১৮ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ৪ঠা অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, হেমন্তকাল

‘লোভে পাপ পাপে মৃত্যু’

প্রকাশিতঃ অক্টোবর ১৪, ২০১৮, ১১:৫৮ পূর্বাহ্ণ


লোভ মানুষের এক স্বভাবজাত বিষয়। স্বভাব ও চরিত্রের অন্যান্য মন্দ বিষয়ের মতো এ লোভকেও তাই নিয়ন্ত্রণ করতে হয়। নিয়ন্ত্রণহীন লোভ পরিণতিতে ধ্বংস ডেকে আনবেই। লোভ যে কতটা ভয়াবহ পরিণতির মুখে আমাদের দাঁড় করিয়ে দিতে পারে এর নজির তো আমরা প্রতিদিনই পাই। আমাদের পত্রিকার পাতাগুলোতে অন্য কিছুর সংবাদ থাকুক আর না থাকুক, লোভের এ জঘন্য পরিণতির কথা থাকাটা যেন অনিবার্য হয়ে পড়েছে। যত দুর্নীতি, সবকিছুর মূলেই তো এ মরণব্যাধি লোভ। এইডসের মতোই একটি ঘাতক ব্যাধি লোভ। ক্ষমতার দাপটে, অর্থ-বিত্তের দাপটে, পদমর্যাদার দাপটে মানুষ নির্দ্বিধায় এ লোভকে কাজে লাগায়। ওঠাবসা, চলাফেরায় দুর্নীতিই হয় তার সঙ্গী। এ সঙ্গলাভের ফল হিসেবে দুনিয়ার আদালতেই তাকে দাঁড়াতে হয় আসামির কাঠগড়ায়। যে যত দাপটের সঙ্গেই দুর্নীতি করে যাক, দুর্নীতির জাল সে যতদূরই ছড়িয়ে দিক, এ পৃথিবী তাকে আসামি বানিয়েই ছাড়ে। এটাই স্বাভাবিকতা।
আসল কথা কী, লোভ মানুষকে অন্ধ করে দেয়। বিবেক-বুদ্ধি-বিবেচনা সেখানে বেকার। তাই তো আমরা দেখি, দুর্নীতির যত অভিযোগ, সবই সম্পদশালীদের বিরুদ্ধে। বরং যে যত বেশি দুর্নীতিপরায়ণ, সে ততটাই সম্পদশালী। এই জগতে হায়, সেই বেশি চায়, যার আছে ভূরি ভূরি।
হজরত রাসুলে কারিম (সা.) এ বিষয়টি আমাদের সামনে স্পষ্ট করেছেন এভাবেÑ আদমসন্তানের যদি দুই উপত্যকা পরিমাণ স্বর্ণ থাকে, তাহলে সে কামনা করেÑ তার যদি আরেকটি উপত্যকা পরিমাণ স্বর্ণ থাকত! মাটি ছাড়া কোনো কিছুই তার মুখ পূর্ণ করতে পারবে না! (জামে তিরমিজি, হাদিস-২৩৩৭)।
লোভের একটা স্তর তো এমনÑ কেউ অর্থসম্পদের পেছনেই তার জীবনকে ব্যয় করে দিল। নাওয়া-খাওয়া জীবনের সুখ-আরাম ভুলে গিয়ে কেবলই টাকা আর টাকা! অধিক সম্পদ উপার্জনের লোভে যে এভাবে নিজেকে, নিজের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যকে বিলিয়ে দেয়, নিজের উপার্জিত টাকা সে আর ভোগ করে যেতে পারে না। এখানে অবশ্য ব্যক্তি কেবল তার নিজের আরামকেই হারাম করে, অন্য কেউ তার দ্বারা আক্রান্ত হয় না।
লোভের আরেকটি স্তর হচ্ছেÑ নিজের সম্পদ বৃদ্ধির জন্য অন্যকে আক্রান্ত করা, প্রভাব খাটিয়ে কিংবা কোনো কৌশলে অন্যের সম্পদ হাতিয়ে নেওয়া। লোভের উপরোক্ত প্রথম স্তরটিও প্রশংসনীয় নয় মোটেও, কিন্তু দ্বিতীয় স্তরটি সম্পূর্ণই হারাম। বলে-কয়ে হোক আর গোপন চক্রান্তের মাধ্যমে হোক, সর্বক্ষেত্রেই তা নিন্দনীয়, অবৈধ। এ লোভই মানুষের পতন ডেকে আনে। দাপট হয়তো কিছুকাল তাকে সঙ্গ দেয়। কিন্তু একসময় তাকে পতনের মুখে পড়তেই হয়।
