১৬ই ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং | ২রা পৌষ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, শীতকাল

রাজশাহী-১ আওয়ামী লীগের নির্বাচনী কমিটি গঠন

প্রকাশিতঃ নভেম্বর ১২, ২০১৮, ৯:১০ অপরাহ্ণ


আলিফ হোসেন (তানোর প্রতিনিধি) রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) ভিআইপি এই সংসদীয় আসনে দুই বারের সংসদ সদস্য, রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং (সাবেক) শিল্প প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব ওমর ফারুক চৌধূরীর ওপরেই আওয়ামী লীগ আস্থা ও ভরসা রেখে ফের তাকেই আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন দেয়ার চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে তার প্রার্থীতা নিশ্চিত করেছেন বলে আলোচনা রয়েছে। ইতমধ্যে তানোর ও গোদাগাড়ী উপজেলার আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের প্রতিটি কমিটির সভাপতি,সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকগণ লিখিত ভাবে এমপি ফারুক চৌধূরীকে সমর্থন দিয়েছেন। ফলে তিনিই আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাচ্ছেন এটা প্রায় নিশ্চিত বলে তৃণমূলের অভিমত। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী হচ্ছেন এমপি ফারুক চৌধূরী এটা নিশ্চিত হয়েই আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংঘঠনের নেতাকর্মীদের নিয়ে নির্বাচনী পরিচালনা কমিটি গঠনের কাজ শুরু করেছেন। তানোর উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও কলমা ইউপি চেয়ারম্যান লুৎফর হায়দার রশিদ ময়না তানোর উপজেলায় এবং গোদাগাড়ী উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি শফিকুল সরকার স্থানীয় নেতাদের নিয়ে গোদাগাড়ী উপজেলায় কমিটি গঠনের কাজ শুরু করেছেন। প্রতিটি ওয়ার্ডে ওয়ার্প কমিটি ও ইউনিয়ন-পৌরসভায় সেন্ট্রাল কমিটি গঠন করা হচ্ছে। আবার কমিটি গঠনের পাশপাশি তারা নির্বাচনী মাঠে নৌকার পক্ষে জনমত গড়তে পথসভা, উঠান বৈঠক, কর্মীসভা, প্রচার-প্রচারণা ও ব্যাপক গণসংযোগ করে চলেছেন।
অথচ সাংগঠিক পর্যায়ের দায়িত্বশীল কোনো নেতাকর্মী না থাকার পরেও কিছু বগী নেতা ঢাকায় বসে এমপি মনোনয়নের খোয়াব নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আউল-ফাউল কথা ও বগী আওয়াজ দিয়ে প্রচার করে নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। এদের কেউ বলছে মনোনয়ন নিশ্চিত কেবল ঘোষণা বাকি, কেউ বলছে এমপি হয়েই গেছি কেবল ঘোষণা বাকি, কেউ বলছে তিনি মনোনয়ন না পেলেও ফারুক চৌধূরী পাবে না, কেউ বলছে ফারুক চৌধূরী মনোনয়ন পাবেন নিশ্তি তবে তারা বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে ভোট করবেন ইত্যাদি। কিšত্ত এদের সঙ্গে আওয়ামী লীগ বা সহযেগী সংগঠনের কোনো দায়িত্বশীল নেতা নাই আবার তারাও ভোটের মাঠে নাই তাহলে তাদের ভোট করবেন কে-? সাকি জামায়াত-বিএনপির বি-টিম হয়ে তাদের এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য এরা এসব করছে আওয়ামী লীগের আদর্শিক নেতা হলে তো তাদের পক্ষে এমন কাজ করা সম্ভব নয় ইত্যাদি হাজারো প্রশ্ন সাধারণের মনে উকি দিচ্ছে।
