১৫ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ১লা অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, হেমন্তকাল

সরকারি খাদ্যগুদামের চাল-আটা পাচার

প্রকাশিতঃ সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৮, ১০:১৮ পূর্বাহ্ণ


কালোবাজারে বিক্রয় হইতেছিল সরকারি খাদ্যগুদামের পাচার হওয়া চাল-আটা। গত শনিবার রাত্রে তেজগাঁও সরকারি খাদ্যগুদামে র্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালাইয়া দেখিতে পায় যে, কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে শত শত বস্তা চাল-আটা পাচারের উদ্দেশ্যে ট্রাকে তোলা হইতেছে। অন্যদিকে রাত্রেই রাজধানীর মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটে অভিযান চালানো হয়। এইভাবে গত শনিবার রাত্রি হইতে রবিবার ভোর পর্যন্ত অভিযানে মোট ২১৫ মে. টন চাল ও আটা উদ্ধার করা হইয়াছে। যেই সকল আড়তদার এইসব সরকারি পণ্য কিনিয়াছেন তাহারাও এতটাই বেপরোয়া যে, সরকারি চাল-আটার প্যাকেট পর্যন্ত পরিবর্তন না করিয়াই নিজেদের আড়তে সেইগুলি সাজাইয়া রাখিয়াছেন।

রাজধানী ও আশপাশের স্বল্প আয়ের মানুষের মধ্যে সরকার নির্ধারিত মূল্যে বিক্রয়ের জন্য এই চাল ও আটা তেজগাঁও সরকারি খাদ্য গুদামে মজুদ ছিল। প্রতিদিন ঢাকায় ১৪১টি পৃথক স্পটে ১৪১ টন চাল ও ২৮২ টন আটা স্বল্প আয়ের মানুষের মধ্যে ওএমএসের মাধ্যমে বিক্রয় করিবার কথা। অথচ সিএসডির একটি অসাধু চক্র প্রতিদিন প্রায় ২০০ টনের বেশি চাল-আটা কালোবাজারে বিক্রয় করিয়া দিতেছে। এই সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরিয়াই খোলাবাজারে বিক্রয়ের জন্য (ওএমএস) রাখা এই চাল-আটা বাহিরে পাচার করে। ইহার সঙ্গে সিএসডির ম্যানেজারসহ ৪০-৪৫ জনের একটি চক্র জড়িত বলিয়া তথ্য পাইয়াছেন গোয়েন্দারা। সঙ্গে আছেন কয়েকজন বড় আড়তদার, ঠিকাদার ও শ্রমিক নেতা। অসাধু এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে আইনি তদন্ত শুরু করিতে র্যাব প্রতিবেদন পেশ করিবে।

সরকারি খাদ্যগুদামগুলিতে এই ধরনের হরিলুটের খবর মাঝেমধ্যেই সংবাদপত্রে প্রকাশ হইতে দেখা যায়। চুরি করিয়া সরকারি চাল বিক্রয় করিয়া দেওয়া, ভালো মানের চাল পাচার করিয়া সেখানে নিম্নমানের খাওয়ার অযোগ্য চাল কিনিয়া শূন্যস্থান পূরণসহ নানা অনিয়মের খবর আমরা প্রায়শই দেখিতে পাই। গত বত্সরও পত্রিকায় খবর প্রকাশিত হইয়াছিল, খোদ রাজধানীতেই দিনে গড়ে ১১৮ জন ডিলার অন্তত ৩০০ টন চাল-আটা কালোবাজারে বিক্রয় করিয়া প্রায় অর্ধকোটি টাকা হাতাইয়া নিতেছে। ২০১৬ সালে রংপুর খাদ্য গুদাম হইতে চারশত টন চাল গায়েব হইয়াছিল। বিষয়টি জানাজানি হইবার পর নিম্নমানের ২৯৫ টন চাল কিনিয়া গুদামে রাখা হয়। আর ১০৫ টন চালের কোনো হদিসই পাওয়া যায় নাই। গত মাসেই খবর প্রকাশিত হয়, দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া খনি হইতে উত্তোলন করিয়া রাখা ১ লক্ষ ৪৬ হাজার টন কয়লা ‘গায়েব’ হইয়াছে। গায়েব হওয়া এই কয়লার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ২২৭ কোটি টাকার বেশি। যথার্থ কারণেই প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং ক্ষোভ প্রকাশ করিয়া দোষীদের ধরিতে নির্দেশ দিয়াছেন। ইতোমধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশন তদন্ত কমিটিও গঠন করিয়াছে। তাত্পর্যপূর্ণ বিষয় হইল, সরকার এই ব্যাপারে সম্প্রতি আরও কঠোর হইয়াছে। র্যাবের অভিযানে কেন্দ্রীয় খাদ্যগুদামের পাচার চক্রের মূল হোতাদের এইবার শনাক্ত করা গিয়াছে। জানা যায়, কেবল ঢাকায় নহে, সমগ্র দেশেই এই অসাধু চক্রের নেটওয়ার্ক বিস্তৃত। তাহাদের যেই সকল শাখাপ্রশাখা আছে তাহাও শনাক্ত করিয়া কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা আবশ্যক।

Leave a Reply

৯৭/৩/খ, উত্তর বিশিল, মিরপুর-১, ঢাকা-১২১৬
মোবাইলঃ ০১৭১২-৬৪৩৬৭৩, বার্তা বিভাগঃ ০১৭১২-৬৪৪৩৫০, সার্কুলেশন বিভাগঃ০১৯১৬০৯৯০২০
ইমেইলঃ [email protected], [email protected]

সম্পাদক:
মোঃ সুলতান চিশতী

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ
মহসিন হাসান খান (বুলবুল)

নির্বাহী সম্পাদকঃ
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন

সহকারী সম্পাদকঃ
মোঃ আতোয়ার হোসেন

আইন উপদেষ্টাঃ
শাহিন সরকার


.: Developed By :.
Great IT