১৮ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ৪ঠা অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, হেমন্তকাল

রাজশাহী-১ আসনে কৃষিখাতে ভূর্তুকি দুই হাজার এক কোটি ৮০ লাখ

প্রকাশিতঃ নভেম্বর ৮, ২০১৮, ৮:৫০ অপরাহ্ণ


আলিফ হোসেন (তানোর প্রতিনিধি) রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) সংসদীয় আসনের নির্বাচনী এলাকায় এমপি আলহাজ্ব ওমর ফারুক চৌধূরীর প্রচেস্টায় কৃষিখাতে উন্নয়নের জন্য আওয়মী লীগ সরকার ১০ বছরে প্রায় দুই হাজার এক কোটি ৮০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে সরাসরি কৃষক পরিবার এসব টাকা পেয়েছেন ফলে কৃষকদের মধ্যে আর্থিক স্বচ্ছলতা এসেছে, বেড়েছে ক্রয় ক্ষমতা ও জীবন যাত্রার মান। অথচ এই বিপুল পরিমাণ অর্থ কৃষিখাতে ভূর্তৃকি না দিয়ে রাস্তা-ঘাট ও ব্রীজ কালভ্রাট নির্মাণ করা হলে এই টাকায় তানোর-গোদাগাড়ী তো বটেই পুরো রাজশাহী জেলার রাস্তা-ঘাট নির্মাণ করা সম্ভব ছিল। সরকার কৃষি খাতে ভূর্তুকি না দিলে এই দুই হাজার এক কোটি ৮০ লাখ টাকা তানোর-গোদাগাড়ীর কৃষক পরিবারের কাছে থেকে বেরিয়ে যেতো ভূর্তুকির ফলে যেটা এখন তাদের সঞ্চয় হয়েছে। অথচ সাধারণ মানুষ বিষয়টি উপলব্ধী করতে পারছেন না যে সরকার তাদের ঘরে সূখ পৌচ্ছে দিয়ে গিয়ে রাস্তা-ঘাট নির্মাণে কিছুটা বিলম্ব করছে। আওয়ামী লীগ সরকারের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে কৃষি নির্ভর এলাকার কৃষকদের স্বাবলম্বী, ক্ষুধা-দারিদ্র মুক্ত, সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতা ও জীবন যাত্রার মান বৃদ্ধি করা যেটি ইতমধ্যে সফল হয়েছে। এখন মানুষকে বুঝতে হবে তাদের কোনটি আগে প্রয়োজন মানুষের জীবন যাত্রার মান ও ক্রয় ক্ষমতা বৃদ্ধি, দারিদ্রতা মুক্তি ও কৃষকদের স্বাবলম্বী করা না কি এসবের আগে রাস্তা-ঘাট নির্মাণ বেশি প্রয়োজন। আওয়ামী লীগ সরকার বিভিন্ন অদৃশ্য উন্নয়ন কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতিটি মানুষের ঘরে ঘরে সূখ পৌচ্ছে দিয়েছে যেটা মানুষ উপলব্ধি করতে পারলেও চোখে দেখতে পাচ্ছেন না। অথচ মাত্র এক বছরের কৃষি ভূর্তুকির টাকা দিয়ে তানোর-গোদাগাড়ীর সব রাস্তা-ঘাট পাকা করার পরেও দুই-তৃতীয়াংশ টাকা বেচে যেতো।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, আজ থেকে ১০ বছর পূর্বে যেই কৃষকের তিন বিঘা জমি ছিল সেই কৃষককে জীবন ধারনের তাকে অন্যর কামলা খাটতে হয়েছে, অথচ এখন সেই কৃষকের ঘরে বিদ্যুৎ, মোটরসাইকেল, রঙীন টেলিভিশন ও ফ্রিজসহ উন্নত জীবন যাপনের সব ধরণের উপকরন রয়েছে। এখন প্রতিটি গ্রামের মোড়ে চায়ের দোকান ও বিদেশি ফলের দোকান রয়েছে আবার এসব সাধারণ কিনছেন সাধারণ মানুষের সেই সক্ষমতা কিভাবে আসলো সেটি গভীরভাবে চিন্তা করলেই আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়ন সকলের কাছে দৃশ্যমান হবে। এখন প্রশ্ন হলো সেটা কিভাবে সম্ভব হলো এটা সম্ভব হয়েছে সরকারের দেয়া কৃষি ভূর্তুকি ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির মাধ্যমে দেয়া নানা ধরনের