১৯শে নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, হেমন্তকাল

সেই মোহাম্মদ আলীর বিরুদ্ধে দুদকের চার্জশিট

প্রকাশিতঃ সেপ্টেম্বর ৭, ২০১৮, ১১:৪২ পূর্বাহ্ণ


ডেস্ক নিউজ আলোচিত স্বর্ণ চোরাচালানকারী শেখ মোহাম্মদ আলীর ৪০ কোটি ৯১ লাখ ৮১ হাজার ৩৭৫ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের খোঁজ পাওয়ায় তার বিরুদ্ধে চার্জশিট অনুমোদন করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

বৃহস্পতিবার দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে এই চার্জশিট অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন।

২০১৪ সালের ২৫ ডিসেম্বর পুরানা পল্টনের ২৯/১ নম্বর বাড়ির সাত তলায় মোহাম্মদ আলীর বাসায় অভিযান চালিয়ে মোট ৮ কোটি ৫৫ লাখ ৮০ হাজার টাকা সমপরিমাণ পাঁচ বস্তা দেশি-বিদেশি মুদ্রা ও ৩০ কোটি টাকা মূল্যের দেড় মণ সোনা জব্দ করেছিল শুল্ক বিভাগ ও গোয়েন্দারা। উদ্ধারের সময় মোহাম্মদ আলীকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।

এর আগে মোহাম্মদ আলীর বিরুদ্ধে ২০১৭ সালের ১৩ নভেম্বর রমনা মডেল থানায় মামলা করা হয়েছিল।

মামলার তদন্ত প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের ১২ জুলাই আসামি শেখ মোহাম্মদ আলী ওরফে এস কে মোহাম্মদ আলীর নামে সম্পদ বিবরণী নোটিশ জারির আদেশ দেয়া হয়। এরপর দুদকে দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীতে মোহাম্মদ আলী স্থাবর এবং অস্থাবরসহ ৩০ কোটি ৭৮ লাখ ৯৬ হাজার ৬২৩ টাকার সম্পদের ঘোষণা দেন।

কিন্তু তদন্তকালে দুদকে দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীতে মালঞ্চ কুমার পাড়া, সিলেট সদরে শুধু জমির তথ্য দেন। কিন্তু জমির ওপর নির্মিত ৬ তলা ভবনের বিষয়টি গোপন করেন। এ ভবনের নির্মাণ ব্যয় ৯৫ লাখ ১১ হাজার ৩৭৫ টাকা দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীতে ঘোষণা দেননি।

এ ছাড়া তার নামে পূর্বাচল নুতন শহর প্রকল্পে বরাদ্দপ্রাপ্ত প্লটের (প্লট নং-৩, রোড নং-৪০১, সেক্টর-১৬) ৩০ লাখ টাকাও ঘোষণা দেননি। এখানে তিনি মোট ১ কোটি ২৫ লাখ ১১ হাজার ৩৭৫ টাকার স্থাবর সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন।

এ ছাড়া দুদকে দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীতে আসামি মোহাম্মদ আলী তার নিজ নামে মোট ২৫ কোটি ৯০ লাখ ৩০ হাজার ৪৭৩ টাকার অস্থাবর সম্পদের ঘোষণা দিয়েছেন। কিন্তু তদন্তকালে প্রাপ্ত তথ্যমতে ৬১ কেজি ৫৩৮ গ্রাম স্বর্ণ, যা শুল্ক গোয়েন্দা কর্তৃক জব্দকৃত, যার মূল্য ৩০ কোটি ৭৬ লাখ ৯০ হাজার টাকা, বিদেশি মুদ্রা ৩ কোটি ২৯ লাখ ৯০ হাজার টাকা ও দেশি মুদ্রা ৫ কোটি ৫৯ লাখ ৯০ হাজার টাকাসহ মোট ৩৯ কোটি ৬৬ লাখ ৭০ হাজার টাকার অস্থাবর সম্পদের তথ্য দুদকে দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীতে গোপন করেছেন।

অর্থাৎ গোপনকৃত ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ৪০ কোটি ৯১ লাখ ৮১ হাজার ৩৭৫ টাকা। এতে প্রমাণ হয় যে, শেখ মোহাম্মদ আলী ওরফে এস কে মোহাম্মদ আলী জ্ঞাত আয়বহির্ভূত ৪০ কোটি ৯১ লাখ ৮১ হাজার ৩৭৫ টাকার সম্পদ নিজ নামে অর্জনপূর্বক তা ভোগদখলে রেখে ভিত্তিহীন এবং মিথ্যা তথ্য সম্বলিত সম্পদ বিবরণী দুদকে দাখিল করেছে।

মোহাম্মদ আলী দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৬ (২) ও ২৭ (১) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন। এই অপরাধে চার্জশিট অনুমোদন দিয়েছে দুদক। শিগগিরই চার্জশিট আদালতে জমা দেয়া হবে বলে দুদক জানায়।

Leave a Reply

৯৭/৩/খ, উত্তর বিশিল, মিরপুর-১, ঢাকা-১২১৬
মোবাইলঃ ০১৭১২-৬৪৩৬৭৩, বার্তা বিভাগঃ ০১৭১২-৬৪৪৩৫০, সার্কুলেশন বিভাগঃ০১৯১৬০৯৯০২০
ইমেইলঃ [email protected], [email protected]

সম্পাদক:
মোঃ সুলতান চিশতী

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ
মহসিন হাসান খান (বুলবুল)

নির্বাহী সম্পাদকঃ
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন

সহকারী সম্পাদকঃ
মোঃ আতোয়ার হোসেন

আইন উপদেষ্টাঃ
শাহিন সরকার


.: Developed By :.
Great IT