২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ১০ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, শরৎকাল

হানিফ কীভাবে আসামি?

প্রকাশিতঃ জানুয়ারি ৩, ২০১৮, ১১:৫৯ পূর্বাহ্ণ


মামলার এজাহারে নাম নেই। কোনো সাক্ষীর ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬১ ধারার জবানবন্দিতে নাম আসেনি। অধিকতর তদন্তের সময় কেবল মুফতি আবদুল হান্নান নতুন একটি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে চারটি বাক্যে হানিফের নাম উল্লেখ করেন। তার ভিত্তিতেই হানিফ পরিবহনের মালিক মো. হানিফকে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার আসামি করা হয়েছে।

এই মামলায় পলাতক আসামিদের পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে মো. হানিফের পক্ষে রাষ্ট্রের নিয়োজিত আইনজীবী চৈতন্য চন্দ্র হালদার এসব তথ্য তুলে ধরেন এবং তাঁর মক্কেলকে আসামি করার যৌক্তিকতা সম্পর্কে আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। গতকাল মঙ্গলবার আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু হয়।

উপস্থাপনার শুরুতে চৈতন্য চন্দ্র হালদার বলেন, ‘আমি এত বড় মাপের আইনজীবী না যে এই মামলায় আসামিপক্ষে শুনানি করতে পারি। তারপরও রেজাউর রহমান স্যার (রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান আইনজীবী) একজন পলাতক আসামির পক্ষে আমাকে নিয়োগ দিয়েছেন। ওনার সুপারিশেই আমি নিযুক্ত হয়েছি।’ তাঁর এই কথায় আদালতে উপস্থিত থাকা আসামিদের মধ্যে গুঞ্জন ওঠে। তাঁদের একজন বলে ওঠেন, ‘তাহলে বুঝুন অবস্থা। কী বিচারের আয়োজন করা হয়েছে।’

তবে তাঁদের এই উপলব্ধি বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। আইনজীবী চৈতন্য যখন একের পর যুক্তি দিয়ে মো. হানিফকে আসামি করার ন্যায্যতা প্রশ্নবিদ্ধ করতে থাকেন, তখন তাঁরা স্বস্তির সঙ্গে তা উপভোগ করেন। তখন আবার রাষ্ট্রপক্ষ থেকে সময়ের দিকে খেয়াল রাখার জন্য, চৈতন্যের বক্তব্য সংক্ষিপ্ত করার জন্য আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হতে থাকে।

গত সোমবার রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়। গতকাল ছিল আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ধার্য। কিন্তু দুপুর সাড়ে ১২টায় বিচারক শাহেদ নূর উদ্দীন এজলাসে বসার পর আইনজীবী সৈয়দ রেজাউর রহমান একটি সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন। এরপর রাষ্ট্রপক্ষের আরেকজন বিশেষ কৌঁসুলি মোশাররফ হোসেন প্রায় আধা ঘণ্টা যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। তাতে তিনি বলেন, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রটি কী এবং তা কীভাবে করা হয়েছে, তিনি মামলার আইনি ব্যাখ্যা-বিতর্কের পর্যায়ে তা আদালতে উপস্থাপন করবেন।

বেলা প্রায় সোয়া একটায় চৈতন্য চন্দ্র হালদার উপস্থাপনা শুরু করেন। তাতে তিনি সুনির্দিষ্ট তথ্য ও দিনক্ষণ উল্লেখ করে বলেন, এই মামলার প্রথম এজাহারে যেমন হানিফের নাম নেই, তেমনি পরে আরও যে তিনটি এজাহার দাখিল করা হয়, যা মতিঝিল থানা জিডি হিসেবে গ্রহণ করে, তাতেও হানিফের নাম নেই। যে অভিযোগপত্রে ২২ জনকে আসামি করে এই মামলার বিচার কার্যক্রম শুরু হয়, তাতেও হানিফের নাম ছিল না। রাষ্ট্রপক্ষ ১৬১ ধারায় যে ৪০৮ জন সাক্ষীর জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করেন এবং আদালতে ১৬৪ ধারায় যেসব আসামি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন, তাঁদের একজনও হানিফের নাম বলেননি।

