১৮ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ৪ঠা অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, হেমন্তকাল

‘শত্রুদের’ দুষছে ইরান

প্রকাশিতঃ জানুয়ারি ৩, ২০১৮, ১:৪৮ অপরাহ্ণ


ইরান পরিস্থিতির ক্রমেই অবনতি ঘটছে। বাড়ছে প্রাণহানি। সংঘর্ষ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও বাড়ছে ব্যাপক হারে। গত সোমবার রাতে বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভের সময় সংঘর্ষে অন্তত ৯ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। বৃহস্পতিবার শুরু হওয়া অস্থিতিশীলতায় এখন পর্যন্ত প্রাণহানির সংখ্যা দাঁড়াল অন্তত ২১ জনে।

বিক্ষোভের ষষ্ঠ দিনের মাথায় এ নিয়ে মুখ খুললেন ইরানের সর্বোচ্চ আধ্যাত্মিক নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। তিনি চলমান বিক্ষোভের জন্য ইরানের ‘শত্রুদের’ দায়ী করেছেন। আর দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তারা উত্তেজনার জন্য বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া মন্তব্যে পরোক্ষভাবে দায়ী করছেন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও সৌদি আরবকে।

গতকাল মঙ্গলবার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের খবরে বলা হয়, সোমবার রাতে বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ শুরু হয়। ইস্পাহান অঞ্চলের কাহদেরিজান শহরে বিক্ষোভকারীরা একটি পুলিশ স্টেশনে হামলা চালানোর চেষ্টা করে। তখন সংঘর্ষে ৬ বিক্ষোভকারী নিহত হয়। খোমেনিশহরে ১১ বছরের এক কিশোর এবং ২০ বছরের এক যুবক মারা গেছেন। আর নাজাফাবাদ শহরে রেভল্যুশনারি গার্ড বাহিনীর এক সদস্যকে হত্যা করা হয়েছে। খোমেনিশহর ও নাজাফাবাদে তিনজনকে গুলি করে মারা হয়েছে।

শিকারের জন্য ব্যবহৃত রাইফেল দিয়েই লোকজনকে গুলি করা হচ্ছে বলে দাবি করা হয় রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের খবরে। তবে এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করতে পারেনি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো।

সরকারবিরোধী বিক্ষোভের ঘটনায় গত তিন দিনে শুধু তেহরানে অন্তত ৪৫০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, বেকারত্ব ও দেশটিতে চলমান অর্থনৈতিক বৈষম্যের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার থেকে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে ফুঁসছে ইরান। দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মাশহাদে প্রথম বিক্ষোভের সূচনা হয়। এরপর রাজধানী তেহরান, কেরমানশাহসহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এই বিক্ষোভের লক্ষ্য ক্ষমতাসীন ধর্মীয় নেতারা।

গতকাল রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক বিবৃতিতে খামেনি বলেন, ‘ইরানে সংকট সৃষ্টি করতে শত্রুরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। তারা অর্থ, অস্ত্র, নীতি, নিরাপত্তা কৌশলসহ সবকিছু ব্যহার করছে। তারা সব সময় ইরানের বিরুদ্ধে সুযোগের সন্ধানে থাকে।’

এদিকে দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সেক্রেটারি আলী শামখানি দাবি করেছেন, চলমান অস্থিতিশীলতা ইরানে জনগণের বিরুদ্ধে ‘ছায়া যুদ্ধ’। পরিস্থিতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া হ্যাশট্যাগ ও অনলাইন বার্তাগুলো মূলত যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও সৌদি আরব থেকে এসেছে।

আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ

অব্যাহত বিক্ষোভ, প্রাণহানি ও স্থাপনা ভাঙচুরের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও তুরস্ক। তুর্কি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরানে বিক্ষোভের ঘটনায় তুরস্ক উদ্বিগ্ন। উত্তেজনা যাতে ছড়িয়ে না পড়ে সে জন্য সবাইকে সচেতনভাবে আচরণ করতে হবে। আর জনগণের ক্ষোভ প্রকাশের অধিকার নিশ্চিত করতে ইরানি কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ইইউ।

বিক্ষোভের ছয় দিন

বিক্ষোভ শুরু বৃহস্পতিবার

দাবি

প্রেসিডেন্ট রুহানি

ও সর্বোচ্চ নেতা খামেনির বিদায়

নিহত

গত তিন দিনে

অন্তত ২১ জন

আটক

অন্তত ৪৫০ জন

ইরানের অভিযোগ

সৌদি আরব,

যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র ইন্ধন দিচ্ছে

Leave a Reply

৯৭/৩/খ, উত্তর বিশিল, মিরপুর-১, ঢাকা-১২১৬
মোবাইলঃ ০১৭১২-৬৪৩৬৭৩, বার্তা বিভাগঃ ০১৭১২-৬৪৪৩৫০, সার্কুলেশন বিভাগঃ০১৯১৬০৯৯০২০
ইমেইলঃ [email protected], [email protected]

সম্পাদক:
মোঃ সুলতান চিশতী

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ
মহসিন হাসান খান (বুলবুল)

নির্বাহী সম্পাদকঃ
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন

সহকারী সম্পাদকঃ
মোঃ আতোয়ার হোসেন

আইন উপদেষ্টাঃ
শাহিন সরকার


.: Developed By :.
Great IT