তানোর-গোদাগাড়ীর তৃণমূলের ভাষ্য ইতমধ্যে এমপি ফারুককে আবারো দলীয় প্রার্থী করার বিষয়ে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ড চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত দিয়েছে। রাজশাহী-১ আসনের নির্বাচনী মাঠে তথা কথিত সেভেন স্টারের থেকে পরিচ্ছন্ন ব্যক্তি ইমেজ, গ্রহণযোগ্যতা, আদর্শিক নেতৃত্ব ও জনপ্রিয়তায় এমপি ফারুক অনেক বেশি এগিয়ে থাকায় তাকেই আবারো মনোনয়ন দেয়া হচ্ছে বলে একাধিক সূত্র এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছে। সূত্র জানায়, প্রার্থীর পারিবারিক ও আর্থিক অবস্থান, উন্নয়ন কাজের মানসিকতা, নেতৃত্বগুন, দল-নেতা ও নেতৃত্বের প্রতি আনুগত্য-বিশ্বাস, তৃণমূলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা, শারীরিক-মানসিক দৃঢতা, ব্যক্তি ইমেজ, রাজনৈতিক দূরদর্শীতা ইত্যাদি বিচার-বিশ্লেণণ ও পর্যালোচনা করে সারাদেশে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ প্রথম পর্যায়ে প্রাথমিক ভাবে ১৭০টি সংসদীয় আসনে চুড়ান্ত প্রার্থী তালিকা তৈরী করেছেন এই তালিকায় রাজশাহী-১ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে নাম এসেছে ওমর ফারুক চৌধূরীর বলে তার ঘনিষ্ঠরা নিশ্চিত করেছেন। আর এ খবর ছড়িয়ে পড়লে মনোনয়ন প্রত্যাশী একশ্রেণীর বগী নেতার ওপর আকাশ ভেঙ্গে পড়েছে।
স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহলের অভিমত, রাজনীতিতে আশার আগেই এমপি ফারুক সিআইপি, রাজশাহীর প্রথম স্বচ্ছ আয়কর দাতা, রাজশাহী চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি হয়েছেন। এছাড়াও তিনি শহীদ পরিবারের সন্তান ও জাতীয় চার নেতার অন্যতম শহীদ এএইচএম কামরুজ্জামান হেনার ভাগ্নে, তিনি প্রায় ২০ বছর ধরে রাজশাহী আওয়ামী লীগকে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন, তিসি বিশ বছরে কি পত্যক্ষ-পরোক্ষ ভাবে বিশ হাজার মানুষের উপকার করতে পারে নি যদি করেন তাহলে তো তার বিশ হাজার অনুগত কর্মী মাঠে রয়েছে, তিনি দু’বার সাংসদ ও একবার প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন, এছাড়াও দলের প্রতি বিশস্ত কারণ জেলা পরিষদ নির্বাচনে অবৈধ সুবিধার বিনিময়ে অধিকাংশ নেতা আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে মাঠে নামলেও একমাত্র ফারুক চৌধূরী দল,নেতা ও নেতৃত্বের সঙ্গে বেঈমানি না করে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থীর পক্ষে ছিলেন। এসব বিবেচনায় দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে সিলেক্শনের (বিশেষ পচ্ছন্দ) মাধ্যমে রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি করেছেন। রাজশাহীতে আওয়ামী লীগের আজকের যে জয়জয়কার অবস্থান সেটিও তার রাজনৈতিক দূরদর্শীতা ও নেতৃত্বে হয়েছে, তিনি আওয়ামী লীগে আশার আগের অবস্থান ও আশার পরের অবস্থান বিশ্লেসণ করলেই এই সত্য সকলের কাছে দৃশ্যমান হবে এসব বিবেচনায় তিনি কথিত সেভেন স্টারের থেকে জনমত জরিপ ও জনপ্রিয়তায় অনেক বেশি এগিয়ে রয়েছেন এবং এসবের পুরুস্কার স্বরুপ আওয়ামী লীগ আবারো তাকে দলীয় মনোনয়ন দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের এক জৈষ্ঠ নেতা নিশ্চিত করেছে।
