১৫ই ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং | ১লা পৌষ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, শীতকাল

রেলপথে মৃত্যু এখন নৈমিত্তিক বিষয় হইয়া দাঁড়াইয়াছে

প্রকাশিতঃ ডিসেম্বর ৫, ২০১৮, ১০:১৯ পূর্বাহ্ণ


ট্রেনে কাটা পড়িয়া গত শনিবারও মারা গিয়াছে দুই তরুণ। তন্মধ্যে রাজধানীর খিলক্ষেত রেলক্রসিংয়ে ট্রেনের ধাক্কায় নিহত ইব্রাহিম, পেশায় পিকআপ চালক। বয়স মাত্র ২৫। ঢাকা রেলওয়ে কমলাপুর থানার বিমানবন্দর ফাঁড়ির একজন সহকারী উপ-পরিদর্শক জানাইয়াছেন, ঘটনার সময় ইব্রাহিম মোবাইলে কথা বলিতে বলিতে রেললাইন দিয়া হাঁটিতেছিলেন। ঢাকা হইতে ছাড়িয়া যাওয়া তিতাস এক্সপ্রেসের ধাক্কায় তাহার মৃত্যু হয়। বস্তুত রেলপথে মৃত্যু এখন নৈমিত্তিক বিষয় হইয়া দাঁড়াইয়াছে। তাহার মধ্যে অধিকাংশ মৃত্যুই এই ধরনের গুরুতর অসাবধানতাজনিত। প্রাণহানির দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ কারণটিও সুবিদিতই বলা চলে। সর্বশেষ উদাহরণ হিসাবে কয়েকদিন আগে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের ফেনী অংশের শর্শদী রেলগেট এলাকায় সংঘটিত বাস-ট্রেন সংঘর্ষের কথা বলা যায়। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারাইয়াছেন পাঁচজন। আহত হইয়াছেন বেশকিছু যাত্রী। পুলিশ ও স্থানীয়সূত্রে জানা যায়, যাত্রীবাহী বাসটি শর্শদী রেলগেট পার হওয়ার সময় ঢাকাগামী সোনার বাংলা এক্সপ্রেসের সহিত এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার যেই দুইটি চিত্র এখানে তুলিয়া ধরা হইয়াছে— তাহা কল্পনা করিতেও বুক কাঁপিয়া উঠে। অথচ প্রায়শ এই ধরনের দুর্ঘটনা ঘটিয়াই চলিয়াছে। বড় ধরনের দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে খানিকটা হইচই হয়, আর এক-দুইজনের মৃত্যু লইয়া আজকাল আর কেহ মাথা ঘামায় বলিয়া মনে হয় না।

কেবল ২০১৭ সালেই সারা দেশে ট্রেনে কাটা পড়িয়া প্রাণ হারাইয়াছেন ২১ শত মানুষ। আর শুধু রাজধানীতে এক বত্সরে ট্রেনে কাটা পড়িয়া মৃত্যু হইয়াছে ৫০০ জনের। এই তথ্য রেলওয়ে পুলিশ হেড কোয়ার্টারের। গুরুত্বপূর্ণ আরেকটি তথ্য হইল, গত তিন বত্সরে ট্রেনে কাটা পড়া চার শতাধিক ব্যক্তির মৃতদেহ উদ্ধার করা হইয়াছে কানে হেডফোন লাগানো অবস্থায়। পরিসংখ্যানটি নিঃসন্দেহে আতঙ্কিত হইবার মতো, তবে একেবারে অপ্রত্যাশিত নহে। বরং রেললাইনগুলিতে প্রতিনিয়ত সর্বপ্রকার নিয়মনীতি ও সতর্কবার্তা অগ্রাহ্য করিবার যেই লোমহর্ষক দৃশ্য দেখা যায়, সেই তুলনায় দুর্ঘটনার মাত্রা কমই বলিতে হইবে। যত্রতত্র রেললাইন ধরিয়া অসতর্কভাবে হাঁটা এইদেশে কোনো নূতন বিষয় নহে। তাহাতে বিপজ্জনক মাত্রা যুক্ত করিয়াছে কানে হেডফোন লাগাইয়া রেললাইনের উপর দিয়া হাঁটাচলার বিষয়টি। রেলওয়ের মহাপরিচালক বলিয়াছেন, ট্রেন বা রেললাইনে কাটা পড়িয়া সম্ভবত সবচেয়ে বেশি মানুষের মৃত্যু হয় বাংলাদেশে। কারণ ইহা দণ্ডনীয় অপরাধ হইলেও কেহ তাহা গ্রাহ্য করেন না। বরং রেললাইনের দুই পাশ দখল করিয়া কাঁচাবাজার বসানো হইতেছে; গড়িয়া তোলা হইতেছে বস্তি ও দোকানপাট। যাহার যেখানে ইচ্ছা রেললাইনের উপর দিয়া অবৈধ রাস্তা তৈরি করিয়া মানুষের পাশাপাশি যানবাহনও চলাচল করিতেছে যথেচ্ছভাবে। এই ধরনের অবৈধ রেলক্রসিংয়ের সংখ্যাও শত শত।

সন্দেহ নাই যে, রেলপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। কিন্তু যত সদিচ্ছাই থাকুক, তাহাদের পক্ষে দেশব্যাপী বিস্তৃত শত শত কিলোমিটার রেলপথে পাহারা বসানো কিংবা নিরাপত্তা বেষ্টনী নির্মাণ করা সম্ভব নহে। অনভিপ্রেত এই মৃত্যুর লাগাম টানিয়া ধরিতে হইলে সর্বাগ্রে সাধারণ মানুষকে সচেতন হইতে হইবে। তবে রাজধানীর ব্যস্ততম রেলপথগুলি যুগ যুগ ধরিয়া যেভাবে অরক্ষিত অবস্থায় পড়িয়া আছে, সেই দায় রেল কর্তৃপক্ষ কোনোভাবেই এড়াইতে পারিবেন না।

Leave a Reply

৯৭/৩/খ, উত্তর বিশিল, মিরপুর-১, ঢাকা-১২১৬
মোবাইলঃ ০১৭১২-৬৪৩৬৭৩, বার্তা বিভাগঃ ০১৭১২-৬৪৪৩৫০, সার্কুলেশন বিভাগঃ০১৯১৬০৯৯০২০
ইমেইলঃ [email protected], [email protected]

সম্পাদক:
মোঃ সুলতান চিশতী

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ
মহসিন হাসান খান (বুলবুল)

নির্বাহী সম্পাদকঃ
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন

সহকারী সম্পাদকঃ
মোঃ আতোয়ার হোসেন

আইন উপদেষ্টাঃ
শাহিন সরকার


.: Developed By :.
Great IT