২০শে অক্টোবর, ২০১৮ ইং | ৫ই কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, হেমন্তকাল

শীতে নিমন্ত্রণে

প্রকাশিতঃ জানুয়ারি ৩, ২০১৮, ৭:৩১ পূর্বাহ্ণ


হিম হিম শীত পড়ছে। চারদিকে লেগে গেছে উৎসবের ধুম। এই সময়টাকে বিয়ের মৌসুম ধরা হলেও এখন যুক্ত হয়েছে আরও নানা আয়োজন। যেমন নতুন বছরকে বরণ করে নেওয়া, নানা ধরনের গানের অনুষ্ঠান, বন্ধুদের বার বি কিউ পার্টিসহ আরও কত কি। সব অনুষ্ঠানেই তো আর ভারী সাজপোশাকে যাওয়া যায় না। তবে শীতের মজাটা এখানেই যে এই সময়ে সাজগোজ নিয়ে করা যায় নানা ধরনের পরীক্ষণ।

শাড়ি, গয়না—দুটোতেই ঐতিহ্যের নকশা। শাড়ি: কুমুদিনীশাড়ি, গয়না—দুটোতেই ঐতিহ্যের নকশা। শাড়ি: কুমুদিনীশীতের দিনে িনমন্ত্রণে যেতে পারেন িসল্ক শাড়ি পরে। সঙ্গে থাকতে পারে রূপালী গয়না। এই সাজে আসবে আভিজাত্য, থাকবে ফ্যাশন। সিল্ক, যে শাড়ির বুননের কৌশলেই জমিনের মধ্যে ফুটে ওঠে জমকালো আভা। কোমল, মসৃণ সিল্ক শাড়ি গায়ে জড়ালেই সাজে আসে আভিজাত্যের আমেজ। আবহাওয়ার কারণেই গরমের সময় এই কাপড়টিকে এড়িয়ে যান অনেকে। সাদাকালোর ডিজাইনার তাহসীনা শাহিন বলছিলেন, গরমের সময় আমাদের প্রচুর ঘাম হয়ে থাকে। সিল্ক কাপড় দ্রুত ঘাম শুষে নেয়। এতে করে কাপড়ে দাগ পড়ে যায়, যা সহজে উঠতে চায় না। এ জন্য গরমে খুব একটা স্বাচ্ছন্দ্য দেয় না সিল্ক। তবে শীতের গল্পটা একেবারেই অন্য রকম। এই সময় সিল্ক শুধু স্বাচ্ছন্দ্য দেয় না, ফ্যাশনে তা যোগ করে ভিন্ন মাত্রা।

দাওয়াতে নজর কাড়বে এমন সাজ। শাড়ি: কুমুদিনীদাওয়াতে নজর কাড়বে এমন সাজ। শাড়ি: কুমুদিনীএদিকে সাজগোজের প্রতি যাদের ঝোঁক বেশি তারা নিশ্চয়ই এই বিষয় খেয়াল করেছেন যে অনলাইন আর ফেসবুকে গয়নার দোকানগুলোতে আঙুল বুলালেই চোখে পড়ছে বিভিন্ন ধরনের ধাতবের গয়নায় রুপালি রঙের প্রলেপ। নানা আকৃতির রুপালি বিডস, কাটাই কাজ আর মুক্তার ব্যবহারে এসব গয়না হয়ে উঠছে শৈল্পিক। সিল্কের শাড়ির সঙ্গে অনুষঙ্গ হিসেবে এ ধরনের গয়না পরতেই বেশি পছন্দ করেন অভিনেত্রী মাসুমা রহমান নাবিলা। ‘রুপার গয়নার মধ্যে একটা এথনিক ব্যাপার আছে। আর সিল্কের শাড়ির আভিজাত্য দুইয়ে মিলেই সাজে একটা পরিপূর্ণ ভাব আসে।’ এমনটাই মনে করেন নাবিলা।

