২০শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ৫ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, শরৎকাল

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদেরও দায়িত্বশীল হইতে হইবে

প্রকাশিতঃ সেপ্টেম্বর ৮, ২০১৮, ১২:৪১ অপরাহ্ণ


মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার গুয়াখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এই বিদ্যালয়ের ভবনটি বহু বত্সর ধরিয়া জরাজীর্ণ। এতটাই জরাজীর্ণ যে, বেশ কয়েকবার ঘটিয়াছে দুর্ঘটনাও। সেই দুর্ঘটনায় আহত হইয়াছে বিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী। কিন্তু তাহার পরও কর্তৃপক্ষের টনক নড়িতেছে না। এই বিদ্যালয়টির পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি বলিতেছেন, তাহারা বিদ্যালয়ের নূতন ভবনের জন্য প্রায় ১০ বত্সর ধরিয়া আবেদন-নিবেদন জানাইয়া আসিতেছেন। প্রতিবারই বলা হয়, এবার নূতন ভবন নির্মাণ করা হইবে। কিন্তু কোনো রহস্যজনক কারণে নূতন ভবন নির্মিত হইতেছে না। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা একাধিকবার বিদ্যালয় ভবনটি পরিদর্শন করিয়াছেন। জরাজীর্ণ দশার কথা জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানাইয়াছেন। তাহার মাধ্যমে জানানো হইয়াছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কেও। তবু কোনো ফলোদয় হইতেছে না।

 

এই ধরনের জীর্ণদশার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনের বর্ণনা অতীতে আমরা বহুবার দিয়াছি। সাধারণত এই ধরনের ভবনের মেঝেতে থাকে গর্ত। দরজা-জানালা থাকে ভাঙা। পিলার ও দেওয়ালে থাকে বড় বড় ফাটল। ছাদ হইতে খসিয়া পড়ে পলেস্তারা। দৃশ্যমান হয় রড। ভবন জুড়িয়া জমিয়া থাকে শ্যাওলা-আবর্জনা। বৃষ্টি হইলেই ছাদ চুঁয়াইয়া পড়ে পানি। নষ্ট হয় বই-খাতা। ফলে শিক্ষার্থীরা ক্লাস করিতে পারে না। অন্য সময় ক্লাস করে খোলা আকাশের নিচে। একটি পরিসংখ্যানে দেখা যায়, দেশে প্রায় ২০ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয় জরাজীর্ণ অবস্থায় রহিয়াছে। এইসব ভবন রাতারাতি সংস্কার কিংবা পুনঃনির্মাণ করা যে অসম্ভব, তাহা আমরা সকলেই জানি। তবে এই ব্যাপারে কর্মপ্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা প্রয়োজন। এই ক্ষেত্রে সরকারি কর্মকর্তারা যদি উদাসীনতা প্রদর্শন করেন, তাহা হইলে অবধারিতভাবে ইহার দায়-দায়িত্ব বর্তায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ওপর। তাহারা তাহাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করিলে বত্সরের পর বত্সর ধরিয়া কোনো বিদ্যালয় ভবন পরিত্যক্ত বা ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকিতে পারে না। সুতরাং এই ব্যাপারে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদেরও দায়িত্বশীল হইতে হইবে।

 

প্রাথমিক শিক্ষায় অংশগ্রহণের হার বৃদ্ধিতে আমরা যে সাফল্য অর্জন করিয়াছি, তাহা আন্তর্জাতিকভাবেও স্বীকৃত। বর্তমানে প্রাথমিকে ভর্তির নির্দিষ্ট বয়সসীমা ৫ হইতে ১০ বত্সরের শিশুদের ভর্তির হার (এনইআর) প্রায় শতভাগ। এমনকি প্রাথমিক শিক্ষায় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে এডুকেশন-৯ (ই-৯) ফোরামভুক্ত দেশগুলির মধ্যে শীর্ষ অবস্থানে রহিয়াছে বাংলাদেশ। এইক্ষেত্রে ভারত, পাকিস্তান, চীন এমনকি ব্রাজিলের মতো দেশের চাইতেও আমরা অগ্রগামী। বিনামূল্যে বই বিতরণ, উপবৃত্তি ও স্কুল ফিডিং কর্মসূচির মতো সরকারি-বেসরকারি নানা উদ্যোগ এখানে কার্যকর ভূমিকা পালন করিয়াছে। কিন্তু এইসব সাফল্যের সহিত অবকাঠামোগত অবস্থার যেই চিত্র পাওয়া যাইতেছে তাহা অসঙ্গতিপূর্ণ। এই ব্যাপারে এখন মনোযোগ বৃদ্ধির দাবি রাখে। ভবনের পাশাপাশি কোমলমতি শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশনের ব্যবস্থা গ্রহণ করাও জরুরি। মোটকথা, শিশু শিক্ষার্থীদের জন্য নিশ্চিত করিতে হইবে একটি স্বস্তিকর, স্বাস্থ্যসম্মত ও আনন্দময় পরিবেশ। যদি সম্ভব হয়, তাহা হইলে নূতন বরাদ্দ না পাওয়া পর্যন্ত সরকার প্রদত্ত বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক বরাদ্দ দিয়াও বিদ্যালয় ভবনগুলির এই ধরনের উন্নয়ন বা সংস্কারের কাজ সম্পন্ন করা যাইতে পারে।

Leave a Reply

৯৭/৩/খ, উত্তর বিশিল, মিরপুর-১, ঢাকা-১২১৬
মোবাইলঃ ০১৭১২-৬৪৩৬৭৩, বার্তা বিভাগঃ ০১৭১২-৬৪৪৩৫০
ইমেইলঃ [email protected], [email protected]

সম্পাদক:
মোঃ সুলতান চিশতী

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ
মহসিন হাসান খান (বুলবুল)

নির্বাহী সম্পাদকঃ
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন

সহকারী সম্পাদকঃ
মোঃ আতোয়ার হোসেন

আইন উপদেষ্টাঃ
শাহিন সরকার


.: Developed By :.
Great IT