১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, শরৎকাল

২৫ বছরে বাড়িভাড়া বেড়েছে ৪ থেকে ৭ গুণ

প্রকাশিতঃ মে ২৭, ২০১৮, ১১:৫৩ পূর্বাহ্ণ


মোহাম্মদপুর শেখেরটেক তিন নম্বর সড়কের বাসিন্দা আসিফ মাহমুদ। ২০০৫ সালে পরিবার নিয়ে তিনি ঢাকার এই এলাকায় বসবাস শুরু করেন। যে বাসায় এসে উঠেছিলেন, সেই বাসায় তখন ভাড়া ছিল চার হাজার টাকা। ১৩ বছর ধরে তিনি সেই বাসাতেই ভাড়া আছেন। এখন বাসাভাড়া দেন ১৮ হাজার টাকা। আসিফ মাহমুদ বলেন, প্রায় প্রতিবছরই ভাড়া বেড়েছে। বাড়িওয়ালা নানা কারণ দেখিয়ে বাসাভাড়া বাড়িয়েছেন। পরিবার নিয়ে এই বাসায় ওঠার কারণে আর বাসা বদল করা হয়নি।

প্রতিবছর কেবল মোহাম্মদপুর এলাকার বাসাভাড়াই বাড়েনি; ঢাকা শহরের সব এলাকার বাসাভাড়াই দিন দিন বেড়ে চলছে। বাসাভাড়া বাড়ানোর বিষয়ে বাড়িওয়ালারা নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, গৃহঋণের সুদ, রক্ষণাবেক্ষণ খরচ বৃদ্ধিসহ নানা যুক্তি দেখান। কেউ বাসাভাড়া বাড়ান বছরের প্রথমে; আবার কেউ বা মাঝামাঝি সময়ে।

মিরপুর এলাকার বাসিন্দা শরিফুল ইসলাম একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। পাঁচ বছর আগে তিনি যে বাসায় এসেছিলেন, তখন সব মিলে সেই বাসার ভাড়া ছিল ১২ হাজার টাকা। কিন্তু কয়েক বছর ঘুরতেই এখন ভাড়া দিতে হচ্ছে ১৭ হাজার টাকা। পরিবারের সদস্যদের চাহিদা মিটিয়ে ও দৈনন্দিন খরচ করার পর প্রতি মাসে তাঁর হাতে কোনো টাকাই থাকে না। শরিফুল বলেন, ‘বাসাভাড়া দিতেই সব টাকা চলে যায়। যখন বেতন হয়, তখন মনে হয় এই টাকা যেন আমার নয়। অর্ধেকের বেশি বাড়ি ওয়ালাকে দিতে হয়। অন্যান্য খরচ করার পর হাতে আর টাকাই থাকে না। একবার মনে হয় গ্রামে ফিরে যাই। সেখানে কিছু করি। কিন্তু চাইলেই যাওয়া যায় না।’

বাসাভাড়া বাড়ছেই
রাজধানীর সব এলাকাতেই বাসাভাড়া বাড়ছে। নগরের মিরপুর, মোহাম্মদপুর, কল্যাণপুর, কাঁঠালবাগান, গ্রিন রোড, ধানমন্ডি, রামপুরা, সেগুনবাগিচা, বংশাল, গুলশান, বনানী, উত্তরা, আগারগাঁও, শ্যামলী, মগবাজার, মালিবাগসহ বিভিন্ন এলাকার ৩০ জন ভাড়াটের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিবছরই বাড়ির মালিক ভাড়া বাড়ান। গত ২৫ বছরে রাজধানীতে বাড়িভাড়া বেড়েছে প্রায় ৪০০ শতাংশ। অথচ একই সময়ে নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে ২০০ শতাংশ। অর্থাৎ নিত্যপণ্যের দামের তুলনায় বাড়িভাড়া বৃদ্ধির হার প্রায় দ্বিগুণ। বাড়িভাড়া ও নিত্যপণ্যের দামের এই হিসাব ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণবিষয়ক সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব)।

ক্যাবের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীতে ১৯৯০ সালে পাকা ভবনে দুই কক্ষের একটি বাসার ভাড়া ছিল ২ হাজার ৯৪২ টাকা। ২০১৫ সালে সেই ভাড়া দাঁড়িয়েছে ১৮ হাজার ১৫০ টাকা। গত বছর এই ভাড়া এসে ঠেকেছে ২১ হাজার ৩৪০ টাকায়। ২০০৬ সাল থেকে গত ১০ বছরে ভাড়া বেড়েছে সবচেয়ে বেশি। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুসারে ২০০০-২০১০ সাল পর্যন্ত দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশে নগরায়ণের গতি ছিল বেশি। এ ছাড়া ২০১০ সালে ৪৫ দশমিক ৭ শতাংশ লোক শহরে বসবাস করে। বাড়িভাড়া বাড়ার আরও একটি কারণ হচ্ছে লোকজন নানা কারণে ঢাকামুখী। যে কারণে চাহিদা এ জোগানের মধ্যে কোনো সামঞ্জস্য নেই। নতুন ফ্ল্যাটে গ্যাস বা বিদ্যুৎ নেই। ফলে পুরোনো বাড়িগুলোতেই ওঠে মানুষ। রিহাবের তথ্য অনুসারে এখন ঢাকায় প্রায় ১৫ হাজার ফ্ল্যাট ফাঁকা পড়ে আছে।

ক্যাবের সভাপতি ও দুর্নীতি দমন কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম রহমান প্রথম আলোকে বলেন, বাসাভাড়া বৃদ্ধি একটি অসহনীয় পর্যায়ে চলে গেছে। এটি নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, বিভিন্ন এলাকায় সবচেয়ে বেশি বাড়িভাড়া বেড়েছে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষের। যেসব এলাকায় এই শ্রেণির মানুষ বসবাস করে, সেসব এলাকায় বাসার চাহিদাও বেশি, তাই এখানে বাসাভাড়া বেশি বাড়ে।

গুলশান বা বনানী এলাকার বাড়িভাড়া ততটা বাড়েনি। এই এলাকাগুলোয় নতুন নতুন বাড়ি হচ্ছে বলেই বাড়িভাড়া সে অনুপাতে বাড়েনি। রাজধানীতে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষের বসবাসের জন্য সরকারি পর্যায়ে আবাসন সৃষ্টি করলে বাসাভাড়া নিয়ন্ত্রণ করা যাবে বলে মনে করেন তিনি। এ ছাড়া ঢাকায় মানুষ আসা নিয়ন্ত্রণের কথা বললেন তিনি।

Leave a Reply

৯৭/৩/খ, উত্তর বিশিল, মিরপুর-১, ঢাকা-১২১৬
মোবাইলঃ ০১৭১২-৬৪৩৬৭৩, বার্তা বিভাগঃ ০১৭১২-৬৪৪৩৫০
ইমেইলঃ [email protected], [email protected]

সম্পাদক:
মোঃ সুলতান চিশতী

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ
মহসিন হাসান খান (বুলবুল)

নির্বাহী সম্পাদকঃ
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন

সহকারী সম্পাদকঃ
মোঃ আতোয়ার হোসেন

আইন উপদেষ্টাঃ
শাহিন সরকার


.: Developed By :.
Great IT