২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ৯ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, শরৎকাল

সুনামগঞ্জে ইউপি চেয়ারম্যান সাহেল বরখাস্ত

প্রকাশিতঃ জুলাই ১৬, ২০১৮, ৪:১৬ অপরাহ্ণ


পানি উন্নয়ন বোর্ডের হাওররক্ষা বাঁধ প্রকল্পে কম কাজ করিয়ে বেশি বিলের দাবিতে সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করে ফেসবুকে লাইভ দিয়ে গালিগালাজ ও লাঞ্ছিত করায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় এক ইউপি চেয়ারম্যানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

গত ১৫ জুলাই মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব ইফতেখার আহমদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত বরখাস্তের কপি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়সহ বিভিন্ন অফিসে পৌঁছেছে। এ বিষয়ে গতকাল রবিবার মন্ত্রণালয় চেয়ারম্যানের সাময়িক বরখাস্ত সংক্রান্ত এক প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। প্রজ্ঞাপনে ছাতক উপজেলার সিংচাপইড় ইউনিয়ন পরিষদের বরখাস্তকৃত ইউপি চেয়ারম্যান সাহাব উদ্দিন মোহাম্মদ সাহেলের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনে মামলা, পুলিশ এসল্ট মামলাসহ একাধিক মামলার বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন থেকে জানা যায়, গত ১৭ মে ছাতক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাসিরুল্লাহ খান ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের এক উপ-সহকারী প্রকৌশলী সাদত হোসেনকে নিজ অফিসে অবরুদ্ধ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে লাইভে গিয়ে গালিগালাজ করেন ছাতক উপজেলার সিংচাপইর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সাহাব উদ্দিন মোহাম্মদ সাহেল। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ ও লাঞ্ছিত করার ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়ে। এতে প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিব্রতবোধ করে।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, বরখাস্তকৃত ওই চেয়ারম্যান নিজ ইউনিয়নের চাউলির হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধে কম কাজ করিয়ে বেশি বিল উত্তোলনের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। অতিরিক্ত বিল না পেয়ে তিনি গত ১৭ মে ছাতক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাসিরুল্লা খানের অফিসে গিয়ে তাকে অবরুদ্ধ করে টানা ৫০ মিনিট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে লাইভ করেন। সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে খিস্তিখেউর করেন।

ওই ঘটনায় ১৯ মে জেলা প্রশাসক মো. সাবিরুল ইসলাম স্থানীয় সরকার উপপরিচালক মো. এমরান হোসেনকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন। কমিটি একাধিকবার ঘটনাস্থলে গিয়ে সরেজমিনে তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পেয়ে মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন জমা দেয়। এই প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই এবং স্থানীয় সরকার ইউনিয়ন পরিষদ আইন (২০০৯) এর ধারা (১) মোতাবেক গত ১৫ জুলাই তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেয় মন্ত্রণালয়।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় এ ঘটনায় গত ১৫ জুলাই এক প্রজ্ঞাপনও জারি করেছে।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, ওই ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ছাতক থানায় দ্রুত বিচার আইনে মামলা, পুলিশ এসল্ট মামলাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। চেয়ারম্যানের এসব কার্যক্রম ইউপি পরিষদ ও জনস্বার্থ পরিপন্থি হিসেবে তার দ্বারা ক্ষমতা প্রয়োগ প্রশাসনিক দৃষ্টিকোণ থেকে সমীচীন নয় মর্মে সরকার মনে করে। তাছাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিস কক্ষে ঢুকে তাকে অবরুদ্ধ ও লাঞ্ছনার বিষয়টি তদন্তে প্রমাণিক হওয়ায় তাকে বিধি বলে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে বরখাস্তকৃত ইউপি চেয়ারম্যান সাহাব উদ্দিন মোহাম্মদ সাহেলের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করলেও তিনি ফোন ধরেননি।

সুনামগঞ্জ স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক মো. এমরান হোসেন বলেন, ‘মন্ত্রণালয় চেয়ারম্যান সাহেলকে বরখাস্ত করেছে বলে শুনেছি। তবে আমি এখনো কাগজ পাইনি। তবে তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে তাঁর কক্ষে অবরুদ্ধ করে লাঞ্ছিত করায় আমরা তদন্ত করে সত্যতা পেয়েছি। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে সরেজমিন তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছিলাম মন্ত্রণালয়ে। মন্ত্রণালয় বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’

Leave a Reply

৯৭/৩/খ, উত্তর বিশিল, মিরপুর-১, ঢাকা-১২১৬
মোবাইলঃ ০১৭১২-৬৪৩৬৭৩, বার্তা বিভাগঃ ০১৭১২-৬৪৪৩৫০
ইমেইলঃ [email protected], [email protected]

সম্পাদক:
মোঃ সুলতান চিশতী

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ
মহসিন হাসান খান (বুলবুল)

নির্বাহী সম্পাদকঃ
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন

সহকারী সম্পাদকঃ
মোঃ আতোয়ার হোসেন

আইন উপদেষ্টাঃ
শাহিন সরকার


.: Developed By :.
Great IT