২২শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ৭ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, শরৎকাল

রোজার কাজা ও কাফফারা

প্রকাশিতঃ জুন ১৪, ২০১৮, ১০:৩৮ পূর্বাহ্ণ


আল্লাহ অনুগ্রহ করে বান্দার জন্য রমজান মাসের রোজা ফরজ করেছেন। বান্দা তা সাগ্রহে পালন করে। যেকোনো কারণে সময়মতো রোজা রাখতে না পারলে, তা কাজা আদায় করতে হয় এবং রোজা রেখে কোনো ওজর বা অসুবিধার কারণে ভেঙে ফেললে তা-ও পরে কাজা আদায় করতে হয়। কাজা হলো একটি রোজার পরিবর্তে একটি রোজা। কাজা রোজা যেকোনো সময় সুবিধামতো আদায় করা যায়, সকল কাজা রোজা একত্রে আদায় করা জরুরি নয়। রোজা রেখে কোনো ধরনের ধোঁকায় বা তাড়নায় বিপথগামী হয়ে বিনা ওজরে তা ভঙ্গ করলে আল্লাহ তাআলা অত্যন্ত অসন্তুষ্ট হন। এর জন্য কাজা ও কাফফারা উভয় আদায় করতে হয়।

কাফফারা তিনভাবে আদায় করা যায়। প্রথমত, একটি গোলাম আজাদ করা বা দাস মুক্ত করা, দ্বিতীয়ত, ধারাবাহিকভাবে ৬০টি রোজা পালন করা। তৃতীয়ত, ৬০ জন মিসকিনকে দুবেলা ভালোভাবে তৃপ্তিসহকারে আহার করানো বা আপ্যায়ন করা।

কাজা হলো একটি রোজার পরিবর্তে একটি, আর কাফফারা হলো ৬০টি। এ রকম ওজর ছাড়া যে কয়টা রোজা রেখে ভাঙবে প্রতিটির পরিবর্তে একটি করে কাজা এবং একই রমজান মাসের জন্য তার সঙ্গে যুক্ত হবে একটি কাফফারা। অর্থাৎ একটি রোজা যৌক্তিক কারণ ছাড়া ভাঙলে তার জন্য কাজা ও কাফফারা হবে ৬১টি রোজা, দুটি ভাঙলে হবে ৬২টি রোজা, তিনটি ভাঙলে হবে ৬৩টি রোজা। অনুরূপ ৩০টি ভাঙলে হবে ৯০টি রোজা।

কাফফারার রোজা একত্রে ধারাবাহিকতা রক্ষা করে আদায় করতে হয়। কারও যদি কাজা ও কাফফারাসহ মোট ৬১ বা তারও বেশি হয় তবে কমপক্ষে ৬১টি রোজা একটানা আদায় করতে হবে। কাফফারার রোজার মাঝে বিরতি হলে বা ভাঙলে আরেকটি কাফফারা ওয়াজিব হয়ে যাবে। অর্থাৎ ৬১ পূর্ণ হওয়ার আগে বিরতি হলে পুনরায় নতুন করে ১ থেকে শুরু করে ৬১ পূর্ণ করতে হবে। যে রোজাগুলো রাখা হলো তা নফল হিসেবে পরিগণিত হবে। কোনো গ্রহণযোগ্য ওজর বা আপদের কারণে ভাঙতে হলে তা ক্ষমার্হ। নারীদের বিশেষ বিরতির সময় বাদ দিয়ে ধারাবাহিকভাবে আদায় করতে হবে।

ছোট্ট শিশু যারা নাবালেগ তাদের জন্য রোজা রাখা ফরজ নয়, তবু তারা নিজেদের আগ্রহে ও বড়দের উৎসাহে রোজা রাখে। এমতাবস্থায় তারা যদি রোজা রেখে কখনো ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় যেকোনোভাবে রোজা ভেঙে ফেলে, তা হলে তাদের এই রোজার কাজা বা কাফফারা কোনোটিই লাগবে না। তারপরও যদি তারা বড়দের সঙ্গে কাজা রোজা রাখতে শুরু করে এবং তা আবার ভেঙে ফেলে তারও কাজা লাগবে না। (আল হিদায়া)।

