১৯শে নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, হেমন্তকাল

রেললাইনে তরুণীর দেহ, উধাও প্রেমিক

প্রকাশিতঃ আগস্ট ৩১, ২০১৮, ১২:৪১ অপরাহ্ণ


রেললাইনের ধারে মাটিতে পড়ে আছে তরুণীর নিথর দেহ। মাথার এক দিকের ঘিলু বেরিয়ে এসেছে। কান এবং নাক দিয়ে রক্ত বেরিয়ে জমাট হয়ে রয়েছে। পাশেই বসে কথিত প্রেমিক পীযূষ। দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে প্রিয়াঙ্কাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকেরা।

এরপরেই এই মৃত্যু ঘিরে রহস্য দানা বেঁধেছে। ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের শিয়ালদহে।

প্রিয়াঙ্কার মা রীতাদেবীর দাবি, পীযূষ সাউ নামে মেয়ের এক বন্ধু ফোনে জানান- দ্রুত হাজরাবাগান রেল ক্রসিংয়ে পৌঁছতে হবে। প্রিয়াঙ্কা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন!

রীতাদেবী জানান, মৃতদেহ নিয়ে তার সঙ্গেই হাসপাতালে গিয়েছিলেন পীযূষ। তবে অভিযোগ, প্রিয়াঙ্কাকে মৃত ঘোষণা করার পরেই তিনি চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলতে যাওয়ার নাম করে বেরিয়ে যান। আর ফেরেননি। সঙ্গে নিয়ে গিয়েছেন প্রিয়াঙ্কার মোবাইল ফোনও!

রীতাদেবীর দাবি, শিয়ালদহ জিআরপি-র তদন্তকারী অফিসারেরা হাসপাতালে পৌঁছেই জানতে চান, প্রিয়াঙ্কার সঙ্গে ঘটনাস্থলে যে যুবক ছিলেন, তিনি কোথায়? কিন্তু ততক্ষণে পীযূষ বেরিয়ে গেছেন।

পুলিশ জানায়, রহস্যের তল পেতে বুধবার রাত থেকেই পীযূষের খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত তার খোঁজ পাওয়া যায়নি। পীযূষের বাবা-মাও রহস্যজনকভাবে বুধবারই বিহারে নিজেদের গ্রামের বাড়িতে চলে গেছেন বলে জেনেছে পুলিশ।

এই মৃত্যু কীভাবে হয়েছে এবং মৃত্যুর কারণ কী, ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পরেও তা নিয়ে ধন্দে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, রীতাদেবীও তদন্তকারীদের জানান- রেল ক্রসিংয়ে যাওয়ার পরে পীযূষ কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেছিলেন, ‘ভুল হয়ে গিয়েছে!’ তবে ‘ভুল’টা কী, তা পরিষ্কার নয়। আপাতত অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষা করা হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রের খবর, পটারি রোডে বাবা-মা এবং ভাইয়ের সঙ্গে থাকতেন প্রিয়াঙ্কা। বাবা বিমলকান্তি দাস পুরসভার অবসরপ্রাপ্ত কর্মী। মা গৃহবধূ। উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার আগে প্রি-টেস্ট চলছে স্কুলে। বৃহস্পতিবার ভূগোল পরীক্ষার আগে বুধবার ছুটি ছিল। বাড়িতে বসেই পড়াশোনা করছিলেন হোলি চাইল্ড স্কুলের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী প্রিয়াঙ্কা দাস (১৮)।

মৃতের পরিবার সূত্রে দাবি, প্রিয়াঙ্কার সঙ্গে বেশকিছু দিন ধরেই আইনের পড়ুয়া পীযূষের ঘনিষ্ঠতা ছিল। পীযূষদের আদি বাড়ি বিহারে হলেও থাকতেন প্রিয়াঙ্কাদের পাড়াতেই।

এক প্রতিবেশী বলেন, ‘হাজরাবাগান রেল ক্রসিংয়ে প্রায়ই ওদের দেখা যেত।’ বুধবার দুপুরেও প্রিয়াঙ্কাকে ফোন করে পীযূষই হাজরাবাগান রেল ক্রসিংয়ে ডেকেছিলেন বলে দাবি পুলিশের।

বৃহস্পতিবার দুপুরে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেল, আশপাশের রাস্তা বেশ ফাঁকা। কয়েকটি ট্রেন শুধু চলে যাচ্ছে দ্রুতগতিতে।

স্থানীয় বাসিন্দা জয়ন্ত দে বলেন, ‘ওদের একবার ঝগড়া করতে দেখেছি। তবে ছেলেটিই ওকে ট্রেনের সামনে ফেলে দিয়েছেন কি না, সেটা খেয়াল করিনি।’ আপাতত পুলিশও এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে।

রীতাদেবী বলেন, ‘ওরা বিয়ে করবে বলেছিল। বলেছিলাম, পড়াশোনা কর, তারপর বিয়ে দেব। আর কিছুই হওয়ার নেই। মেয়েটাকে ডেকে নিয়ে গিয়ে মেরেই ফেলল!’

Leave a Reply

৯৭/৩/খ, উত্তর বিশিল, মিরপুর-১, ঢাকা-১২১৬
মোবাইলঃ ০১৭১২-৬৪৩৬৭৩, বার্তা বিভাগঃ ০১৭১২-৬৪৪৩৫০, সার্কুলেশন বিভাগঃ০১৯১৬০৯৯০২০
ইমেইলঃ [email protected], [email protected]

সম্পাদক:
মোঃ সুলতান চিশতী

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ
মহসিন হাসান খান (বুলবুল)

নির্বাহী সম্পাদকঃ
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন

সহকারী সম্পাদকঃ
মোঃ আতোয়ার হোসেন

আইন উপদেষ্টাঃ
শাহিন সরকার


.: Developed By :.
Great IT