১২ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ২৮শে কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, হেমন্তকাল

সড়কে চলমান নৈরাজ্য কিছুতেই নিয়ন্ত্রণে আনা যাইতেছে না

প্রকাশিতঃ নভেম্বর ৭, ২০১৮, ১০:২৯ পূর্বাহ্ণ


কিছুতেই যেন নিয়ন্ত্রণে আনা যাইতেছে না সড়কে চলমান নৈরাজ্য। নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের অভূতপূর্ব আন্দোলন যে ব্যাপক আশাবাদের জন্ম দিয়াছিল তাহা ইতোমধ্যেই হতাশার ধূলিতে ঢাকা পড়িবার উপক্রম হইয়াছে। অথচ সেই আন্দোলনপরবর্তী অতিক্রান্ত ৯০ দিনের মধ্যে ৪৭ দিনই ছিল বিশেষ ট্রাফিক সপ্তাহ ও সচেতনতা মাস। সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্তৃপক্ষ বলিতেছেন যে, সড়কে শৃঙ্খলা আনিতে তাহারা যথাসাধ্য চেষ্টা চালাইয়াছেন। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে চার লক্ষাধিক মামলা করা হইয়াছে এই সময়ে। আদায় করা হইয়াছে প্রায় ৩২ কোটি টাকা। কিন্তু সকলই গরল ভেল! খোদ ঢাকা মেট্রোপলিটান পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনারই অকপটে স্বীকার করিয়াছেন যে শত চেষ্টা করিয়াও সড়কে শৃঙ্খলা আনিবার ক্ষেত্রে দৃশ্যমান উন্নতি প্রতিষ্ঠা করা যাইতেছে না। নাগরিকদের ট্রাফিক আইন না মানিবার প্রবণতাকেই ইহার অন্যতম কারণ হিসাবে চিহ্নিত করিয়াছেন দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তারা। জনগণের একটি অংশের মধ্যে যে ট্রাফিক আইন না মানিবার প্রবণতা আছে তাহা যেমন সত্য, তেমনি আইন মানিবার জন্য যে ধরনের পথচারীবান্ধব পরিবেশ ও ব্যবস্থাদি থাকা দরকার তাহার অভাব যে অত্যন্ত প্রকট, সেই বাস্তবতাও অস্বীকার করিবার উপায় নাই।

 

ফুটওভার ব্রিজ ও আন্ডারপাস থাকা সত্ত্বেও পথচারীদের জীবনের ঝুঁকি লইয়া যত্রতত্র রাস্তা পারাপারের দৃশ্য নূতন নহে। ইহার বিপরীতে দেখা দরকার যে পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা কি আদৌ তোয়াক্কা করিতেছেন নিয়ম-শৃঙ্খলার? অপ্রিয় হইলেও সত্য যে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রদত্ত দিকনির্দেশনার আলোকে রাজধানীর সড়কে শৃঙ্খলা ফিরাইয়া আনিতে ডিএমপি সম্প্রতি যে-কয়টি নির্দেশনা প্রদান করিয়াছে কার্যত তাহার কিছুই মানা হইতেছে না। যেখানে-সেখানে বাস থামাইয়া যথারীতি যাত্রী ওঠানো-নামানো হইতেছে। চলিতেছে বাসে বাসে বিপজ্জনক প্রতিযোগিতা। আর প্রতিদিনই ইহার বলি হইতেছে সাধারণ মানুষ। নিরাপদ সড়কের দাবিতে ছাত্র আন্দোলনের পর পরিবহন মালিক সমিতির নেতারা স্বতঃপ্রণোদিতভাবে প্রকাশ্যে যেইসব প্রতিশ্রুতি দিয়াছিলেন— বাস্তবে তাহার প্রতিফলন নাই বলিলেই চলে। অন্যদিকে ডিএমপি কর্তৃক নির্ধারিত বাসস্ট্যান্ডে বাস থামানো, চালকদের লাইসেন্স প্রদর্শন এবং দরজা বন্ধ রাখার যে নির্দেশনা দেওয়া হইয়াছিল সেইগুলিও আমলে নেন নাই গণপরিবহন শ্রমিকরা। এইদিকে রাজধানীতে নামমাত্র যেইটুকু ফুটপাত আছে তাহাতেও হাঁটাচলা করিবার উপায় নাই। বলিতে গেলে প্রায় সবটুকুই চলিয়া গিয়াছে হকার, মোটরসাইকেল ও গাড়ির দখলে। ফুটওভারব্রিজ ও আন্ডারপাসগুলির চিত্রও খুব একটা ভিন্ন নহে। একদিকে নিয়ম মানিয়া চলিবার কথা বলা হইতেছে, অন্যদিকে অধিকাংশ সড়কেই চলাচল সংকেতের চিহ্নমাত্র নাই। যেখানে আছে তাহাও গ্রাহ্য করা হইতেছে না। প্রায় দুই কোটি জনসংখ্যার একটি মহানগরে হাতেই চলিতেছে ট্রাফিক ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ। কেবল মামলা-জরিমানাতেই আটকাইয়া আছে শৃঙ্খলার উদ্যোগ।

 

বিআরটিএ’র হিসাবে, বর্তমানে দেশে যানবাহনের সংখ্যা প্রায় ৩৫ লক্ষ। অন্যদিকে লাইসেন্সধারী চালকের সংখ্যা প্রায় ১৯ লক্ষ। অর্থাত্ প্রায় ১৬ লক্ষ যানবাহন চলিতেছে ভুয়া অথবা অদক্ষ চালক দিয়া। ইহাও সুবিদিত যে, পরিবহন খাতের কোনো সিদ্ধান্ত মালিক-শ্রমিকদের বিপক্ষে গেলেই তাঁহারা ধর্মঘট ডাকিয়া যাত্রীদের জিম্মি করিয়া ফেলেন। বলিতে গেলে গলদ সর্বত্রই। অতএব, সর্বব্যাপী এই বিশৃঙ্খল অবস্থা হইতে মুক্তির শর্টকাট কোনো রাস্তা নাই। প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, সুদৃঢ় সংকল্প, লাগাতার চেষ্টা ও উদ্যোগ।

Leave a Reply

৯৭/৩/খ, উত্তর বিশিল, মিরপুর-১, ঢাকা-১২১৬
মোবাইলঃ ০১৭১২-৬৪৩৬৭৩, বার্তা বিভাগঃ ০১৭১২-৬৪৪৩৫০, সার্কুলেশন বিভাগঃ০১৯১৬০৯৯০২০
ইমেইলঃ [email protected], [email protected]

সম্পাদক:
মোঃ সুলতান চিশতী

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ
মহসিন হাসান খান (বুলবুল)

নির্বাহী সম্পাদকঃ
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন

সহকারী সম্পাদকঃ
মোঃ আতোয়ার হোসেন

আইন উপদেষ্টাঃ
শাহিন সরকার


.: Developed By :.
Great IT