তবে এটাও অনস্বীকার্যÑ জীবনে চলতে গেলে টাকা লাগেই। রাসুলুল্লাহ (সা.) তাই সমাধান দিচ্ছেনÑ হে লোকসকল! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং উপার্জনে সহজতা অবলম্বন কর। জেনে রেখ, যতক্ষণ পর্যন্ত কেউ তার জন্য নির্ধারিত রিজিক পূর্ণ না করে ততক্ষণ তার কিছুতেই মৃত্যু হবে না। একটু দেরিতে হলেও তা তার কাছে পৌঁছবেই। তাই আল্লাহকে ভয় কর। উপার্জনে সহজতা অবলম্বন কর। হালাল যতটুকু তা গ্রহণ কর, আর যা কিছু হারাম তা বর্জন কর। (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস-২১৪৪)।
এ হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাদের লোভের দুটি স্তর থেকেই বেঁচে থাকার পথ নির্দেশ করেছেন। তিনি একদিকে উচ্চারণ করছেন আশ্বাসবাণীÑ তোমার জন্যে আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে যতটুকু রিজিক নির্ধারিত, তা তুমি পাবেই। যতক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণরূপে তুমি তা ভোগ না করবে ততক্ষণ তোমার মৃত্যু হবে না। এ বিশ্বাস বুকে ধারণ করে তুমি আল্লাহকে ভয় করে চলো আর সহজে যতটুকু সম্ভব উপার্জনের চেষ্টা কর। উপার্জনের পেছনে পড়ে তুমি তোমার জীবনকে নিঃশেষ করে দিয়ও না। এ জীবন অনেক মূল্যবান; একে কাজে লাগিয়েই তোমাকে অর্জন করতে হবে মৃত্যু-পরবর্তী অনন্ত জীবনের পাথেয়। দ্বিতীয়ত তিনি বলেছেন, উপার্জন করতে গিয়ে হালাল-হারাম দুটি পথেরই তুমি সন্ধান পাবে। আল্লাহকে ভয় করে সর্বপ্রকার হারাম থেকে তুমি বেঁচে থেক। হালাল পন্থায় যতটুকু সম্ভব হয় ততটুকুই তুমি অবলম্বন কর। হয়তো একটু বিলম্ব হবে, কিন্তু তোমার নির্ধারিত রিজিক তোমার কাছে আসবেই।
দুনিয়াতে যেমন লোভ একরাশ মন্দত্বের সূচনা করে, একইভাবে তা দ্বীন-ধর্ম ও পরকালকেও বরবাদ করে দেয়। ওই যে বলে এলাম, লোভ মানুষকে অন্ধ করে দেয় এবং তার বিবেক-বুদ্ধি হারিয়ে যায়, ওই সময়ে সে যা কিছুই করে, বিবেকের কাঠগড়ায় আসামিরূপে তাকে দাঁড়াতে হয় না। তখন তার কাছে কোনো অপরাধই অপরাধ মনে হয় না। সেসময় যেমন সে কালো টাকা হাতিয়ে নিতে থমকে দাঁড়ায় না, ঠিক তেমনি প্রয়োজন হলে দ্বীন-ধর্ম উপেক্ষা করতে, এমনকি কখনও ছেড়ে দিতেও কুণ্ঠাবোধ করে না। সম্পদের নেশায়, সচ্ছল জীবন লাভের আশায় আমাদের এ দেশেই তো কত মানুষ খ্রিস্টান মিশনারিদের পাতা জালে জড়িয়ে যাচ্ছে! নবীযুগের একটি দৃষ্টান্ত দিই। রাসুলে কারিম (সা.) তখন মদিনায়। সেসময় নাজরান ছিল খ্রিস্টানদের এলাকা। সেখান থেকে ৬০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল রওনা দিল রাসুলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য। তাদের মধ্যে তিনজন ছিলেন খুবই গণ্যমান্য। একজন ছিলেন সর্বাধিক বিজ্ঞ, যে কোনো কাজে অন্যরা তার পরামর্শই মেনে চলত। আরেকজন ছিলেন তাদের আলেম। তৃতীয়জন ছিলেন পাদ্রি এবং তাদের ধর্মীয় নেতা। তার নাম আবু