২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ১১ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, শরৎকাল

সেলফি, না কিলফি?

প্রকাশিতঃ সেপ্টেম্বর ৩, ২০১৮, ২:৪৪ অপরাহ্ণ


নিজেকে প্রকাশ করিবার দুর্দমনীয় আকাঙ্ক্ষা মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি। কিন্তু তাহাই আজকাল মানুষকে কখনো কখনো চূড়ান্ত বিপদের দিকে ঠেলিয়া দিতেছে। এই প্রকাশের একটি মাধ্যম হইল ‘সেলফি’, অর্থাত্ স্মার্টফোন ক্যামেরার সামনে দাঁড়াইয়া কোনো এক রোমাঞ্চকর মুহূর্তকে ফ্রেমবন্দি করা। অতঃপর তাহা ফেসবুক বা ইনস্ট্রাগ্রামে পোস্ট করা। পোস্টের পর ক্ষণে ক্ষণে নোটিফিকেশন দেখা—কতগুলি লাইক আসিল, কমেন্ট জমিল। সেইসব মজার মজার কমেন্টের গড্ডলিকায় ভাসিয়া আরো অভিনব আরো নূতন কোনো সেলফির নেশায় মাতিয়া ওঠা। আর দারুণ একটি সেলফি তুলিতে গিয়া নিজের অজান্তেই ভয়াবহ ঝুঁকি লইয়া মৃত্যুমুখে পতিত হওয়াটাও এখন নূতন বিপদের আরেক নাম হইয়া উঠিয়াছে। এই কারণে সেলফি তুলিতে গিয়া মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধি পাইতেছে সারা বিশ্বেই। তবে এই উপমহাদেশে সেলফি-মৃত্যুর সংখ্যা সবচাইতে বেশি।

 

ভারত পাকিস্তানের পর সমপ্রতি বাংলাদেশেও যেন সেলফি ম্যানিয়ায় হিতাহিতজ্ঞান ভুলিয়া মৃত্যুমুখে পড়িবার ঘটনা বাড়িতেছে। গত শুক্রবার কুষ্টিয়ার কয়েকজন বন্ধু ও পরিবারের সদস্যদের লইয়া ঈশ্বরদী ডাল গবেষণা কেন্দ্রের কয়েকজন কর্মকর্তা চলনবিলে নৌকাভ্রমণে বাহির হন। নৌকাভ্রমণের সময় আকর্ষণীয় বা অ্যাডভেঞ্চার-দৃশ্য হিসাবে রোমাঞ্চকর সেলফি তুলিতে গিয়া নৌকাডুবির ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানাইয়াছেন, সূর্য ডোবার ঠিক পূর্বমুহূর্তে নৌকার ছইয়ের উপর দাঁড়াইয়া বেশিরভাগ যাত্রী মোবাইল ফোনে সেলফি তুলিবার চেষ্টা করিলে ছই ভাঙিয়া নৌকাটি সঙ্গে সঙ্গে ডুবিয়া যায়। তাত্ক্ষণিক ১৭ জনকে উদ্ধার করিতে পারিলেও ছইয়ের নিচে বসিয়া থাকা পাঁচজনকে তত্ক্ষণাত্ উদ্ধার করা সম্ভব হয় নাই। পরবর্তী সময়ে তাহাদের মধ্যে তিনজনের লাশ পাওয়া গিয়াছে।

 

প্রশ্ন উঠিতেই পারে, সামান্য ফ্রন্ট ক্যামেরায় ছবি তোলাকে কেন্দ্র করিয়া কেন এত আসক্ত হইয়া পড়িতেছে মানুষ? গবেষকরা জানাইতেছেন, মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি হইল, তাহারা নিজের ক্যামেরায় তোলা ছবির চাইতে আয়নায় প্রতিফলিত রূপকেই বেশি পছন্দ করে। আমরা আয়নায় যেই ছবি দেখি, ফ্রন্ট ক্যামেরাও হুবহু সেই ছবিই তুলিয়া ধরে। সেই কারণেই ফ্রন্ট ক্যামেরার প্রতি বেশি আসক্ত মানুষ। ইহার সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়া আসিবার পর যোগ হইয়াছে বিভিন্ন মুহূর্তের ছবি সবার অন্তর্জালের সঙ্গে ভাগ করিবার মানসিকতা। তরুণ সমাজের একাংশ সোশ্যাল মিডিয়ার বন্ধু-বান্ধবদের মন্তব্য এবং প্রশংসা পাইতে যেকোনো বিপদকেও তুচ্ছজ্ঞান করে। তাহারা মনে করিয়া থাকে, যত বেশি বিপজ্জনক ছবি হইবে ততই মানুষ প্রশংসায় ভাসাইবে। আর এইসব কারণেই ‘সেলফি’ ক্রমশ হইয়া উঠিতেছে মৃত্যুছবি তথা ‘কিলফি’। কোনো কোনো মনস্তত্ত্ববিদ মনে করেন, বিপজ্জনক সেলফি তোলাটা এক ধরনের মনোরোগ। এই নেশাকে অনেকে তাহার বন্ধু বা পরিচিতদের নিকট বিখ্যাত হইবার শর্টকার্ট পথ বলিয়া মনে করিয়া থাকে।

 

এই কারণে সর্বাগ্রে ভালোবাসিতে হইবে নিজেকে। নিজেকে ভালোবাসাটা স্বার্থপরতা নহে, ইহা জগেক ভালোবাসিবার একটি পথ। নিজেকে ভালোবাসিলে সেলফি কখনো কিলফি হইয়া উঠিতে পারিবে না।

Leave a Reply

৯৭/৩/খ, উত্তর বিশিল, মিরপুর-১, ঢাকা-১২১৬
মোবাইলঃ ০১৭১২-৬৪৩৬৭৩, বার্তা বিভাগঃ ০১৭১২-৬৪৪৩৫০
ইমেইলঃ [email protected], [email protected]

সম্পাদক:
মোঃ সুলতান চিশতী

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ
মহসিন হাসান খান (বুলবুল)

নির্বাহী সম্পাদকঃ
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন

সহকারী সম্পাদকঃ
মোঃ আতোয়ার হোসেন

আইন উপদেষ্টাঃ
শাহিন সরকার


.: Developed By :.
Great IT