১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, শরৎকাল

সামাজিক অপরাধের লাগাম টানিয়া ধরিতে হইবে

প্রকাশিতঃ সেপ্টেম্বর ২, ২০১৮, ১২:১৫ পূর্বাহ্ণ


সারাদেশে সামাজিক অস্থিরতা ক্রমশ বাড়িতেছে। সেই সঙ্গে বাড়িতেছে নানা অপরাধও। আজকাল প্রতিদিনই কোনো না কোনো লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের খবর পাওয়া যাইতেছে। কয়েক দিন আগে নারী সাংবাদিক ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ‘আনন্দ টিভি’র পাবনা প্রতিনিধি সুবর্ণা নদীকে তাহার বাসায় নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। এখন জানা যাইতেছে যে, এই ঘটনায় তাহার সাবেক স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন জড়িত। একই জেলার সরকারি এডওয়ার্ড কলেজের ছাত্রী মুক্তি খাতুনের মৃত্যু আরও মর্মান্তিক। পূর্ববিরোধের জের ধরিয়া তাহার মুক্তিযোদ্ধা পিতার প্রতিপক্ষ তাহাদের বাড়িতে হামলা চালাইয়া তাহার শরীরে পেট্রোল ঢালিয়া আগুন ধরাইয়া দেয়। কী ভয়াবহ ঘটনা! নরসিংদীর মাধবদীতে তুচ্ছ ঘটনার জের ধরিয়া ছোট ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে নিহত হয় বড় ভাই। মুন্সিগঞ্জে পাওনা টাকা নিয়া বিরোধের জেরে একজন মাদ্রাসা শিক্ষকের মাথায় হাতুড়ি দিয়া আঘাত করিয়া হত্যা করে তাহারই চাচাতো ভাই। ইহার চাইতেও লোমহর্ষক ঘটনা ঘটিয়াছে রংপুর ও গফরগাঁওয়ে। রংপুরে মাত্র ৫০ টাকা চুরির অপবাদে পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রকে গাছের সঙ্গে বাঁধিয়া নির্মমভাবে নির্যাতন করিয়া হত্যা করা হইয়াছে। আর গফরগাঁওয়ে একই কারণে তথা চোর সন্দেহে এক স্কুলছাত্রকে পিটাইয়া হত্যা করিয়াছে একদল লোক।

ইত্তেফাকে গত কয়েক দিনে প্রকাশিত এইসব খবরে আমাদের গা শিহরিত না হইয়া পারে না। আমাদের দেশে একটি প্রবণতা লক্ষণীয় যে, যখনই রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তা দেখা দেয়, তখনই নানাভাবে বৃদ্ধি পায় সামাজিক অস্থিরতা। আমরা এক সময় ইভটিজিং নিয়া ধারাবাহিকভাবে নানা খুন-খারাবি লক্ষ্য করিয়াছি। নারী বা শিশুহত্যাও এক সময় ধারাবাহিকভাবে সংঘটিত হইয়াছে। এখন যোগ হইয়াছে শিশু বা শিক্ষার্থীহত্যা। এইরকম সামাজিক অপরাধবৃদ্ধিতে আমরা শঙ্কিত। ইহার লাগাম অবশ্যই টানিয়া ধরিতে হইবে। চাঞ্চল্যকর ও যেকোনো বর্বর হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুত করিবার উদ্যোগ নিতে হইবে। বিশেষত পিটাইয়া হত্যা করা তথা আইন নিজের হাতে তুলিয়া লইবার যে প্রবণতা দেখা দিতেছে, তাহা বিপজ্জনক। সাধারণত অনেক নিরীহ ব্যক্তিও ইহার নির্মম শিকার হইতে পারেন। তাই ইহারও দ্রুত তদন্ত ও বিচার কীভাবে করা যায় তাহা নিয়া ভাবিয়া দেখিতে হইবে।

পারিবারিক বা সামাজিক বিরোধে যেভাবে মানুষকে সস্তায় খুন করা হইতেছে তাহাতে উদ্বেগ প্রকাশ না করিয়া পারা যায় না। অনেক সময় ভাড়াটিয়া খুনিরাও এইসব অপকর্মে নিযুক্ত হয় এবং মানুষ খুন করিবার জন্য তাহাদের টাকার অঙ্কের চাহিদাও খুব বেশি নহে, যাহা আরও আতঙ্কজনক। এই পরিস্থিতিতে সামাজিক অপরাধ বন্ধ করিতে হইলে দরকার সামাজিক সচেতনতা ও প্রতিরোধ। মানুষকে তাহার নিজের নিরাপত্তা নিয়া আগে সজাগ হইতে হইবে। ইহার পাশাপাশি সরকারের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সঠিক কাজটি সঠিক সময়ে করিতে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিবেন বলিয়া আশা করি।

Leave a Reply

৯৭/৩/খ, উত্তর বিশিল, মিরপুর-১, ঢাকা-১২১৬
মোবাইলঃ ০১৭১২-৬৪৩৬৭৩, বার্তা বিভাগঃ ০১৭১২-৬৪৪৩৫০
ইমেইলঃ [email protected], [email protected]

সম্পাদক:
মোঃ সুলতান চিশতী

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ
মহসিন হাসান খান (বুলবুল)

নির্বাহী সম্পাদকঃ
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন

সহকারী সম্পাদকঃ
মোঃ আতোয়ার হোসেন

আইন উপদেষ্টাঃ
শাহিন সরকার


.: Developed By :.
Great IT