হারেসা। অনন্য মর্যাদার অধিকারী এক ব্যক্তি। তৎকালীন পরাশক্তি খ্রিস্টান রাষ্ট্র রোমও তাকে অনেক মর্যাদার আসনে আসীন করেছিল। তাকে ধনসম্পদে ভরে তুলেছিল। তার জন্য তারা গির্জা বানিয়ে দিয়েছিল। খ্রিস্টান ধর্মে তার জ্ঞান ও পারদর্শিতায় রোমবাসী ছিল যারপরনাই মুগ্ধ। যাই হোক, এ কাফেলা যখন নাজরান থেকে মদিনা অভিমুখে রওয়ানা হলো, তখন হঠাৎ করেই আবু হারেসাকে বহনকারী খচ্চরটি তাকে নিয়ে পড়ে গেল। তখন পাশে থাকা তার সহোদর কুরয বলে উঠল : মুহাম্মাদ ধ্বংস হোক। আবু হারেসা তখন শাসিয়ে তাকে বললেন, তুমি ধ্বংস হও! অবাক হয়ে র্কুয তার কাছে জানতে চাইলÑ কেন ভাই? আবু হারেসা বললেন, আল্লাহর কসম, তিনিই তো সেই নবী, আমরা যার জন্যে প্রতীক্ষমাণ। র্কুযের পাল্টা প্রশ্নÑ আপনি যদি তা জেনেই থাকেন, তাহলে কেন আপনি তার আহ্বানে সাড়া দিচ্ছেন না? আবু হারেসার সোজা জবাবÑ এই যে রোমবাসী আমাদের এত সম্মান করছে, আমাদের নেতা বানিয়ে রাখছে, অর্থ-কড়ি দিচ্ছে, এই খ্রিস্টধর্ম অনুসরণ না করলে তো তারা এগুলো করবে না। আমি যদি ইসলাম গ্রহণ করি তাহলে তারা এ অর্থসম্পদ, ইজ্জত-সম্মান সবই ফিরিয়ে নিয়ে যাবে।… (আলমুজামুল আওসাত, তবারানী, হাদিস-৩৯০৬; আলবিদায়া ওয়ান নিহায়া ৩/৬৬৫ (৩/৪২)। আহলে নাজরানের প্রতিনিধি দল শিরোনাম দ্রষ্টব্য; তাফসিরে রাযি, সূরা আলে ইমরানের প্রারম্ভিক আলোচনা দ্রষ্টব্য)।
এ তো খ্রিস্টানদের একটি দল কিংবা বিশেষ একজন ব্যক্তির ঘটনা। কিন্তু পবিত্র কোরআনের একাধিক স্থানে ব্যাপকভাবেই আহলে কিতাব তথা ইহুদি-খ্রিস্টানদের এ চরিত্রের কথা বলা হয়েছেÑ সত্যি, যারা আল্লাহর (সঙ্গে কৃত) অঙ্গীকার ও নিজেদের শপথের বিনিময়ে তুচ্ছমূল্য গ্রহণ করে, পরকালে তাদের কোনো অংশ নেই; এবং আল্লাহ তাদের সঙ্গে কথা বলবেন না, কিয়ামতের দিন তাদের দিকে তাকাবেন না এবং তাদের পরিশুদ্ধ করবেন না; আর তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। (সুরা আলে ইমরান : ৭৭)।
তাওরাত ও ইঞ্জিলে যে শেষ নবীর আগমনের কথা বলা হয়েছে, হজরত রাসুলে কারিম (সা.)-ই যে সে শেষ নবী, এ নিয়ে ইহুদি-খ্রিস্টানদের কোনো সন্দেহ ছিল না। আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা করছেনÑ যাদের আমি কিতাব দিয়েছি, তারা তাঁকে চিনে, যেমন তারা তাদের ছেলেসন্তানদের চেনে। আর তাদের একটি দল জেনেশুনেই সত্যকে লুকিয়ে রাখছে। (সূরা বাকারা : ১৪৬)।
প্রথম জীবনে ইহুদি আলেম থেকে পরবর্তী জীবনে বরেণ্য সাহাবি হয়ে ওঠা হজরত আবদুল্লাহ ইবনে সালাম (রা.)-কে হজরত উমর (রা.) জিজ্ঞেস করেছিলেনÑ আপনি কি মুহাম্মদ (সা.) কে আপনার ছেলের মতোই চেনেন? তিনি উত্তরে বলেছিলেনÑ তাঁর প্রতি আমার বিশ্বাস বরং আমার ছেলের চেয়েও বেশি। আল্লাহ তায়ালা হজরত জিবরিল আলাইহিস সালামকে হজরত মুসা আলাইহিস সালামের কাছে হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বৈশিষ্ট্যাবলিসহ পাঠিয়েছিলেন। সেসব বৈশিষ্ট্যের আলোকেই আমি তাঁকে চিনতে পেরেছি। কিন্তু আমার ছেলের বিষয়ে তো আমার নিশ্চিত জানা নেই, তার মা কী করেছে! (দ্র. তাফসীরে কুরতুবি, তাফসিরে ইবনে কাসির, সূরা বাকারা, আয়াত ১৪৭-এর অধীনে)।