আইনজীবী চৈতন্য বলেন, রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০০৯ সালের ৩ আগস্ট আদালত মামলাটি পুনরায় বা অধিকতর
তদন্তের অনুমতি দেন। এই পর্যায়ে সিআইডির তৎকালীন বিশেষ পুলিশ সুপার আবদুল কাহ্‌হার আকন্দের তদন্তকালে মুফতি হান্নান নতুন জবানবন্দিটি দেন। ২০১১ সালের ৭ এপ্রিল দেওয়া ওই জবানবন্দিতে মুফতি হান্নান বলেন, ‘১৮ আগস্ট আমি, আহসানউল্লাহ কাজল ও মাওলানা আবু তাহের আবদুস সালাম পিন্টুর ধানমন্ডির বাসায় যাই। সেখানে পিন্টু, বাবর, মাওলানা তাজউদ্দিন, কমিশনার আরিফ এবং হানিফ পরিবহনের হানিফ উপস্থিত ছিল। সেখানে পিন্টু ও বাবর বলে যে, আরিফ ও হানিফ সাহেব আপনাদের সকল প্রকার সাহায্য সহযোগিতা করবে এবং আপনাদের সকল প্রকার নিরাপত্তার ব্যবস্থা থাকবে।’

চৈতন্য বলেন, মুফতি হান্নানের এই বক্তব্যের ভিত্তিতে ২০১২ সালের ১৮ মার্চ দুটি মামলাতে (হত্যা ও বিস্ফোরক) দেওয়া সম্পূরক অভিযোগপত্রে হানিফসহ ৩০ জন নতুন আসামি করা হয়। এরপরও প্রথম অভিযোগপত্রের ৬১ জনসহ ১৭৬ নম্বর পর্যন্ত সাক্ষীদের কেউ হানিফের নাম বলেননি। এই পর্যায়ে চৈতন্য সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফর উল্যাহ, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সাবেক সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মুকুল বোসসহ প্রায় ২০ জন সাক্ষীর ১৬১ ধারার জবানবন্দি ও জেরায় দেওয়া বক্তব্য আদালতে উপস্থাপন করে দেখান যে এঁদের কেউই হানিফের নাম ১৬১ ধারার জবানবন্দিতে বলেননি। আদালতে এসে হানিফের নাম বলেছেন বিভিন্ন পত্রপত্রিকা, গণমাধ্যম ও দলের নেতা-কর্মীদের কাছে শুনে।

তবে সাহারা খাতুন, কাজী জাফর উল্যাহ এবং সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছেও নামটি বলেছেন উল্লেখ করে বলেন, তদন্তকারী কর্মকর্তা তা লিখেছেন কি না, তা তাঁরা জানেন না।

বেলা আড়াইটা পর্যন্ত চৈতন্যের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনা চলার পর বিচারক দিনের কার্যক্রম সমাপ্ত ঘোষণা করেন। আজ বুধবার চৈতন্য তাঁর উপস্থাপনা শেষ করবেন। এরপর পলাতক আসামি মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদের পক্ষে রাষ্ট্রের নিযুক্ত আইনজীবী যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু করতে পারেন।

Leave a Reply

৯৭/৩/খ, উত্তর বিশিল, মিরপুর-১, ঢাকা-১২১৬
মোবাইলঃ ০১৭১২-৬৪৩৬৭৩, বার্তা বিভাগঃ ০১৭১২-৬৪৪৩৫০
ইমেইলঃ [email protected], [email protected]

সম্পাদক:
মোঃ সুলতান চিশতী

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ
মহসিন হাসান খান (বুলবুল)

নির্বাহী সম্পাদকঃ
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন

সহকারী সম্পাদকঃ
মোঃ আতোয়ার হোসেন

আইন উপদেষ্টাঃ
শাহিন সরকার


.: Developed By :.
Great IT