধান ও ৫৭টি ওয়ার্ডের কাউন্সিলররা উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

৯৭/৩/খ, উত্তর বিশিল, মিরপুর-১, ঢাকা-১২১৬
মোবাইলঃ ০১৭১২-৬৪৩৬৭৩, বার্তা বিভাগঃ ০১৭১২-৬৪৪৩৫০
ইমেইলঃ [email protected], [email protected]

সম্পাদক:
মোঃ সুলতান চিশতী

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ
মহসিন হাসান খান (বুলবুল)

নির্বাহী সম্পাদকঃ
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন

সহকারী সম্পাদকঃ
মোঃ আতোয়ার হোসেন

আইন উপদেষ্টাঃ
শাহিন সরকার


.: Developed By :.
Great IT