তারা সুনিশ্চিতভাবেই চিনতেনÑ মুহাম্মদ আল্লাহর রাসুল, তওরাত-ইঞ্জিলে বর্ণিত শেষ নবী। হজরত মুসা ও ঈসা আলাইহিস সালামকে সমর্থনকারী তিনিই সেই রাসুল। অথচ নিজেদের নেতৃত্ব হারানোর আশঙ্কায়, পার্থিব সম্পদের লোভে তারা ইসলাম গ্রহণ করেনি। হজরত রাসুলে কারিম (সা.) কে নবী ও রাসুল হিসেবে মেনে নেয়নি। এভাবেই দুনিয়ার প্রতি লোভ তাদের দ্বীন ও আখেরাত বরবাদ করে দিয়েছিল। এ ধারা এখনও চলমান। অধিক সম্পদ উপার্জনের নেশায় হালাল-হারামের বাছ-বিচার না করা, ধর্মীয় বিধিবিধানের তোয়াক্কা না করার দৃষ্টান্ত আমরা যেদিকে তাকাই সেদিকেই পাই। আল্লাহ তায়ালার আদেশ চিরন্তনÑ আল্লাহর সঙ্গে করা অঙ্গীকার তুচ্ছমূল্যে বিক্রি কর না। তোমরা যদি প্রকৃত সত্য উপলব্ধি কর তাহলে আল্লাহর কাছে যে প্রতিদান আছে তোমাদের জন্য তা-ই শ্রেয়। তোমাদের কাছে যা আছে তা নিঃশেষ হয়ে যাবে আর আল্লাহর কাছে যা আছে তা স্থায়ী। যারা সবর করে আমি তাদের উৎকৃষ্ট কাজ অনুযায়ী অবশ্যই তাদের প্রতিদান দেব। (সূরা নাহল : ৯৫-৯৬)।
মানুষ যেমন সম্পদের প্রতি লোভ করে, তেমনি মর্যাদা ও সম্মানের প্রতিও লোভ করে। পদমর্যাদার প্রতি লোভ কখনও সম্পদের লোভের চেয়েও ভয়ানক হয়ে পড়ে। এ মর্যাদা পার্থিব বিষয় নিয়েও হতে পারে, হতে পারে দ্বীনি বিষয়েও। যেখানেই হোক, যেভাবেই হোক, এ লোভও মানুষের পতন ত্বরান্বিত করবেই। জাগতিক বিভিন্ন ক্ষেত্রে সম্মান ও মর্যাদার আসন চেয়ে নিয়ে মানুষকে যে কতটা অপমান আর অসম্মান সঙ্গে করে সে পদ থেকে নেমে যেতে হয় তা তো আমাদের চোখে দেখা এক বাস্তবতা। হজরত রাসুলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণীÑ হে আবদুর রহমান ইবনে সামুরা! তুমি কখনোই নেতৃত্ব চেয়ো না। কারণ তুমি যদি চাওয়ার পর তা পাও তাহলে এর পুরো দায়িত্ব তোমার ওপরই ন্যস্ত করা হবে। আর না চেয়ে যদি তুমি তা পাও তাহলে (আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে) তোমাকে সে দায়িত্ব পালনে সাহায্য করা হবে। ( বোখারি, হাদিস-৬৬২২)।
মর্যাদার প্রতি লোভেরই একটি দিকÑ মানুষের প্রশংসা শুনতে চাওয়া। এটাও মানুষের একটা স্বভাবজাত বিষয়। অন্যরা যখন প্রশংসা করে তা শুনতে ভালো লাগে। কিন্তু সংকট হয় তখন যখন কেউ কোনো কাজ না করেও সে জন্য প্রশংসা শুনতে চায় কিংবা কেউ তার প্রশংসা না করলে তাকে নানাভাবে কষ্ট দিতে থাকে। আল্লাহ তায়ালার ঘোষণা এমনÑ যারা নিজেদের কর্মকা- নিয়ে উৎফুল্ল এবং যা তারা করেনি তা নিয়ে প্রশংসিত হতে ভালোবাসে। তুমি অবশ্যই তাদের ভাববে না যে, তারা আজাব থেকে বেঁচে যাবে। তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। (সূরা আলে ইমরান : ১৮৮)।
