১৪ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ৩০শে কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, হেমন্তকাল

শীর্ষ সোনা চোরাচালানি নাগাল থেকে উধাও

প্রকাশিতঃ জানুয়ারি ৪, ২০১৮, ৬:৪৫ অপরাহ্ণ


পাসপোর্ট ফেলে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে পালিয়ে গেছেন শীর্ষ সোনা চোরাচালানি মতিয়ার রহমান ওরফে খলিল। গত ২৫ ডিসেম্বর সকালে শ্রীলঙ্কা এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে তিনি কলম্বো যাচ্ছিলেন। তাঁর বিদেশ ভ্রমণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

এই মতিয়ার রহমান গত তিন বছরে (২০১৫-১৭ সময়ে) ১৬৫ বার বিদেশে গেছেন। এর মধ্যে মালয়েশিয়ায় ৭৮ বার, আর ভারতে ৬৪ বার। দুবাই, কলম্বো, হংকং ও সিঙ্গাপুরেও তিনি কম যাননি। এতবার বিদেশে গেলেও কখনো তাঁকে কোনো জেরার মুখে পড়তে হয়নি। বরং অভিবাসন পুলিশ সব সময় তাঁকে ছাড় দিয়ে গেছে। এবার মতিয়ার রহমান বিপদে পড়েছেন সিঙ্গাপুরের কারণে। তবে এবারও পুলিশ সময়মতো ব্যবস্থা না নেওয়ায় বিমানবন্দর থেকে পালিয়ে যান তিনি।

বাংলাদেশ হচ্ছে সোনা চোরাচালানের একটি বড় রুট বা পথ। প্রায় প্রতিদিনই পাচার হয়ে আসা সোনা ধরা পড়ছে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিমানবন্দরে। সোনা পাচারের সময় এর বাহকেরা কখনো কখনো ধরা পড়লেও এর মূল মালিক বা অর্থলগ্নিকারী ব্যক্তিরা ধরা পড়েন না। তাঁরা সব সময়ই থাকেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। তবে এই প্রথম সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়ার পরও শীর্ষ এই চোরাচালানিকে পুলিশ ধরতে পারেনি। পুলিশের সূত্রগুলোই সন্দেহ করছে, তাঁকে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে।

ঢাকায় পুলিশ সদর দপ্তরের ইন্টারপোল শাখার (এনসিবি) একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, সিঙ্গাপুর ইন্টারপোল গত বছরের ৩১ আগস্ট সে দেশের পুলিশের করা অবৈধ মুদ্রা পাচারের একটি ঘটনার তদন্তের ব্যাপারে বাংলাদেশকে জানায়। এতে বলা হয়, সিঙ্গাপুরে কাজের অনুমতি পাওয়া শ্রমিক আলাউদ্দিন ও জাহাঙ্গীর আলম ওই বছরের ১৭ জুলাই বিপুল পরিমাণ বিদেশি মুদ্রা নিয়ে সিঙ্গাপুরে ধরা পড়েন। জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা জানান, এই অর্থের মালিক মতিয়ার রহমান নামের এক ব্যক্তি, যিনি সিঙ্গাপুর থেকে সোনার চালান বাংলাদেশে নিয়ে যান। আলাউদ্দিন এর আগেও বিদেশি মুদ্রা নিয়ে সিঙ্গাপুরে আসার কথা সিঙ্গাপুরের পুলিশের কাছে স্বীকার করেন। এরপর সিঙ্গাপুর পুলিশের বাণিজ্যবিষয়ক শাখা এ ঘটনার তদন্ত করে।

সিঙ্গাপুর পুলিশ তদন্ত করে জানতে পারে, মতিয়ার রহমান বিভিন্ন লোকের মাধ্যমে প্রতিনিয়ত বিপুল পরিমাণ বিদেশি মুদ্রা (ডলার) বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশ থেকে সিঙ্গাপুরে নিয়ে আসছেন। এরপর সেই ডলার দিয়ে সোনা কিনে তা আবার বাংলাদেশে পাচার করছেন। মতিয়ারের এই সোনার কারবারের সঙ্গে আলাউদ্দিন ও জাহাঙ্গীর আলম ছাড়াও রেজাউর রহমান, মমিনুর রহমানসহ অনেক লোক জড়িত বলে সিঙ্গাপুর পুলিশ জানতে পারে। সিঙ্গাপুর পুলিশের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, কাগজে-কলমে মতিয়ার ও আলাউদ্দিনের ঢাকায় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান আছে বলে জানালেও সিঙ্গাপুর থেকে সোনার বড় বড় চালান বাংলাদেশে পাচার করাই তাঁদের প্রধান কাজ। দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা এই কাজ করছেন বলে পুলিশের কাছে তথ্যপ্রমাণ রয়েছে।

ইন্টারপোলের এই প্রতিবেদন তদন্তের জন্য পুলিশ সদর দপ্তর থেকে অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সংঘবদ্ধ অপরাধ দমন শাখায় পাঠানো হয়। সিআইডির পক্ষ থেকে অভিবাসন পুলিশের কাছে ওই পাঁচজনের পাসপোর্ট নম্বর দিয়ে তাঁদের আটকের জন্য অনুরোধ করা হয়। এই অবস্থায় ২৪ ডিসেম্বর শ্রীলঙ্কান এয়ারলাইনসের (ইউএল-১৮৯) বিমানযোগে বেলা ১১টা ২০ মিনিটে কলম্বো থেকে ঢাকায় আসেন মতিয়ার। তারপর তিনি নির্বিঘ্নে বিমানবন্দর থেকে বের হয়ে যান।

Leave a Reply

৯৭/৩/খ, উত্তর বিশিল, মিরপুর-১, ঢাকা-১২১৬
মোবাইলঃ ০১৭১২-৬৪৩৬৭৩, বার্তা বিভাগঃ ০১৭১২-৬৪৪৩৫০, সার্কুলেশন বিভাগঃ০১৯১৬০৯৯০২০
ইমেইলঃ [email protected], [email protected]

সম্পাদক:
মোঃ সুলতান চিশতী

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ
মহসিন হাসান খান (বুলবুল)

নির্বাহী সম্পাদকঃ
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন

সহকারী সম্পাদকঃ
মোঃ আতোয়ার হোসেন

আইন উপদেষ্টাঃ
শাহিন সরকার


.: Developed By :.
Great IT