১৪ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ৩০শে কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, হেমন্তকাল

রদ্রিগেজ ছাড়া কলম্বিয়া পারবে?

প্রকাশিতঃ জুলাই ৩, ২০১৮, ১০:০৪ অপরাহ্ণ


যেসব কারণে বিশ্বকাপ সব টুর্নামেন্টের মধ্যে অনন্য, তার একটি হলো শেখার সুযোগ। রাশিয়া বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব ইতিমধ্যে একটা জিনিস দেখিয়ে দিয়েছে, দলে যত প্রতিভাই থাকুক না কেন; শৃঙ্খলা, কঠোর পরিশ্রম ও একাগ্রতার কোনো বিকল্প নেই। এগুলো থাকলে অন্য গুণের ঘাটতিও কাটিয়ে উঠতে পারবেন।

এ প্রসঙ্গে সবার আগে বলতে হবে রাশিয়ার কথা। তারকায় ঠাসা স্পেনের বিপক্ষে স্বাগতিকেরা দুর্দান্ত প্রতিরোধ দেখিয়েছে। স্টেডিয়ামভর্তি দর্শকের চিৎকারে উজ্জীবিত হয়ে দুর্দান্ত খেলেছে। তার এক দিন আগে, রক্ষণাত্মক ফুটবলের অসাধারণ প্রদর্শনীতে উরুগুয়ে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে নিষ্ক্রিয় করে রেখেছিল। দুই ম্যাচের লক্ষণীয় দিক ছিল, রাশিয়া বা উরুগুয়ে কোনো দলই টানা চাপের মুখেও ভেঙে পড়েনি। এমনকি ডেনমার্কও পেনাল্টিতে হেরে যাওয়ার আগে ক্রোয়েশিয়াকে বেশ ভুগিয়েছে।

আগেই বলেছিলাম, এ ধরনের একগুঁয়ে রক্ষণ এবারের বিশ্বকাপের শিরোনাম হয়ে উঠতে পারে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কলম্বিয়াকেও এ রকমই কোনো পরিকল্পনা নিয়ে হাজির হতে হবে। হামেস রদ্রিগেজ থাকলে তারা ভিন্ন এক দল হয়ে ওঠে। ওকে ছাড়া কলম্বিয়াকে ঠিক সৃষ্টিশীল লাগে না। তা ছাড়া ওর গোল করার ক্ষমতাও প্রতিপক্ষের জন্য হুমকি। চোটের কারণে হামেস (রদ্রিগেজ) বাইরে থাকলে সেটা ইংল্যান্ডের জন্য বড় সুবিধা হবে।

নিজের সেরা অস্ত্রকে ছাড়া মাঠে নামতে হলে নিশ্চয়ই বিকল্প কোনো পরিকল্পনা নিয়েই নামবেন হোসে পেকারম্যান। এই বিশ্বকাপে কলম্বিয়া এর আগে হামেসকে ছাড়াই সেনেগালের বিপক্ষে খেলেছে (চোট নিয়ে ৩১ মিনিটে মাঠ ছেড়েছিলেন হামেস রদ্রিগেজ) এবং জিতেছে। যার অর্থ, দলটিতে ভরসা করার মতো আরও খেলোয়াড় আছে। হুয়ান কিন্তেরো গোলমুখে দারুণ সব রক্ষণচেরা পাস দিয়েছে। হুয়ান কুয়াদ্রাদো প্রতিপক্ষের জন্য হুমকি হয়ে উঠেছে, রাদামেল ফ্যালকাও একটা গোল করেছে। দলকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার ভারটা এদের সবাইকে ভাগ করে নিতে হবে।

হামেসকে ছাড়া নামতে হওয়া প্রথম ম্যাচের মতো ইংল্যান্ডের বিপক্ষেও কলম্বিয়া ৪-২-৩-১ ছকে খেলতে পারে। ইংল্যান্ডের ৩-১-৪-২ ছক সামলাতে মাঝমাঠ ও রক্ষণে সতর্ক থাকতে হবে। দুজন স্ট্রাইকার ও সদা চলনশীল মিডফিল্ড দক্ষিণ আমেরিকার দলটিকে ক্রমাগত চাপে ফেলবে। কলম্বিয়ার মাঝমাঠকেই এই চাপটা সামলাতে হবে। হামেস থাকুক বা না থাকুক, আমার মনে হয় কলম্বিয়া লড়াই করবে। আর প্রেরণার জন্য এই বিশ্বকাপেরই কিছু ম্যাচের দিকে তাকাতে পারে দলটি।

গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে বেলজিয়ামের কাছে হেরে নকআউট পর্বের কঠিন অংশটা এড়িয়ে ইংল্যান্ড খুশিই হয়েছে। মৌলিক বিষয়গুলোর সঙ্গে আপোস না করেও গ্যারেথ সাউথগেটের দল দারুণ চিত্তাকর্ষক ফুটবল খেলেছে। দলটির বেশির ভাগ গোলেরই উৎস সেট পিস বা ডেড বল, সঙ্গে দুটি পেনাল্টিও রয়েছে। এটা প্রমাণ করে, দলটির পরিকল্পনাগুলো কাজ করছে। তবে নকআউট পর্ব ইংলিশদের জন্য ভিন্ন এক পরীক্ষা নিয়েই হাজির হবে। যেখানে শুধু খেলোয়াড়ি সামর্থ্যই যথেষ্ট হবে না, প্রয়োজন পড়বে মানসিক শক্তিরও।

দিনের প্রথম ম্যাচটায় লড়বে ইউরোপের দুই দল। সুইডেন ও সুইজারল্যান্ড কাছাকাছি ধরনের জমাট ফুটবল খেলে। দুই দলের মধ্যে তেমন পার্থক্য নেই। গোল না খাওয়ার ব্যাপারে জোর দিয়ে দুটি দলই প্রতি-আক্রমণের দিকেই মনোযোগী হলে লো স্কোরিং এক ম্যাচের দেখাই মিলবে। গোলের খুব বেশি সুযোগ আসবে না, যে দল তা বেশি কাজে লাগাতে পারবে, নির্ধারিত সময়ে তাদের জয়ের সম্ভাবনাই বেশি।

ডিয়েগো ম্যারাডোনা: ১৯৮৬ বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টিনার অধিনায়ক

Leave a Reply

৯৭/৩/খ, উত্তর বিশিল, মিরপুর-১, ঢাকা-১২১৬
মোবাইলঃ ০১৭১২-৬৪৩৬৭৩, বার্তা বিভাগঃ ০১৭১২-৬৪৪৩৫০, সার্কুলেশন বিভাগঃ০১৯১৬০৯৯০২০
ইমেইলঃ [email protected], [email protected]

সম্পাদক:
মোঃ সুলতান চিশতী

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ
মহসিন হাসান খান (বুলবুল)

নির্বাহী সম্পাদকঃ
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন

সহকারী সম্পাদকঃ
মোঃ আতোয়ার হোসেন

আইন উপদেষ্টাঃ
শাহিন সরকার


.: Developed By :.
Great IT