২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ৯ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, শরৎকাল

শিশু জয়ন্তকে খুন করার পর সন্দেহভাজন খুনিই মাইকিং করেন!

প্রকাশিতঃ জুলাই ৭, ২০১৮, ৭:৪৬ অপরাহ্ণ


তিন বছরের শিশু জয়ন্ত নিখোঁজ হওয়ার পর তার খোঁজে মাইকিং করতে গিয়ে কেঁদে ফেলেন আল আমিন। শিশুটির মা-বাবাকে আশ্বাস দেন, জয়ন্তকে নিশ্চয়ই খুঁজে পাওয়া যাবে। সেই আল আমিনই শিশু জয়ন্তকে খুন করার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

জয়ন্তকে নৃশংসভাবে খুন করার চার দিন পর সন্দেহভাজন খুনির নাটকীয় অভিনয়ের বিষয়টি পুলিশের তদন্তে ধরা পড়ে। এ খুনে জড়িত থাকার অভিযোগে সন্দেহভাজন খুনি হিসেবে আল আমিন (১৮) ও নাছির শেখকে (২৬) গ্রেপ্তার করেছে সাভার থানার পুলিশ।

আল আমিন ঢাকার আদালতে জয়ন্তকে খুন করার কথা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। আর নাছির শেখকে চার দিন পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছেন আদালত। পুলিশ বলেছে, আল আমিন তাঁর খালাতো বোনের স্বামী নাছিরকে নিয়ে জয়ন্তকে হত্যা করে। পরে আল আমিন ফোন করে জয়ন্তের বাবার কাছে এক লাখ টাকা মুক্তিপণ চায়।

খুনের শিকার জয়ন্ত বাবুর বাবার নাম সনু বাবু। ঢাকার অদূরে সাভারের তেঁতুলঝোড়া এলাকার আউয়ালের বাড়িতে ভাড়া থাকেন। তাঁর দুই ছেলে। বড় ছেলে জয়ের বয়স সাত বছর। জয়ন্ত বাবুর পরিবার ও পুলিশের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, জয়ন্ত গত রোববার (১ জুলাই) সকাল ৯টার বাসার সামনে খেলছিল। কিন্তু ১০টার পর আশপাশের কোথাও আর তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। তখন সনু বাবু একই বাড়ির ভাড়াটে আল আমিনকে নিয়ে পুরো এলাকায় মাইকিং করে বেড়ান। কিন্তু সন্ধ্যার পরও জয়ন্তের কোনো খাঁজ পাওয়া যায় না। পরে রাতে জয়ন্তের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় তার বাবা সাভার থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এ ঘটনা তদন্ত করার দায়িত্ব দেওয়া হয় সাভার থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আজগার আলীকে।

তদন্ত কর্মকর্তা আজগার আলী প্রথম আলোকে বলেন, জয়ন্তকে পূর্বপরিকল্পনা করে খুন করেছেন আল আমিন ও নাছির শেখ। খুনের আগে গুলিস্তান থেকে একটি পুরোনো মোবাইল সেট ও সিম কেনেন তাঁরা। এই ফোন ব্যবহার করেই জয়ন্তের বাবার কাছে মুক্তিপণের টাকা চাওয়া হয়।এসআই বলেন, একই বাড়িতে বসবাস করার সুবাদে আল আমিনকে আগে থেকে চিনত জয়ন্ত। তাকে চকলেট কিনে দেওয়ার কথা বলে নিজের ঘরে নিয়ে যায় আল আমিন। মোবাইল ফোনে ভিডিও গেমস দেখায়। এরপর নাছির শেখ আর আল আমিন মিলে জয়ন্তকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। রাতে লাশ ব্যাগে ভর্তি করে সাভারের বংশাই নদে ফেলে দিয়ে আসে।

পুলিশ বলছে, জয়ন্তের খোঁজ না পেয়ে তার বাবা সনু বাবু মাইকিং করার সিদ্ধান্ত নেন। তখন দিনের বেলা আল আমিন নিজেই এলাকায় ঘুরে ঘুরে মাইকিং করেন জয়ন্তের জন্য।

জয়ন্তের বাবা মামলার এজাহারে বলেছেন, ১ জুলাই রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে অজ্ঞাত অপহরণকারী মোবাইল ফোনে বলে, ‘আপনার ছেলে আমাদের কাছে আছে, বিকাশ করলে আপনার ছেলেকে ফেরত পাবেন, তা না হলে আপনার ছেলের ক্ষতি হবে।’ পরদিন ২ জুলাই অপহরণকারীদের দেওয়া বিকাশ নম্বরে ৭ হাজার টাকা পাঠান জয়ন্তের বাবা সনু বাবু।

যেভাবে ধরা সন্দেহভাজন খুনিরাক্তিপণ দাবি করার পর পুলিশ কর্মকর্তা আজগার আলী নিজেকে জয়ন্তের বাবার মামা পরিচয় দিয়ে তাদের বাড়িতে যান। সাভার থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সাজ্জাদ হোসেন  বলেন, এসআই আজগার ছদ্মবেশে জয়ন্তদের বাড়িতে যান। আল আমিন তখন বলেছিলেন, অপহরণকারীদের টাকা দিলে জয়ন্তকে খুঁজে পাওয়া সম্ভব। আল আমিনের আচরণ সন্দেহজনক হলে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

জয়ন্তকে কেন খুন করা হয়, সে ব্যাপারে এসআই আজগার বলেন, নাছির শেখ এলাকায় রাজমিস্ত্রির সহকারী হিসেবে কাজ করতেন। আর আল আমিন বেকার। কিছুই করতেন না। টাকা আদায় করার জন্য জয়ন্তকে অপহরণ করেন তাঁরা।

জয়ন্তের মা-বাবা দুজনে সাভারের গার্মেন্টসে চাকরি করেন। জয়ন্তের বাবা সনু বাবু বলেন, ‘আমরা কল্পনাও করিনি যে আল আমিন আমার ছেলে জয়ন্তকে অপহরণ করতে পারে, খুন করতে পারে। জয়ন্তকে যখন খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না, তখন আল আমিন মাইকিং করেছে। জয়ন্তকে খুঁজে পাওয়ার জন্য নানা পরামর্শ দিয়েছে। অথচ আল আমিনই আমার নিষ্পাপ ছেলেকে নির্মমভাবে খুন করেছে। আমি ওদের ফাঁসি চাই।’

Leave a Reply

৯৭/৩/খ, উত্তর বিশিল, মিরপুর-১, ঢাকা-১২১৬
মোবাইলঃ ০১৭১২-৬৪৩৬৭৩, বার্তা বিভাগঃ ০১৭১২-৬৪৪৩৫০
ইমেইলঃ [email protected], [email protected]

সম্পাদক:
মোঃ সুলতান চিশতী

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ
মহসিন হাসান খান (বুলবুল)

নির্বাহী সম্পাদকঃ
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন

সহকারী সম্পাদকঃ
মোঃ আতোয়ার হোসেন

আইন উপদেষ্টাঃ
শাহিন সরকার


.: Developed By :.
Great IT