২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ১১ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, শরৎকাল

শোক ও শ্রদ্ধায় চলছে জাতির জনককে স্মরণ

প্রকাশিতঃ আগস্ট ১৫, ২০১৮, ৬:১২ অপরাহ্ণ


সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে বঙ্গবন্ধু ভবন ও কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারাদেশে সংগঠনের সকল স্তরের কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিত এবং কালো পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে শোক দিবস পালনের কর্মসূচি।

রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের পাড়া-মহল্লায় তাবু টানিয়ে সারারাত চলে খিচুড়ি রান্না। সকালে সেগুলো দুস্থদের মাঝে বিতরণ করা হয়। গত রাত ও আজ (বুধবার) মাইকে বঙ্গবন্ধুর ভাষণসহ বাজানো হচ্ছে দেশাত্মবোধক গান।

দিবসটি পালন উপলক্ষে আওয়ামী লীগ ছাড়াও তার সহযোগী, ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠনগুলোর নেতাকর্মী ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সব সংগঠনের নেতাকর্মীরা আজ কালো ব্যাজ ধারণ করেছেন। কেউ কেউ কালো পাঞ্জাবি-পায়জামা পরে ঘৃণা জানাচ্ছেন ৭৫-এর বিকৃত ও কু-রুচিসম্পন্ন খুনিদের প্রতি।

১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে স্বাধীনতার স্থপতি, মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক ও সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন রাষ্ট্রপতি মো আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বুধবার সকাল ৬টা ৩০ মিনিটে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু জাদুঘরের সামনে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে তারা শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। শ্রদ্ধা নিবেদনের পর তারা কিছু সময় নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে দ্বিতীয়বার শ্রদ্ধা নিবেদন করেন শেখ হাসিনা।

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনের পর এবং তাদের স্থানত্যাগের পর সকলের জন্য বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। এরপর আওয়ামী যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, কৃষক লীগ, শ্রমিক লীগ, তাঁতী লীগ, বঙ্গবন্ধু আইনজীবী পরিষদ, ১৪ দলসহ আওয়ামী লীগের সহযোগী ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠন এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের নেতাকর্মীরা শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

৩২ নম্বরে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা চলে যান বনানীতে। সেখানে শায়িত ১৫ আগস্টের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

এরপর প্রধানমন্ত্রী চলে যান টুঙ্গিপাড়ায়। সেখানে বঙ্গবন্ধুর মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে দুপুরে কোরানখানি, মিলাদ মাহফিল ও দোয়ার আয়োজন করা হয়েছে। দিনভর নানা কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে সেখানে।

সারাদেশে দলীয় নেতাকর্মীরা জাতির জনকের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করে দোয়া, মিলাদ মাহফিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন। গির্জায়, মন্দির ও প্যাগোডায় চলছে বিশেষ প্রার্থনা। টেলিভিশন ও রেডিওগুলো বঙ্গবন্ধুর ওপর বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার করছে।

আলোচনা সভা, দোয়া ও মিলাদ মাহফিল, রক্তদান কর্মসূচি, চিত্রাংকন প্রতিযোগিতাসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান পালনের মধ্য দিয়ে পুরো জাতি আজ শোক দিবস পালন করছে।

১৯৭৫ সালের শোকাবহ এই কালো দিবসে সেনাবাহিনীর কিছু সংখ্যক বিপথগামী সদস্য ধানমন্ডির বাসভবনে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করেন। ঘাতকরা শুধু বঙ্গবন্ধুকেই হত্যা করেননি, তাদের হাতে একে একে প্রাণ হারান বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিনী বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিব, বঙ্গবন্ধুর সন্তান শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শিশু শেখ রাসেলসহ পুত্রবধু সুলতানা কামাল ও রোজি জামাল।

পৃথিবীর এই জঘন্যতম হত্যাকাণ্ড থেকে বাঁচতে পারেননি বঙ্গবন্ধুর অনুজ শেখ নাসের, ভগ্নিপতি আবদুর রব সেরনিয়াবাত, তার ছেলে আরিফ, মেয়ে বেবি ও সুকান্ত, বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে যুবনেতা ও সাংবাদিক, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক শেখ ফজলুল হক মণি, তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আরজু মনি এবং আবদুল নাঈম খান রিন্টু ও কর্নেল জামিলসহ পরিবারের ১৬ জন সদস্য ও ঘনিষ্ঠজন। এ সময় বঙ্গবন্ধুর দু’কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা বিদেশে থাকায় প্রাণে রক্ষা পান।

Leave a Reply

৯৭/৩/খ, উত্তর বিশিল, মিরপুর-১, ঢাকা-১২১৬
মোবাইলঃ ০১৭১২-৬৪৩৬৭৩, বার্তা বিভাগঃ ০১৭১২-৬৪৪৩৫০
ইমেইলঃ [email protected], [email protected]

সম্পাদক:
মোঃ সুলতান চিশতী

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ
মহসিন হাসান খান (বুলবুল)

নির্বাহী সম্পাদকঃ
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন

সহকারী সম্পাদকঃ
মোঃ আতোয়ার হোসেন

আইন উপদেষ্টাঃ
শাহিন সরকার


.: Developed By :.
Great IT