২০শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ৫ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, শরৎকাল

রাজশাহীর রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনায় ছিল রাব্বানি-আমিনুল

প্রকাশিতঃ জানুয়ারি ২, ২০১৮, ৭:০৯ অপরাহ্ণ


রাজশাহীর রাজনৈতিক অঙ্গনে সদ্য বিদায়ী বছরে নানা-ঘাত প্রতিঘাত, মেরুকরণ-সমিকরণ, সাফল্য-ব্যর্থতা,উঙ্খান-পতন ইত্যাদি নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনায় সর্বপরি সাংগঠনিক কর্মকান্ড নিয়ে দেশের দুটি বড় রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতাকর্মীরা শুরু করেছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। এদিকে রাজশাহীর রাজনৈতিক অঙ্গনে বিদায়ী বছর জুড়েই আলোচনার শীর্ষে ছিল দু’জন রাজনৈতিক নেতা। তাদের একজন তানোর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মুন্ডুমালা পৌর মেয়র গোলাম রাব্বানী এবং অপরজন বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান ও সাবেক ডাকমন্ত্রী ব্যারিস্টার আমিনুল হক। রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) সংসদীয় আসনে বিগত সংসদ নির্বাচনে গোলাম রাব্বানী মনোনয়ন উত্তোলন করেছিনে। আর সেই সময়ের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গোলাম রাব্বানীর আকাশচুম্বি জনপ্রিয়তা থাকার পরেও বর্তমান সংসদ সদস্য (এমপি) ও রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ওমর ফারুক চৌধূরীকে ছাড় দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে আসেন। এতে বিনা প্রতিদন্দ্বিতায় (ভোট বিহীন) পুনরায় ওমর ফারুক চৌধূরী এমপি মনোনিত হয়। আর রাব্বানী নির্বাচন থেকে সরে এসে দল ও নেতৃত্বের প্রতি আনুগত্য প্রকাশের বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। কিšত্ত রাজশাহী জেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মোহাম্মদ আলী সরকার ও আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী মাহাবুব জামান (ভূলু) প্রতিদন্দ্বিতা করেন। এদিকে ওই নির্বাচনে গোলাম রাব্বানী আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মোহাম্মদ আলী সরকারের পক্ষ নেয় এবং এমপি ওমর ফারুক চৌধূরী আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী মাহাবুব জামান পক্ষ নিয়ে মাঠে নামেন। ওই নির্বাচনে প্রায় চারগুন ভোট বেশি পেয়ে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মোহাম্মদ আলী সরকার দলীয় প্রার্থী মাহাবুব জামান ভূলুকে পরাজিত করেন। আর এই নির্বাচনের পর পরই গোলাম রাব্বানীর সঙ্গে এমপি ওমর ফারুক চৌধূরীর মতবিরোধ প্রকাশ্য উঠে আসে। এ ঘটনার পর পরই রাজশাহী আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে রাব্বানীকে ঘিরে শুরু হয় আলোচনা বিগত বছর জুড়েই তিনি ছিলেন আলোচনার শীর্ষে। সম্প্রতি গোলাম রাব্বানী রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) সংসদীয় আসনে আগামি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশা করে মাঠে নামলে আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ হয়। এদিকে বিগত বছর জুড়েই বিভিন্ন এলাকায় ইসলামি জালসা ও বিভিন্ন খেলা-ধুলার মাধ্যমে রাব্বানী রাজনৈতিক অঙ্গনে তার নিজস্ব বলয় তৈরী ও গণজোয়ার সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছেন। এছাড়াও তানোর সদরের স্কুল বাদ রেখে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দুরে অবস্থিত মুন্ডুমালা পৌর এলাকার মুন্ডুমালা