১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, শরৎকাল

শিবচরে নদীগর্ভে বিলীন ১৭টি স্কুল

প্রকাশিতঃ সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৮, ৫:৫৭ অপরাহ্ণ


দেশের অধিকাংশ চরাঞ্চল যখন সুবিধাবঞ্চিত, তখন সরকারের প্রচেষ্টায় মাদারীপুরের শিবচরের পদ্মা বেষ্টিত চরাঞ্চল ও আড়িয়াল খাঁ তীরবর্তী এলাকার শিক্ষা ব্যবস্থা অবকাঠামো সমতলের সমান হলেও নদীর ভয়ংকর আগ্রাসনে প্রতিবছরই সেইটুকুও কেড়ে নিচ্ছে। শিক্ষা থেকে ছিটকে পড়ছে অনেক শিশু।

চলতি বছর এ পর্যন্ত পদ্মা নদীর কড়াল গ্রাসে ইউনিয়ন পরিষদ, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, হাট, বাজারসহ অন্তত ৬শ ঘর বাড়ির সাথে সাথে গিলে নিয়েছে ৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভবন। এ সকল স্কুল সরিয়ে নেওয়া হয়েছে অন্যত্র। চলতি বছর ৪টি বিদ্যালয়সহ গত ১০ বছরে ১৭ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ শত শত পরিবার বাস্তুহারা হয়েছে।

একাধিক সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর পদ্মা নদীতে ২ দফা পানি বাড়ার সাথে উপজেলার ৪ ইউনিয়ন নিয়ে মূল ভূখন্ড থেকে বিচ্ছিন্ন চরাঞ্চল প্লাবিত হয়ে ভয়াবহ ভাঙ্গন আক্রান্ত হয় চরজানাজাত, বন্দরখোলা ও কাঁঠালবাড়ি ইউনিয়ন। গত ৩/৪ দিনে শতাধিক ঘর বাড়িসহ গত ৩ সপ্তাহে ৪টি বিদ্যালয় ভবন, ৬ শতাধিক ঘরবাড়ি চরজানাজাত ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, কমিউনিটি ক্লিনিক, খাসেরহাটের অর্ধশত দোকান বিলীন হয়।

চরাঞ্চলের চরজানাজাত ইউনিয়নের মাধ্যমিক স্কুল চরজানাজাত ইলিয়াছ আহম্মেদ চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়, আ. মালেক তালুকদার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মজিদ সরকার সরকারি, প্রাথমিক বিদ্যালয়, বন্দরখোলার ৭২ নং নারিকেল বাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি নদীতে বিলীন হয়।

ভাঙ্গনের তীব্রতায় অনেক স্কুল ঘর বাড়ি সরিয়ে নেওয়ারও সময় পায়নি কর্তৃপক্ষ। স্কুলগুলো অন্যত্র কোনোমতে শিক্ষা কার্যক্রম চালাচ্ছে। এর আগে গত বছর একটি মাদরাসা ও ২টি প্রাথমিক স্কুল ভবন নদীতে বিলীন হয়। ২০১৬ সালে ৩০ নং পূর্ব খাসচর বন্দরখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতল ভবন বিলীন হয়। ২০১৫ সালে একই ইউনিয়নের ১টি ৩ তলা ভবন, ২টি দ্বিতল ভবনের প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ ৫টি বিদ্যালয় নদীগর্ভে বিলীন হয়।

গত ১০ বছরে এ উপজেলায় ১৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ প্রায় সাড়ে ৬ হাজার পরিবার নদী ভাঙ্গনে আক্রান্ত হয়ে নিঃস্ব হয়। একসাথে স্কুল ও বসতভিটা হারিয়ে অনেক শিশু কিশোর শিক্ষা থেকে ঝড়ে পড়ছে।

চরজানাজাত ইউনিয়নের ইউপি সদস্য আ. মালেক তালুকদার বলেন, দেশের অন্যান্য চরের চাইতে আমাদের সংসদ সদস্যর নিরলস পরিশ্রমে আমাদের চরগুলো অনেক আধুনিক ছিল। বড় বড় ভবনের স্কুল, পাকা রাস্তা, ইউনিয়ন পরিষদ, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সবই ছিল। কিন্তু প্রতি বছরের ভাঙ্গনে আমরা এখন নিঃস্ব। এ বছরই ৪টি স্কুল, ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, হাট বাজারসহ শত শত ঘর বাড়ি নদীতে বিলীন হয়েছে। আমরা ভাঙ্গন প্রতিরোধ চাই।

ভাঙ্গন আক্রান্ত ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুলতান মাহবুব বলেন, পদ্মার বিচ্ছিন্ন চরাঞ্চল হলেও শিবচরের চরগুলো ছিল আধুনিক। প্রতিটি স্কুলেই ছিল ভবন। কিন্তু এ বছরই আমার স্কুলসহ ৪টি স্কুল ভবন নদীতে চলে গেছে। এতে স্বাভাবিক ভাবেই শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। অনেক শিক্ষার্থী ঝরে পড়ছে। চরাঞ্চল রক্ষায় স্থায়ী বাধ দরকার।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরান আহমেদ বলেন, পদ্মা ও আড়িয়াল খাঁ তীরবর্ত্তী শিবচরের ৮টি ইউনিয়ন। চলতি বছর পদ্মা নদী ভাঙ্গন আক্রান্ত হয়েছে ৩টি ইউনিয়ন। এ পর্যন্ত ৪টি স্কুল, ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, হাট বাজার, পাকা রাস্তাসহ ৬-৭শতাধিক ঘরবাড়ি আক্রান্ত হয়েছে। গত ১০ বছরে১৭ টি স্কুল নদীতে বিলীন হয়েছে।

Leave a Reply

৯৭/৩/খ, উত্তর বিশিল, মিরপুর-১, ঢাকা-১২১৬
মোবাইলঃ ০১৭১২-৬৪৩৬৭৩, বার্তা বিভাগঃ ০১৭১২-৬৪৪৩৫০
ইমেইলঃ [email protected], [email protected]

সম্পাদক:
মোঃ সুলতান চিশতী

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ
মহসিন হাসান খান (বুলবুল)

নির্বাহী সম্পাদকঃ
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন

সহকারী সম্পাদকঃ
মোঃ আতোয়ার হোসেন

আইন উপদেষ্টাঃ
শাহিন সরকার


.: Developed By :.
Great IT