মোটকথা, অর্থ-সম্পদ নিয়ে হোক, আর সম্মান-মর্যাদা নিয়ে হোক, সব লোভের ক্ষেত্রে সমানভাবে এ কথা প্রযোজ্যÑ লোভে পাপ, পাপে মৃত্যু। অথচ আল্লাহ তায়ালা যেভাবে মানুষের হায়াত-মওত সুনির্দিষ্ট করে দিয়েছেন, জীবনের শ্বাস-প্রশ্বাসের সংখ্যা যেমন সুনির্ধারিত, ঠিক তেমনি প্রতিটি মানুষের জন্যেই তার রিজিকও নির্ধারিত। এর ব্যতিক্রম হওয়ার সুযোগ নেই। ওপরের এক হাদিসে আমরা দেখেছি, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলছেন : এ নির্ধারিত রিজিক দুনিয়াতে পরিপূর্ণরূপে পাওয়ার আগে কিছুতেই কারও মৃত্যু হবে না। তাহলে আর লোভের পেছনে ছোটা কেন? অন্যের সঙ্গে শুধুই সম্মান আর সম্পদ বৃদ্ধির প্রতিযোগিতা কেন? মোমিন বান্দার উচিত, নিজেকে পরিপূর্ণরূপে আল্লাহ তায়ালার সিদ্ধান্তের সামনে সঁপে দেওয়া। ‘দারুল আসবাব’-এ দুনিয়াতে সহজতার সঙ্গে যতটুকু সম্ভব উপকরণ অবলম্বন করে প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির বিষয় পুরোটাই আল্লাহ তায়ালার হাতে ন্যস্ত করা।
আর প্রয়োজন জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে তাকওয়া ও আল্লাহর ভয়কে অবলম্বন করে চলা। আল্লাহ তায়ালার ঘোষণায় কোনো অস্পষ্টতা নেইÑ কেউ যদি আল্লাহকে ভয় করে তাহলে তিনি তার জন্য কোনো পথ তৈরি করে দেবেন এবং তাকে তিনি এমন স্থান থেকে রিজিক দেবেন, যা সে কল্পনাও করতে পারে না। (সূরা তালাক : ২-৩)।
আর মর্যাদা ও সম্মানের বিষয়ে কোরআনের ভাষ্যÑ যে ব্যক্তি মর্যাদা লাভ করতে চায়, (সে জেনে রাখুক) সব মর্যাদা আল্লাহরই হাতে। (সূরা ফাতির : ১০)।
লোভের অবশ্য প্রশংসনীয় কিছু ক্ষেত্রও আছে। যেমন, এক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন : লোভাতুর ও তৃষ্ণার্ত দুই ব্যক্তি, যারা কখনোই তৃপ্ত হয় নাÑ ইলম অর্জনে যে নিমগ্ন, তার লোভ কখনও শেষ হয় না, দুনিয়া অর্জনে যে লিপ্ত, সেও কখনও তৃপ্ত হয় না। (শুয়াবুল ঈমান, : ৯৭৯৮)।
দুনিয়া অর্জনে লোভ যতটা নিন্দনীয়, আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যে ইলম অর্জনে সে লোভ ঠিক ততটাই প্রশংসনীয়। কল্যাণের এমন যত খাত, লোভ কাক্সিক্ষত ওইসব ক্ষেত্রেই।

Leave a Reply

৯৭/৩/খ, উত্তর বিশিল, মিরপুর-১, ঢাকা-১২১৬
মোবাইলঃ ০১৭১২-৬৪৩৬৭৩, বার্তা বিভাগঃ ০১৭১২-৬৪৪৩৫০, সার্কুলেশন বিভাগঃ০১৯১৬০৯৯০২০
ইমেইলঃ [email protected], [email protected]

সম্পাদক:
মোঃ সুলতান চিশতী

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ
মহসিন হাসান খান (বুলবুল)

নির্বাহী সম্পাদকঃ
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন

সহকারী সম্পাদকঃ
মোঃ আতোয়ার হোসেন

আইন উপদেষ্টাঃ
শাহিন সরকার


.: Developed By :.
Great IT