রাতের দাওয়াতে সঙ্গে পাতলা চাদর বেছে নিতে পারেন। শাড়ি: অরণ্যরাতের দাওয়াতে সঙ্গে পাতলা চাদর বেছে নিতে পারেন। শাড়ি: অরণ্যকনক দা জুয়েলারি প্যালেসের ডিজাইনার লায়লা খায়ের কনকের কাছে মনে হয়, সাজে একঘেয়েমি ভাবটা কাটাতেই এখন রুপালি প্রলেপের গয়না এত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। কারণ এ অঞ্চলে সব সময় সোনা বা সোনালি রঙা গয়না পরার প্রচলন ছিল। অনুষঙ্গে পরিবর্তন আনতেই এখন রুপালি রঙা গয়নার দিকে অনেকে ঝুঁকছেন। বিশ্বব্যাপী সোনার গয়নার ট্রেন্ড চললেও শুধু এশিয়ায় এখন চলছে রুপালি রঙা গয়নার চল। কখনো সরাসরি রুপার ব্যবহার, কখনো আবার ধাতবের ওপর রুপালি রঙের প্লেটিং করে এসব গয়না তৈরি হচ্ছে। সীতাহার, নেকলেস, লহর চেইন থেকে শুরু করে সবকিছুই এই উপাদানে তৈরি হচ্ছে।

আড়ং, কনক, অরণ্য, রং বাংলাদেশ, অনলাইন শপ সিক্স ইয়ার্ডস স্টোরি, পার্পেল বক্স, কইন্যা, বীরাতে পাওয়া যাবে রুপালি প্রলেপ দেওয়া রুপার গয়না। এদিকে মানের দিক থেকে আমাদের দেশের রাজশাহী সিল্কই সেরা। আড়ং, টাঙ্গাইল শাড়ি কুটির, দেশী দশ, অরণ্য, কুমুদিনী, দোয়েল সিল্কে রয়েছে সিল্ক শাড়ির বিশাল সম্ভার। একরঙা সিল্কের শাড়িতে নকশিকাঁথার ফোঁড় এখন বেশি চলছে। পাশাপাশি আছে ব্লক, বাটিক আর ভেজিটেবল ডাইয়ের নকশা।

সিল্কের শাড়ির সঙ্গে লম্বা হাতার ব্লাউজ। শাড়ি: কুমুদিনীসিল্কের শাড়ির সঙ্গে লম্বা হাতার ব্লাউজ। শাড়ি: কুমুদিনীবিশেষ কোনো অনুষ্ঠানে যাওয়ার জন্য যখন সিল্ক শাড়ি বেছে নেবেন তখন অনুষঙ্গ নির্বাচনেও কিছুটা সচেতন হওয়া জরুরি বলে মনে করেন পারসোনার পরিচালক নুজহাত খান। যেমন একরঙা জমিন, কনট্রাস্ট পাড় বসানো সিল্ক শাড়ির সঙ্গে গয়না ও ব্লাউজ দুটোই জমকালো হওয়া চাই। সঙ্গে রুপার নকশায় মুক্তা বসানো গয়না পরতে পারেন। চুলটা খোলা রেখে নিচের দিকে হালকা কোঁকড়া করলেই পূর্ণ হবে সাজ। সাধারণত দিনের আমন্ত্রণে এই সাজটা ভালো দেখাবে। এদিকে বিয়েবাড়ির দাওয়াতে সিল্কের শাড়ির সঙ্গে উৎসবের আমেজ আনতে লহর দেওয়া রুপার চেইন বেছে নিতে পারেন। হাতে কয়েক গাছি রুপার বালা আর টেনে বাঁধা চুলে ফুলেল সাজ সবার মাঝেই আপনাকে করবে আলাদা। কোনো কোনো আমন্ত্রণে নকশি করা সিল্কের সঙ্গে খাঁটি রুপার গয়না বেশি মানাবে। এদিকে রাতের নিমন্ত্রণে উঁচু করে বাঁধা বা একেবারে টেনে ছেড়ে রাখা চুলটাও ভালো লাগবে। সিল্কের শাড়ি আর রুপার গয়নার সঙ্গে এই সময় কনট্রাস্ট ব্লাউজ বা একদিকে ফেলে রাখা ছোট শাল শীতের নিমন্ত্রণের সাজে আনবে ভিন্নতা।

Leave a Reply

৯৭/৩/খ, উত্তর বিশিল, মিরপুর-১, ঢাকা-১২১৬
মোবাইলঃ ০১৭১২-৬৪৩৬৭৩, বার্তা বিভাগঃ ০১৭১২-৬৪৪৩৫০
ইমেইলঃ [email protected], [email protected]

সম্পাদক:
মোঃ সুলতান চিশতী

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ
মহসিন হাসান খান (বুলবুল)

নির্বাহী সম্পাদকঃ
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন

সহকারী সম্পাদকঃ
মোঃ আতোয়ার হোসেন

আইন উপদেষ্টাঃ
শাহিন সরকার


.: Developed By :.
Great IT