উচ্চ বিদ্যালয়কে জাতীয় করণের ঘোষণা দেয়ায় সাধারণ মানুষ এর কৃতিত্ব গোলাম রাব্বানীর বলে মনে করছে। রাজশাহীর রাজনৈতিক অঙাগনে এসব বিবেচনায় বিগত বছর জুড়েই আলোচনার শীর্ষে ছিলেন গোলাম রাব্বানী বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। আবার রাজনৈতিক অঙ্গনে রাব্বানির টার্নিং পয়েন্ট তার পরিবারের শত বছরের রাজনৈতিক ঐতিহ্য, তার বর্নাঢ্য রাজনৈতিক জীবন ও তার পিতা প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী মাহাম। এখানো এই অঞ্চলে মাহামের বিপুল জনপ্রিয়তা রয়েছে। সেই জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগাতে পারলে এখানো যেকোনো প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনে বিজয়ী হওয়া অনেকটা সহজ বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অভিমত।
অপরদিকে রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগী) সংসদীয় আসনের নির্বাচনী এলাকা ও রাজশাহীর বিএনপির রাজনীতিতে আলোচনায় ছিলেন বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান ও সাবেক ডাকমন্ত্রী ব্যারিস্টার আমিনুল হক। ব্যারিস্টার আমিনুল হক আবারো বিএনপিতে সক্রীয় হবে কি ? না ? বা সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন পাবেন কি ? না ? তাঁর বিরুদ্ধে নানা মামলা রয়েছে এতে তার রাজনৈতিক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হবে কি ? না ? ইত্যাদি এসব নিয়ে তিনি বছর জুড়ে আলোচনায় ছিলেন। তবে তাকে নিয়ে যতোই আলোচনা-পর্যালোচনা বা সমালোচনা হোক রাজশাহী-১ আসনে তিনি অপ্রতিদ্বন্দী রাজনৈতিক নেতা এবিষয়ে কারো কোনো দ্বিমত নাই। এখানো রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যারিস্টার আমিনুলের বিপুল জনসমর্থন ও নিজস্ব বিশাল ভোট ব্যাংক রয়েছে যেটি অন্য যেকোনো রাজনৈতিক নেতার পক্ষে ভাঙ্গা বা পক্ষে নেয়া প্রায় অসম্ভব বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অভিমত। এছাড়াও তার পরে তানোর-গোদাগাড়ীতে দৃশ্যমান তেমন কোনো উন্নয়ন কর্মকান্ড না হওয়ায় সাধারণের মধ্যে আবারো নতুন করে ব্যক্তি ব্যারিস্টার আমিনুলের আলাদা গ্রহণযোগ্যতা সুষ্টি হয়েছে। রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যারিস্টার আমিনুলের ব্যাপক ইতিবাচক দিক রয়েছে যা তাকে অন্যদের তুলনায় অনেক দুর এগিয়ে রেখেছেন। এদিকে সম্প্রতি ব্যারিস্টার আমিনুল হক সব-জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে তানোর-গোদাগাড়ীতে কয়েকটি রাজনৈতিক কর্মসূচি সফল করায় তার প্রার্থীতা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে যে সন্দেহ বা গুঞ্জন রটিয়ে ছিলো সেটার অবসান হয়েছে। ফলে ব্যারিস্টার আমিনুলের সরব ও সফল প্রত্যাবর্তন রাজনৈতিক অঙ্গনে ছিল আলোচনার বড় বিষয়। সবকিছু মিলে এই তুটি বড় রাজনৈতিক তলের হেভিওয়েট তুই নেতাকে ঘিরে বিগত বছর জুড়েই ছিল আলোচনায় সরব বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

Leave a Reply

এই বিভাগের আরো খবর

৯৭/৩/খ, উত্তর বিশিল, মিরপুর-১, ঢাকা-১২১৬
মোবাইলঃ ০১৭১২-৬৪৩৬৭৩, বার্তা বিভাগঃ ০১৭১২-৬৪৪৩৫০
ইমেইলঃ [email protected], [email protected]

সম্পাদক:
মোঃ সুলতান চিশতী

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ
মহসিন হাসান খান (বুলবুল)

নির্বাহী সম্পাদকঃ
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন

সহকারী সম্পাদকঃ
মোঃ আতোয়ার হোসেন

আইন উপদেষ্টাঃ
শাহিন সরকার


.: Developed By :.
Great IT