২০শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ৫ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, শরৎকাল

সাক্ষ্য-প্রমাণ ছাড়াই চার্জশিটে মিথ্যা বক্তব্য উপস্থাপন

প্রকাশিতঃ আগস্ট ২৮, ২০১৮, ১০:০০ অপরাহ্ণ


সাক্ষ্য-প্রমাণ ছাড়াই তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার আব্দুল কাহার আকন্দ ২১ আগস্ট গ্রেনেড মামলা মামলার চার্জশিটে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর সম্পর্কে মিথ্যা বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন বলে দাবি তার আইনজীবীর।

আজ মঙ্গলবার প্রায় দুই ঘণ্টা যুক্তি উপস্থাপনের মধ্যে বিএনপির এই নেতার পক্ষে আইনজীবী মো. নজরুল ইসলাম এ দাবি করেন।

এর আগে এদিন বেলা সাড়ে ১২টায় পুরান ঢাকার নাজিম উদ্দিন রোডে অবস্থিত মামলার অস্থায়ী ট্রাইব্যুনালে এই আইনজীবী ষষ্ঠ দিনের যুক্তি উপস্থাপন শুরু করেন।

ঢাকার এক নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিন এদিন আসামি বাবরের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপনের পর তা অসমাপ্ত অবস্থায় শেষ হওয়ায় পর বুধবার বেলা ১২টা পর্যন্ত যুক্তি উপস্থাপন মুলতবি করেন।

এদিন আইনজীবী নজরুল ইসলাম তদন্তকারী কর্মকর্তা আব্দুল কাহার আকন্দের দাখিল করা চার্জশিটে লুৎফুজ্জামান বাবর সম্পর্কে যে সকল বক্তব্য উপস্থাপন করা হয়েছে তা মিথ্যা বানোয়াট উল্লেখ করে তা বিভিন্ন যুক্তির মাধ্যমে খণ্ডনের চেষ্টা করেন।

ওই আইনজীবী যুক্তি উপস্থাপনে বলেন, ‘বিএনপি-জামায়াত সরকারের সাবেক উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টুর সহোদর ভাই এ মামলার পলাতক আসামি মাওলানা তাউদ্দিনের সঙ্গে লুৎফুজ্জামান বাবরের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল এ বক্তব্য সত্য নয়। তিনি তাজউদ্দিনকে চেনেন না এবং কখনো দেখেনও নি। এছাড়া তার জ্ঞাতসাকে তাজউদ্দিনকে বাদলনামীয় পাসপোর্ট দিয়ে বিদেশে পাঠানো হয়েছে তাও সত্য নয়। এগুলো সবই তদন্ত কর্মকর্তা কাহার আকন্দের সমগড়া বক্তব্য।’

নজরুল ইসলাম আরও বলেন, ‘মুফতি হান্নান কোটালিপাড়ায় বোমা হামলা মামলাসহ বিভিন্ন সময় পলাতক আসামি বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর বাবরের সঙ্গে যোগাযোগ করে ওই সকল মামলা হতে অব্যাহতির নেওয়ার চেষ্টা করেন এ কথাও সত্য নয়। কারণ মুফতি হান্নানের কোনো মামলাই প্রত্যাহার হয়নি। এছাড়া ২০০৪ সালের আগস্ট মাসে মুফতি হান্নান তার সহোযাগীদের নিয়ে বনানীস্থ হওয়া বভনে গিয়ে শেখ হাসিনাকে হত্যার জন্য তারেক রহমানের কাছে সহায়তা চাওয়ার সময় বাবর সাবেক উপস্থিত ছিলেন তাও সত্য নয়। এ বিষয়ে তার কোনো ধারণাই নেই।’

এই আইনজীবী আরও বলেন, ‘অন্যদিকে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার জন্য আব্দুস সালাম পিন্টুর মোহাম্মাদপুরের সরকারি বাসায় বাবর সাহেবের উপস্থিতিতে গ্রেনেড সরবরাহ এবং সকল প্রকাশ প্রশাসনিক সহযোগিতার আশ্বাস দেয়ার অভিযোগও সত্য নয়। তিনি পিন্টুর বাসায় কোনদিন যাননি এবং চেনেনও না। মুফতি হান্নানের স্বীকারোক্তি ভিত্তিতে এসব বক্তব্য তদন্তকারী কর্মকর্তা চার্জশিটে উল্লেখ করলেও আর কোনো সাক্ষ্য দিয়ে তা প্রমাণ করা সম্ভব হয়নি। তাই সাক্ষ্য-প্রমাণ ছাড়াই তদন্তকারী কর্মকর্তা চার্জশিটে লুৎফুজ্জামান বাবর সম্পর্কে মিথ্যা বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন।’

এর আগে এ আইনজীবী গত ৬ আগস্ট থেকে ৬ কার্যদিবস যুক্তি উপস্থাপন করেন।

মঙ্গলবার আসামি পক্ষের যুক্তি উপস্থাপনের সময় রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌসুলী সৈয়দ রেজাউর রহমান ও কৌসুলী মোশারফ হোসেন কাজলসহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এদিন আসামি পক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষ হওয়ার সৈয়দ রেজাউর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ‘গ্রেনেড হামলার ঘটনার সময় তিনি তখন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। ঘটনার পর তিনি একবারের জন্যও ঘটনাস্থল দেখতে পর্যন্ত যাননি। এই গ্রেনেড মামলার পরিকল্পনার সঙ্গে তিনি সরাসরি জড়িত ছিলেন। আমরা আদালতে তা প্রমাণ করেছি।’

প্রসঙ্গত, মামলাটিতে বাবরের পক্ষে আসামির পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন শেষ হলেই আসামি পক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষ হবে। এরপরই ট্রাইব্যুনাল রায় ঘোষণার দিন ঠিক করবেন।

রাষ্ট্রপক্ষ মামলাটিতে ২৫ কার্যদিবস যুক্তি উপস্থাপনের পর গত ১ জানুয়ারি তা শেষ হয়। রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তি উপস্থাপনে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ ৩৮ আসামির মৃত্যুদণ্ড এবং ১১ সরকারি কর্মকর্তার সাত বছর কারাদণ্ড দাবি করেন। এরপর আসামি পক্ষ যুক্তি উপস্থাপন শুরু করেন। মঙ্গলবার পর্যন্ত আসামি পক্ষ ৮৬ কার্যদিবস যুক্তি উপস্থাপন করেছেন।

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনের জনসভায় সন্ত্রাসীরা ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা চালায়। হামলায় আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা ও প্রয়াত প্রেসিডেন্ট জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভি রহমানসহ ২৪ জন নির্মমভাবে নিহত হন। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান। আহত হন শতাধিত নেতাকর্মী। এ ঘটনায় মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফারুক হোসেন, আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল জলিল ও সাবের হোসেন চৌধুরী বাদী হয়ে মতিঝিল থানায় পৃথক তিনটি এজাহার দায়ের করেন।

Leave a Reply

৯৭/৩/খ, উত্তর বিশিল, মিরপুর-১, ঢাকা-১২১৬
মোবাইলঃ ০১৭১২-৬৪৩৬৭৩, বার্তা বিভাগঃ ০১৭১২-৬৪৪৩৫০
ইমেইলঃ [email protected], [email protected]

সম্পাদক:
মোঃ সুলতান চিশতী

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ
মহসিন হাসান খান (বুলবুল)

নির্বাহী সম্পাদকঃ
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন

সহকারী সম্পাদকঃ
মোঃ আতোয়ার হোসেন

আইন উপদেষ্টাঃ
শাহিন সরকার


.: Developed By :.
Great IT