এদিকে চলতি বছরের জানুয়ারী মাসে নির্বাচনী এলাকার আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও গোদাগাড়ী উপজেলা পরিষদের (সাবেক) চেয়ারম্যান একেএম আতাউর রহমান, অতিরিক্ত আইজিপি (সাবেক) মতিউর রহমান, তানোর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মুন্ডুমালা পৌরসভার মেয়র গোলাম রাব্বানী, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি বদরুজ্জামান রবু মিয়া ও এ্যাডঃ মকবুল হোসেন খাঁ, জেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ও গোদাগাড়ী পৌরসভার মেয়র মনিরুল ইসলাম বাবু, এবং জেলা কৃষক লীগের সহসভাপতি অ্যাডভোকেট আবদুল ওহাব জেমস প্রমূখ আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যশা ও এমপি ফারুকের মনোনয়ন ঠেকানোর ঘোষণা দিয়ে মাঠে নামে এবং (সেভেন স্টার) নামে পরিচিতি লাভ করে। কিšত্ত তারা তৃণমূলে তেমন কোনো সাড়া জাগাতে ব্যর্থ হয় এবং মাঠের পুরো নিয়ন্ত্রণ এমপি ফারুকে কাছে রয়ে যায়। এর ফলে নির্বাচনী মাঠে তাদের খেকে এমপি ফারুক জনমত জরিপ ও জনপ্রিয়তায় অসেক এগিয়ে রয়েছে এটা আবারো প্রমাণিত হয় বলে তৃণমূলের অভিমক। এদিকে এমপি ফারুক তার প্রার্থীতা বা মনোনয়ন নিশ্চিত হয়ে যখন নির্বাচনী মাঠে প্রচার-প্রচারণা-উঠান বৈঠক, পথসভা ও গণসংযোগের মাধ্যমে নৌকার পক্ষে জনমত গড়ে তুলতে দিনরাত নিরলসভাবে অবিরাম ছুটে চলেছেন তখও বগী নেতারা মনোনয়ন পাবার খোয়াব নিয়ে ঢাকায় নেতাদের দরজা দরজা ধর্না দিয়ে অহেতুক সময় ব্যয় করছে।
অপরদিকে র্তণমূলের ভাষ্য, সেভেন স্টারের মধ্যে একেএম আতাউর রহমান বার্ধক্যজনিত কারণে রাজনীতিতে অনেকটা আনফিট এছাড়াও তিনি গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাচনে পরাজিত হয়েচেন। ওদিকে অতিরিক্ত আইজিপি (নাবেক) মতিউর রহমান পুলিশের লোক হওয়ায় মাঠে তার তেমন কোনো জনসম্পৃক্ততা নাই, নাই কর্মী বাহিনী। এদিকে আবার তানোর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মুন্ডুমালা পৌর মেয়র গোলাম রাব্বানি দু’বার আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়নে তানোর উপজেলা নির্বাচন অংশগ্রহণ করে দু’বারই বিএনপির দুর্বল প্রার্থীর কাছে পরাজিত হয়েছেন অথচ তানোরের থেকে গোদাগাড়ী উজেলার ভোটের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুন। অর বাকিদের নিয়ে এমপি নির্বাচনে আলোচনা করার মতো তেমন কোনো সুযোগ নাই। রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা উঠেছে, তাহলে এরা কি আদর্শিক, পরীক্ষিত নেতৃত্ব, হেভিওয়েট ও অপ্রতিদ্বন্দ্বি নেতা এমপি ফারুকের শূণ্য স্থান পূরুণ বা এমপি নির্বাচনে বিজয়ী হতে পারবেন-? না কি-? কর্মী-জনবান্ধব ও পরীক্ষিত নেতৃত্ব এমপি ফারুকের পরিবর্তে এদের কাউকে মনোনয়ন দিয়ে আওয়ামী লীগ ঝুঁকি নিবেন এটা তো আওয়ামী লীগবিরোধীরাও বিশ্বাস করে না। এসব বিষয় বিচার-বিশ্লেষণ করে আওয়ামী লীগ আবারো এমপি ফারুককে মনোনয়ন দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছেন। এব্যাপারে একাধিকবার যোগাযোগের চেস্টাা করা হলেও আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল কারো কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

Leave a Reply

৯৭/৩/খ, উত্তর বিশিল, মিরপুর-১, ঢাকা-১২১৬
মোবাইলঃ ০১৭১২-৬৪৩৬৭৩, বার্তা বিভাগঃ ০১৭১২-৬৪৪৩৫০, সার্কুলেশন বিভাগঃ০১৯১৬০৯৯০২০
ইমেইলঃ [email protected], [email protected]

সম্পাদক:
মোঃ সুলতান চিশতী

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ
মহসিন হাসান খান (বুলবুল)

নির্বাহী সম্পাদকঃ
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন

সহকারী সম্পাদকঃ
মোঃ আতোয়ার হোসেন

আইন উপদেষ্টাঃ
শাহিন সরকার


.: Developed By :.
Great IT