সুবিধা। যেমন আগে এক কেজি ইউরিয়া সারের দাম ছিল ২০ টাকা এখন বিক্রি হচ্ছে ১৬ টাকায়, এক কেজি টিএনপি সারের দাম ছিল ৮০ টাকা এখন বিক্রি হচ্ছে ২২ টাকায়, এক কেজি এমওপি সারের দাম ছিল ৭০ টাকা এখন বিক্রি হচ্ছে ১৫ টাকায়, এক কেজি ডিএপি সারের দাম ছিল ৯০ টাকা এখন বিক্রি হচ্ছে ২৫ টাকায়। কৃষি প্রধান এলাকার কৃষকদের কথা বিবেচনা করে সরকার বেশি দামে বিদেশ থেকে সার কিনে এনে ভূর্তুকি দিয়ে এভাবে পানির দামে সার বিক্রি করছেন আর ভূর্তুকির টাকা কৃষকের ঘরে সঞ্চয় হচ্ছে। সরকার সারে প্রতি কেজি ইউরিয়ায় ৪ টাকা, প্রতি কেজি ডিএপিতে ৬৫ টাকা, প্রতি কেজি এমওপিতে ৫৫ টাকা এবং প্রতি কেজি টিএসপিতে ৫৮ টাকা ভূর্তুকি দিচ্ছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, তানোর উপজেলায় আওয়ামী লীগ সরকার ১০ বছরে শুধুমাত্র বিভিন্ন সারে ভূর্তুকি দিয়েছেন ৬০৯ কোটি টাকা, আউশ প্রণোাদনায় (বিনামূল্য সার বীজ সরবরাহ) প্রায় ২ কেটি ৩০ লাখ টাকা, কৃষি যন্ত্রপাতি ক্রয়ে প্রায় এক কোটি টাকা এবং সেচ কাজে ৩০ বিদ্যুৎ বিলের ওপর শতাংশ টাকা ভূর্তুকি দিয়েছেন। অন্যদিকে গোদাগাড়ী উপজেলায় আওয়ামী লীগ সরকারের ১০ বছরে কৃষি থাতে শুধুমাত্র বিভিন্ন প্রকারের সারে ভূর্তুকি দিয়েছেন ৯৩৭ কোটি ৭৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এছাড়াও কৃৃষি প্রণোদনায় (বিনামূল সার বীজ সরবরাহ) ৩ কোটি ৬৭ লাখ ৬৯ হাজার টাকা ভূর্তুকি দিয়েছেন।
জানা গেছে, ধান উৎপাদনে বাংলাদেশ ৪র্থ তম, পাট উৎপাদনে ২য়, পাট রপ্তানিতে প্রথম, সবচি উৎপাদনে ৩য়, আম উৎপাদনে ৭ম, আলু উৎপাদনে ৮ম, পেয়ারা ইৎপাদনে ৮ম, রসুন উৎপাদনে ৬ষ্ঠ, চা উৎপাদনে ৪র্থ ও ফল উৎপাদনে বাংলাদেশ ২৮তম স্থানে রয়েছে। এছাড়াও বাংলাদেশ শ্রীলংকায় ৫ লাখ মেট্রিক টন চাউল রপ্তানি ও ভূমিকম্পের সময় নেপালে ৪ হাজার মেট্রিকটন চাউল সহায়তা, রাশিয়ায় প্রায় ৫ লাখ মেট্রিকটন আলু ও সিঙ্গাপুর-নেপাল-মালেশিয়া ও শ্রীলংকায় আলু রপ্তানি করছে। এছাড়াও রাজশাহী থেকে প্রায় ৩৫ মেট্রিকটন আম ইউরোপে রপ্তানি ও মধ্যপ্রাচ্যর বিভিন্ন দেশে সবজি রপ্তানি করছে। এব্যাপারে তানোর উপজেলা কুষি কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, আওয়ামী লীগ যে কৃষি বান্ধব সরকার এসব কৃষি বান্ধব কর্মসূচির মধ্যদিয়ে তা প্রমাণ হয়েছে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের প্রায় ১০ বছরে কুষিখাতে প্রায় এক-চতুর্থাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে।

Leave a Reply

এই বিভাগের আরো খবর

৯৭/৩/খ, উত্তর বিশিল, মিরপুর-১, ঢাকা-১২১৬
মোবাইলঃ ০১৭১২-৬৪৩৬৭৩, বার্তা বিভাগঃ ০১৭১২-৬৪৪৩৫০, সার্কুলেশন বিভাগঃ০১৯১৬০৯৯০২০
ইমেইলঃ [email protected], [email protected]

সম্পাদক:
মোঃ সুলতান চিশতী

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ
মহসিন হাসান খান (বুলবুল)

নির্বাহী সম্পাদকঃ
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন

সহকারী সম্পাদকঃ
মোঃ আতোয়ার হোসেন

আইন উপদেষ্টাঃ
শাহিন সরকার


.: Developed By :.
Great IT