কাফফারা, ফিদইয়া ও সদাকাতুল ফিতর তাদেরকে দেওয়া যাবে, যাঁরা জাকাত তথা ফরজ ও ওয়াজিব সদকা গ্রহণ করতে পারেন। যথা: ‘ফকির, মিসকিন, সদকা কর্মী, অনুরক্ত ব্যক্তি ও নওমুসলিম, ক্রীতদাস, ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি, আল্লাহর পথে জিহাদ ও বিপদগ্রস্ত বিদেশি মুসাফির।’ (সুরা-৯ তাওবাহ, আয়াত: ৬০)।

আল্লাহ মানুষের পরম বন্ধু, হজরত মুহাম্মদ (সা.) মানবতার মহান বন্ধু। হাদিস শরিফে সহিহ্ রিওয়ায়াতে বর্ণিত হয়েছে: একদা রমজানে এক লোক রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে এসে বললেন, ‘ইয়া রাসুলুল্লাহ (সা.), আমি নিজেকে ধ্বংস করে ফেলেছি, আমি রোজা পালন অবস্থায় স্ত্রী সহবাস করে ফেলেছি।’ রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁকে বললেন, ‘তুমি একজন দাসকে মুক্ত করে দাও।’ তিনি বললেন, ‘এমন সক্ষমতা আমার নেই।’ রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘তবে এর বদলে দুই মাস তথা ৬০ দিন রোজা রাখো।’ লোকটি বললেন, ‘ইয়া রাসুলুল্লাহ! এমন শারীরিক সক্ষমতা আমার নেই।’ তখন তিনি (সা.) বললেন, ‘তবে তুমি ৬০ জন মিসকিনকে খাওয়াবে।’ লোকটি বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল! (সা.) এ রকম আর্থিক সক্ষমতাও তো আমার নেই।’ তখন তিনি (সা.) তাঁকে অপেক্ষা করতে বললেন। এর কিছুক্ষণ পর কোনো একজন সাহাবি রাসুল (সা.)-কে এক ঝুড়ি খেজুর হাদিয়া দিলেন। তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) উক্ত লোকটিকে ডেকে বললেন, ‘এগুলো নিয়ে গিয়ে গরিবদের মাঝে সদাকাহ করে দাও।’ লোকটি বললেন, ‘ইয়া রাসুলুল্লাহ (সা.) অত্র এলাকায় আমার মতো গরিব আর কে আছে?’ এ কথা শুনে রাসুলে কারিম (সা.) স্বাভাবিকের চেয়ে একটু বেশি হাসলেন, যাতে তার দাঁত প্রকাশিত হলো। তিনি (সা.) বললেন, ‘আচ্ছা, তবে খেজুরগুলো তুমিই তোমার পরিবার নিয়ে খাও।’ সুবহানাল্লাহ! (বুখারি, হাদিস: ১৩৩৭, মুসলিম, হাদিস: ১১১১)।

Leave a Reply

৯৭/৩/খ, উত্তর বিশিল, মিরপুর-১, ঢাকা-১২১৬
মোবাইলঃ ০১৭১২-৬৪৩৬৭৩, বার্তা বিভাগঃ ০১৭১২-৬৪৪৩৫০
ইমেইলঃ [email protected], [email protected]

সম্পাদক:
মোঃ সুলতান চিশতী

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ
মহসিন হাসান খান (বুলবুল)

নির্বাহী সম্পাদকঃ
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন

সহকারী সম্পাদকঃ
মোঃ আতোয়ার হোসেন

আইন উপদেষ্টাঃ
শাহিন সরকার


.: Developed By :.
Great IT