১৯শে অক্টোবর, ২০১৮ ইং | ৪ঠা কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, হেমন্তকাল

সরে গেলেন রোহিঙ্গা প্যানেলের সচিব

প্রকাশিতঃ জুলাই ২২, ২০১৮, ৭:২৩ অপরাহ্ণ


রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের জন্য মিয়ানমার সরকারের গঠিত আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্যানেল থেকে এবার সরে দাঁড়ালেন এর সদস্যসচিব থাইল্যান্ডের সাবেক সংসদ সদস্য কোবস্যাক চুতিকুল। তাঁর পদত্যাগের ফলে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে মিয়ানমার সরকারের অঙ্গীকার আবার প্রশ্নের মুখে পড়ল।

এই সাবেক থাই কূটনীতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, প্যানেল গঠনের পর ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও তেমন কিছু করতে পারেনি আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের জন্য গঠিত কমিটি। কারণ, প্যানেলটি অনেকটাই নিয়ন্ত্রিত। এ মাসে তৃতীয়বারের মতো রাজধানী নেপিডোতে বৈঠকে বসার কথা ওই প্যানেলের।

কোবস্যাক চুতিকুল জানান, তিনি ১০ জুলাই প্যানেল থেকে সরে দাঁড়ালেও বিষয়টি দিন দশেক গোপন রেখেছিলেন। রাখাইন রাজ্যের সুপারিশ বাস্তবায়ন কমিটি নামের আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্যানেলটি গঠনের পর শুরুতেই হোঁচট খেয়েছিল। কারণ, মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চি থাইল্যান্ডের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুরাকিরাত সাতিরাথাইকে প্যানেলের চেয়ারম্যান ঘোষণা করলেও তিনি দায়িত্ব নেননি। ফলে প্যানেলের সচিব হিসেবে বৈঠক ডাকা, তথ্য সংগ্রহ করা, সমস্যার প্রেক্ষাপট আর পর্যবেক্ষণ নিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে যোগাযোগের প্রস্তুতিমূলক কাজের দায়িত্ব পড়ে কোবস্যাক চুতিকুলের ওপর।

পরামর্শক কমিটির আন্তর্জাতিক পাঁচ সদস্যের অন্যতম বর্ষীয়ান মার্কিন রাজনীতিবিদ বিল রিচার্ডসন রীতিমতো শোরগোল তুলে পদত্যাগ করেন। গত জানুয়ারিতে বিল রিচার্ডসন প্যানেলের প্রথম বৈঠক থেকে সরে দাঁড়ানোর সময় মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চি ও তাঁর এক সাবেক বন্ধুর রাজনৈতিক নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি মন্তব্য করেন, অভিযানকে ধামাচাপা দিতে প্যানেলটি করা হয়েছে। এর উত্তরে সু চির দপ্তর থেকে সে সময় বলা হয়েছিল, নিজস্ব অ্যাজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে চাইছেন বিল রিচার্ডসন। তাই তিনি প্যানেল থেকে সরে দাঁড়ালেই পারেন।

কোবস্যাক চুতিকুল সরে দাঁড়ানোর কারণ ব্যাখ্যা করে জানান, আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্যানেলকে বিদেশি তহবিল কিংবা স্থায়ী দপ্তর প্রতিষ্ঠা করতে নিষেধ করে মিয়ানমার সরকার। পাশাপাশি প্যানেলকে অনলাইনে বৈঠক করতে বলা হয়েছে। সেনাবাহিনীর প্রতিনিধিরা বৈঠকে আসতে অস্বীকৃতি জানান। এ নিয়ে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মন্তব্য করতে চাননি।

কোবস্যাক চুতিকুল বলেন, ‘পরিস্থিতিটা যখন এমন, আমরা তবে বসে বসে কী করছি? নেপিডোতে বসে জমকালো নৈশভোজে অংশ নিচ্ছি, বিমানে চড়ে এখানে–সেখানে ঘুরছি। বিপদটা হচ্ছে, দৃষ্টিটা অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে, সমস্যার সমাধান হচ্ছে বলে একটা ভুল ধারণা দেওয়া হচ্ছে।’

তবে মিয়ানমার মানবাধিকার কমিশনের সদস্য উইন ম্রা অবশ্য কোবস্যাক চুতিকুলের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছেন। উইন ম্রা বলেন, ‘সরকার যে আমাদের সুপারিশ বাস্তবায়ন করছে, সেটা চোখে পড়ে। কাজেই কিছুই হচ্ছে না, এটা আপনি বলতে পারেন না।’

জাতিসংঘ সনদ লঙ্ঘন করেছে মিয়ানমার

রয়টার্স জানায়, রাখাইন রাজ্যে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর অভিযানের সময় জাতিসংঘের শিশু অধিকার সনদের বাধ্যবাধকতাগুলো লঙ্ঘিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিশেষজ্ঞরা। জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোর রোহিঙ্গা-বিষয়ক গবেষণা ও প্রতিবেদনগুলো বিশ্লেষণ করে সেভ দ্য চিলড্রেন নরওয়ের নিয়োগ করা আইন বিশেষজ্ঞরা এক প্রতিবেদনে ওই মন্তব্য করেছেন। আগামী সপ্তাহে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হবে। তবে তার আগে রয়টার্সের হাতে প্রতিবেদনের একটি কপি এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছরের আগস্টের হামলার পরিপ্রেক্ষিতে মিয়ানমার সরকারের প্রতিক্রিয়া এবং রোহিঙ্গাদের ওপর চলমান বৈষম্যের ঘটনাগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, দেশটি শিশু অধিকার রক্ষায় জাতিসংঘের সনদের অন্তত সাতটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত ভঙ্গ করেছে। মিয়ানমার সরকার ও দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীকে এসব লঙ্ঘনের জন্য দায়ী করে প্রতিবেদনে বলা হয়, সেনা অভিযানে সহযোগিতা করতে দেশটির সরকার ‘ইতিবাচক পদক্ষেপ’ নিয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান রোধে সরকারের চেষ্টার কিংবা নিন্দা জানানোর কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

১৯৯১ সালে জাতিসংঘের শিশু অধিকারবিষয়ক সনদে স্বাক্ষর করে মিয়ানমার।

Leave a Reply

৯৭/৩/খ, উত্তর বিশিল, মিরপুর-১, ঢাকা-১২১৬
মোবাইলঃ ০১৭১২-৬৪৩৬৭৩, বার্তা বিভাগঃ ০১৭১২-৬৪৪৩৫০
ইমেইলঃ [email protected], [email protected]

সম্পাদক:
মোঃ সুলতান চিশতী

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ
মহসিন হাসান খান (বুলবুল)

নির্বাহী সম্পাদকঃ
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন

সহকারী সম্পাদকঃ
মোঃ আতোয়ার হোসেন

আইন উপদেষ্টাঃ
শাহিন সরকার


.: Developed By :.
Great IT