১৪ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ৩০শে কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, হেমন্তকাল

রোজায় ডায়াবেটিক রোগীদের করণীয়

প্রকাশিতঃ মে ১৮, ২০১৮, ৪:০৬ পূর্বাহ্ণ


রমজান মাসে ইফতারের পর থেকে সেহেরি পর্যন্ত তিন বার ভারি খাবার খাওয়া হয়। পাশাপাশি খুঁটিনাটি খাবার তো আছেই। তাই খেতে হবে বুঝে শুনে। তাছাড়া একজন সুস্থ ব্যক্তির ইফতারের প্লেট থেকে ভাজাপোড়া সরানো প্রায় অসম্ভব। তাই যতটা সম্ভব স্বাস্থ্যকর উপায়ে ঘরে তৈরি ভাজাপোড়া খেতে হবে। দীর্ঘসময় না খেয়ে ছিলাম, কালকে আবার না খেয়ে থাকতে হবে এই চিন্তা করে তিন বেলাই পেট পুরে খেলে স্বাস্থ্য জটিলতায় পড়তে পারেন। ডায়বেটিস রোগীদের রোজার সময় বিশেষ কোনো সতর্কতা অবলম্বন করার দরকার নেই। শুধু তার নিয়মগুলো একটু এদিক ওদিক করে নিতে হয়।

ইফতারে ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের চিনি ছাড়া ফলের শরবত ও ডাবের পানি খাওয়া উচিৎ। পাশাপাশি ইফতারের পর থেকে সেহরি পর্যন্ত পর্যাপ্ত পানি পানের কথাও বলেন চিকিৎসকরা। কোন রোগী কী পরিমাণ পানি পান করবেন, সেটা তার অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা নিতে হবে।

রমজান মাসে কয়েকদিন ব্লাড সুগার পরীক্ষা করা দেখে নিতে হবে রক্তে শর্করার পরিমাণ কী মাত্রায় থাকে। সেই হিসেবে চিকিৎসকের পরামর্শে ইন্সুলিন বা ট্যাবলেটের মাত্রা কম-বেশি করে নিতে হবে।

ইফতারে খোরমা বা খেজুর দিয়ে রোজা খোলা সুন্নত, এ কথা সবাই জানেন এবং মানেন। যারা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত তারা সিদ্ধান্তহীনতায় থাকেন খেজুর বা খোরমা খাবেন কিনা! কারণ এই ফলে শর্করার পরিমাণ বেশি। তবে সারাদিন রোজা রাখার পর ইফতারে এক, দুইটা খোরমা বা খেজুর খেতেই পারেন। এক্ষেত্রে তেমন কোনো সমস্যা হয় না।

যারা ইন্সুলিন ব্যবহার করেন তাদের চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সকালের ইন্সুলিন ইফতারে এবং রাতের ইন্সুলিন সেহরিতে নেওয়া উচিৎ হবে। ট্যাবলেটের ক্ষেত্রেও তাই। তবে সারাদিন যেহেতু না খেয়ে থাকা হয় সেহেতু ইন্সুলিন বা ট্যাবলেটের মাত্রা একটু কমিয়ে দেওয়া ভালো। আর এসবই অভিজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শে করা উচিত।

রোজা রাখলে দিনের লম্বা সময় না খেয়ে থাকা হয়। তাই ইফতারের পর থেকে সেহরি পর্যন্ত একটু বেশি খেয়ে ফেললেও ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীর তেমন অসুবিধা হয় না। তারপরও খাওয়া নিয়ন্ত্রণ রাখা দরকার।

ব্লাড সুগার কমে যাওয়াকে ‘হাইপো’ বলে। এটা হলে রোগীর প্রচুর ঘাম হয়, বুক ধরফর করে। তবে এই লক্ষণ অন্য কোনো কারণেও হতে পারে। এ রকম হলে দ্রুত ব্লাড সুগার পরীক্ষা করে ব্যবস্থা নিতে হবে। রোজা রাখলেই যে ব্লাড সুগার কমে যাবে এমন কোনো কথা নেই। এ কারণেই রোজা রাখা অবস্থায় রক্ত পরীক্ষা করতে বলা হয়।

রোজা থাকা অবস্থায় যদি রক্তে শর্করা বা ব্লাড সুগারের পরিমাণ কমে যায়, তবে অবশ্যই সঙ্গে সঙ্গে রোজা ভেঙে চিনি জাতীয় খাবার খেয়ে রক্তের শর্করা বাড়াতে হবে। কারণ অতি অল্প সময়ের জন্যও যদি মস্তিষ্কে শর্করার ঘাটতি হয় তবে সেখান থেকে হয়ে যেতে পারে স্থায়ী ক্ষতি। পরে ধর্মীয় নিয়ম অনুযায়ী ভাঙা রোজা পূরণ করে নিন।

ডায়াবেটিকদের সাধারণত দুই বেলা ওষুধ দেওয়া হয়। তবে যারা তিন বেলা ইন্সুলিন নেন তাদের উচ্চ মাত্রায় ডায়াবেটিস আছে বলে ধরে নেওয়া হয়। এই ধরনের রোগীদের রোজা রাখা সম্ভব হয় না।

আর পুরো রোজার মাস জুড়েই ইফতারে ভাজা পোড়া, তেল-চর্বি জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলা উচিত।

Leave a Reply

৯৭/৩/খ, উত্তর বিশিল, মিরপুর-১, ঢাকা-১২১৬
মোবাইলঃ ০১৭১২-৬৪৩৬৭৩, বার্তা বিভাগঃ ০১৭১২-৬৪৪৩৫০, সার্কুলেশন বিভাগঃ০১৯১৬০৯৯০২০
ইমেইলঃ [email protected], [email protected]

সম্পাদক:
মোঃ সুলতান চিশতী

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ
মহসিন হাসান খান (বুলবুল)

নির্বাহী সম্পাদকঃ
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন

সহকারী সম্পাদকঃ
মোঃ আতোয়ার হোসেন

আইন উপদেষ্টাঃ
শাহিন সরকার


.: Developed By :.
Great IT