১৩ই ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং | ২৯শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, হেমন্তকাল

শিক্ষক সমিতির এক অংশের মানববন্ধন, অন্য অংশের প্রত্যাখান

প্রকাশিতঃ সেপ্টেম্বর ১৮, ২০১৮, ৭:০৭ অপরাহ্ণ


বরিশাল বিশ্বদ্যিালয়ের রেজিস্টার মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে শিক্ষক সমিতির সম্পাদকের আহ্বান করা মানববন্ধনে অংশ নেননি অধিকাংশ শিক্ষক। সমিতির ১৫ সদস্য বিশিস্ট কমিটির ১০ জনই ছিলেন মানববন্ধনের বিপরীতে।

তাদের দাবি, ভৌতিক অভিযোগে রেজিস্টারের বিরুদ্ধে এই মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। তাই তা প্রত্যাখান করেছে সাধারণ শিক্ষকসহ শিক্ষক নেতারা।

তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর বলেন, রেজিস্টারের বিরুদ্ধে এক চাকুরি প্রত্যাশীর সাথে এ্যাডাল্ট চ্যাটিং এর অভিযোগ রয়েছে। আমরা এর সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করে মানববন্ধন করেছি। এটা তার বিপক্ষে কিংবা পক্ষে নয়। যদি তদন্তে বিষয়টি প্রমাণিত হয় তবে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা আর না হলে ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণই আমাদের দাবি। তবে শিক্ষক এবং সিংহভাগ শিক্ষক নেতাদের কর্মসূচিতে না থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা কর্মসূচি আহ্বান করেছি এবং সকলকে অংশগ্রহণের জন্য চিঠিও দিয়েছি। সভাপতি ব্যক্তিগত কাজের কথা বলেছেন আর বাকিদের ক্লাস ছিলো তাই আসেনি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির তিনজন সদস্য বলেন, রেজিস্টার মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে যে এ্যাডাল্ট চ্যাটের সিডিটি বিশ্ববিদ্যালয়সহ মিডিয়াঙ্গণে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে তা সম্পূর্ণ ফেক। মনিরুল ইসলামকে ফাঁসানোর জন্য সেখানে এ্যাডিটিং করে উপস্থাপন করা হয়েছে। এরপর শিক্ষক সমিতির সম্পাদক সম্প্রতি একটি সভা আহ্বান করেছিল মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে মানববন্ধন কর্মসূচি দিতে। আর তার বিরোধিতা করেছিল সেখানে উপস্থিত সিংহভাগ সদস্য। কেবল সম্পাদক জাফরসহ আর দুইজন সদস্য এরপক্ষে মত দেন। তখন সিদ্ধান্ত ছাড়া সভা শেষ হয়। এরপরও তিনি গতকাল উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে মানববন্ধন করেছেন। যাতে সমিতির সভাপতিসহ অধিকাংশ নেতারাই অংশ নেননি। একইরুপ সাধারণ শিক্ষক কেউই এ মানববন্ধনে আসেননি।

সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি ১৫ সদস্য বিশিষ্ট। এর মধ্যে দুইজন উন্নত ডিগ্রির জন্য দুইজন দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। বাকি ১৩ জনের দুইজন মানববন্ধন কর্মসূচি ঘোষণা দেওয়ার পর থেকে ছুটিতে রয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকলেও কর্মসূচিতে ছিলেন না সমিতির সভাপতি ইব্রাহিম মোল্লা, যুগ্ম-সম্পাদক মারুফ কায়সার, ট্রেজারার সমীর রায়, সদস্য মাসুম সিকদার, মোস্তাফিজুর রহমানসহ ৬জন। তবে মানববন্ধনের আয়োজক কার্যকরী কমিটির বাকি ৫ জন সদস্যর মধ্যে সহ-সভাপতি হেনা রানী বিশ্বাস ও সাধারণ সম্পাদক আবু জাফরকে মানববন্ধন কর্মসূচিতে দেখা গেলেও বাকি তিনজন কর্মসূচির একেবারে শেষে এসেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি সভাপতি ইব্রাহিম মোল্লা বলেন, আমার জরুরি কাজ ছিলো। তাই মানববন্ধনে ছিলাম না। আর রেজিস্টারের বিরুদ্ধে যে অভিযোগে মাননববন্ধনটি অনুষ্ঠিত হয়েছে তা ভিত্তিহীন।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, সম্পূর্ণ ভিত্তহীন অভিযোগে আমাকে জড়িয়ে একটি এ্যাডাল্ট চ্যাটিং এর সিডি কে বা কারা বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠিয়েছে শুনেছি। তাই নিয়ে শিক্ষক সমিতির ব্যানারে মানববন্ধন করেছে কয়েকজন শিক্ষক। যা একেবারেই উদ্দেশ্য প্রণোদিত।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম ইমামুল হক বলেন, আমার কাছে শিক্ষক সমিতি রেজিস্টার মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েছে। আমি অভিযোগটি তদন্ত করে সত্যতা যাচাইয়ের জন্য তদন্ত কমিটি গঠন করার নিশ্চয়তা দিয়েছি। এরপরও তারা কেন মানববন্ধন করলো তা বোধগম্য নয়।

Leave a Reply

এই বিভাগের আরো খবর

৯৭/৩/খ, উত্তর বিশিল, মিরপুর-১, ঢাকা-১২১৬
মোবাইলঃ ০১৭১২-৬৪৩৬৭৩, বার্তা বিভাগঃ ০১৭১২-৬৪৪৩৫০, সার্কুলেশন বিভাগঃ০১৯১৬০৯৯০২০
ইমেইলঃ [email protected], [email protected]

সম্পাদক:
মোঃ সুলতান চিশতী

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ
মহসিন হাসান খান (বুলবুল)

নির্বাহী সম্পাদকঃ
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন

সহকারী সম্পাদকঃ
মোঃ আতোয়ার হোসেন

আইন উপদেষ্টাঃ
শাহিন সরকার


.: Developed By :.
Great IT