১৪ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ৩০শে কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, হেমন্তকাল

সরকারের কাছ থেকে সুবিধা নিয়েও কমছে না সুদের হার

প্রকাশিতঃ মে ২০, ২০১৮, ১:০৩ অপরাহ্ণ


সরকারের কাছ থেকে এ পর্যন্ত চার ধরনের সুবিধা নিয়েছেন বেসরকারি ব্যাংকের মালিকরা। কথা ছিল এসব সুবিধা পেলে সুদের হার এক অঙ্কে নামিয়ে আনার। তবে সে অনুযায়ী ঋণের সুদের হার কমেনি। উল্টো গত ফেব্রুয়ারির চেয়ে মার্চে ব্যাংকিং খাতে সুদের হার বেড়েছে। মূলত, ব্যাংকিং খাতে তারল্য সংকটের কারণে তারা ঋণে সুদের হার কমাতে পারছেন না। এ তারল্য সঙ্কট দূর করতে এখন নতুন করে আরো একটি সুবিধা চাচ্ছে বেসরকারি ব্যাংকগুলো। সরকারি ব্যাংকের অলস অর্থ অল্প সুদে পেতে চাচ্ছে এসব ব্যাংক।
তারল্য সঙ্কটের কারণে সমপ্রতি সুদের হার অনেক বেড়ে গেছে। দেশের সব ব্যাংকের সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিট (১০ শতাংশের নিচে) ছাড়িয়ে ডাবল ডিজিট হয়ে যায়। সুদের হার বাড়তে বাড়তে ২২ শতাংশ পর্যন্ত হয়ে যায়। বেশি সুদের ঋণ নিয়ে ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের করুন অবস্থার মধ্যে পড়তে হয়। ব্যবসায়ীরা বলছেন, এত বেশি সুদ দিয়ে কোন ব্যবসাতেই টিকে থাকা সম্ভব নয়।
অন্যদিকে বেশি সুদে আমানত সংগ্রহ করার ব্যাংকগুলো কম সুদে ঋণ দিতে পারছে না। এ বিষয়ে এনসিসি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী মোসলেহ্ উদ্দীন আহমেদ বলেন, দুই অংকের সুদে আমানত নিয়ে কোনও ব্যাংকই এক অঙ্কের সুদে ঋণ বিতরণ করতে পারবে না। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক এ পর্যন্ত যেসব উদ্যোগ নিয়েছে, তাতে কলমানি রেট কমলেও আমানতে সুদ হার কমাতে কোনও প্রভাব ফেলেনি।
ব্যাংকিং খাতের তারল্য সংকট (নগদ টাকার সংকট) উত্তরণ করে সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনার জন্য সম্প্রতি সরকারের কাছ থেকে চার ধরনের সুবিধা নিয়েছেন বেসরকারি ব্যাংকের মালিকরা। ব্যাংকের উদ্যোক্তাদের  সংগঠন বিএবির চাহিদা অনুযায়ী যেসব সুবিধা দেওয়া হয়েছে সেগুলো হলো, সরকারি আমানতের ৫০ শতাংশ বেসরকারি ব্যাংকে রাখা, সিআরআর এক শতাংশ কমানো, ঋণ আমানতের হার (এডিআর) সমন্বয়সীমার সময় বাড়ানো এবং রেপো রেট ৬ দশমিক ৭৫ শতাংশ থেকে ৬ শতাংশ করা হয়েছে। এসব সুবিধা নেওয়ার পরও এখন পর্যন্ত সুদের হার আগের জায়গাতেই আছে। বরং কোন কোন ক্ষেত্রে বাড়ছে। কবে সুদের হার কমবে সে বিষয়ে এখনো কেউই নিশ্চিত করতে পারছে না।
ব্যাংকিং খাতে তারল্য ও সুদের হারের যখন এই অবস্থা সেসময় বিএবি’র নেতারা আরো একটি সুবিধা চাচ্ছেন। আগের মতই তারা বলছেন, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে ‘অলস’ পড়ে থাকা অর্থ বেসরকারি ব্যাংকগুলোকে ব্যবহার করতে দিলে সুদহার এক অঙ্কে নামিয়ে আনা সম্ভব হবে।
রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর অলস অর্থ (বিভিন্ন বন্ডে রাখা স্বল্প সুদের বিনিয়োগ) নিজেদের ব্যাংকে নিতে চাচ্ছেন বিএবি’র সদস্যরা। এক্ষেত্রে বর্তমানে সরকারি ব্যাংক যে সুদে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে বা বিভিন্ন বন্ডে টাকা রাখছেন একই সুদে বেসরকারি ব্যাংকে টাকা রাখুন সেটা চান তারা। এ বিষয়ে সরকারের হস্তক্ষেপও ইতোমধ্যেই চেয়েছে বিএবি।
বিএবি সভাপতি ও এক্সিম ব্যাংকের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার জানান, রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাংকগুলোতে বিপুল পরিমাণ অলস অর্থ পড়ে রয়েছে। সেই টাকা বেসরকারি ব্যাংক ব্যবহার করতে পারলে সুদের হার দ্রুত কমে আসবে। তবে এই অর্থ কিভাবে বেসরকারি ব্যাংক পাতে সে বিষয়ে নীতিমালা করতে হবে।
জানা গেছে, সমপ্রতি বিএবির নেতারা এ বিষয়ে জরুরি বৈঠক করেছেন। সেখানে ব্যাংকের মালিকরা জানিয়েছেন, আমানতে সুদহার বেশি থাকার কারণে ঋণে সুদহার কমছে না। তারল্য সংকটে বেসরকারি ব্যাংকগুলো এখন ১০ থেকে ১২ শতাংশ সুদে আমানত সংগ্রহ করছে। অন্যদিকে রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাংকগুলো তাদের মোট আমানতের ৫৪ শতাংশ ঋণ হিসেবে বিতরণ করেছে।
নিয়মানুযায়ী, ১৯ শতাংশ কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা রাখার পরও রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাংকগুলোর হাতে ২৭ শতাংশ আমানত অলস পড়ে আছে। যেগুলো ৬ শতাংশ সুদে সরকারের বিভিন্ন বন্ডে বিনিয়োগ রয়েছে। যা বেসরকারি ব্যাংকগুলো আমানত হিসাবে চাইলে অনেক বেশি সুদ দাবি করে বলে অভিযোগ বেসরকারি ব্যাংকগুলোর।
বিএবির বৈঠকে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সরকারি ব্যাংকের অলস অর্থ ৬ শতাংশ সুদে বেসরকারি ব্যাংক যাতে পেতে পারে, সে ব্যাপারে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সঙ্গে আলোচনা করে একটি নীতিমালা তৈরি করা হবে। অচিরেই বিষয়টি নিয়ে বিএবির নেতারা অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করবেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সরকারি, বেসরকারি বা বিদেশি সব খাতের ব্যাংকই ঋণের সুদ বাড়িয়ে দিয়েছে। মার্চ মাসে ৪৪টি ব্যাংক ঋণের সুদ বাড়িয়েছে। দেশের ৫৭টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের মধ্যে সবক’টিতেই এখন দুই অঙ্কের সুদ গুনছেন ব্যবসায়ীরা। বর্তমানে শিল্পঋণ পেতে ব্যবসায়ীদের ২২ শতাংশ পর্যন্ত সুদ গুনতে হচ্ছে।

Leave a Reply

৯৭/৩/খ, উত্তর বিশিল, মিরপুর-১, ঢাকা-১২১৬
মোবাইলঃ ০১৭১২-৬৪৩৬৭৩, বার্তা বিভাগঃ ০১৭১২-৬৪৪৩৫০, সার্কুলেশন বিভাগঃ০১৯১৬০৯৯০২০
ইমেইলঃ [email protected], [email protected]

সম্পাদক:
মোঃ সুলতান চিশতী

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ
মহসিন হাসান খান (বুলবুল)

নির্বাহী সম্পাদকঃ
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন

সহকারী সম্পাদকঃ
মোঃ আতোয়ার হোসেন

আইন উপদেষ্টাঃ
শাহিন সরকার


.: Developed By :.
Great IT