২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ১০ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, শরৎকাল

মুকসুদপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মুন্সী রুহুল আসলামের ডিএনএ পরীক্ষা সম্পন্ন

প্রকাশিতঃ আগস্ট ১৪, ২০১৮, ৩:০১ অপরাহ্ণ


এম শিমুল খান (গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি) – গোপালগঞ্জ জেলার সদর উপজেলার পশ্চিম হরিদাসপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষিকা সাবিহা শারমিন (৩৬) স্ত্রী ও সন্তানকে ¯ী^কৃতি দাবীতে মুকসুদপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুন্সী রুহুল আসলামের বিরুব্ধে গোপালগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালে মামলা হয় যাহার নং নারী ও শিশু ২৪২/১৮ মামলায় তিনি স্বেচ্ছায় হাজির হয়ে ৫-৬-২০১৮ তারিখে জামিন পাওয়ায় বিএসআর প্রথম খন্ডের ৭৩ (২) বিধি এবং সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ের স্মারক নং ইডি (রেগ-৬)১২৩/৭৮/১১৫(৫০০) তারিখ ২১-১১-১৯৭৮ অনুযায়ী গত ১২ আগষ্ট ২০১৮ তারিখে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন-২) নার্গিস সাজেদা সুলতানা স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে সরকারী চাকুরি থেকে তাকে সাময়িক ভাবে বরখাস্ত করেছেন। ০৫-০৬-২০১৮ ইং তারিখ থেকে সাময়িক বরখাস্ত কার্যকর হবে বলে ওই প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ্য করা হয়েছে।
মামলার বিবরন ও বাদীর দেয়া বক্তব্যে জানা যায়, ২০১০ সালে গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী উপজেলার ফুকরা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষিকা হিসেবে সাবিহা শারমিন (৩৬) যোগদান করে। মামলার আসামী মুন্সি রুহুল আসলাম একই উপজেলার সহকারি শিক্ষা অফিসার হিসেবে দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। চাকুরীর সুবাদে আসামী রুহুল আসলামের সঙ্গে সাবিহা শারমিনের পরিচয় ঘটে এবং আন্তরিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এক পর্যায়ে রুহুল আসলাম সাবিহাকে তার ভাড়া বাসায় ডেকে নিয়ে বিয়ের করার প্রলোভন দেখিয়ে সাবিহা শারমিনের আপত্তি সত্বেও শারিরীক সম্পর্কে লিপ্ত হতে বাধ্য করে। পরে ওই শিক্ষিকা তাকে বিভিন্ন ভাবে বিয়ের জন্য চাপ দিলে ২০১২ সালে হুজুর ডেকে ইসলামী শরীয়া মোতাবেক তার এক বন্ধুর বাসায় বিয়ে করে মুন্সী রুহুল আসলাম।
বিয়ের পর তারা স্বামী-স্ত্রী হিসেবে বসবাস করতে থাকে বলে জানায় সাবিহা শারমিন। এ সময়ে সাবিহা শারমিন কাবিন রেজিস্ট্রি করতে আসলামকে কয়েকবার চাপ দিলে প্রথম স্ত্রী মামলা করবে এবং তার চাকরী চলে যাবে অজুহাত দিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যায় রুহুল আসলাম। ২০১৪ সালে সাবিহা শারমিনের গর্ভে এক পূত্র সন্তান জন্ম গ্রহন করে। সন্তানের জন্মের পরে কাবিনের জন্য চাপ দিতে থাকলে সময় অসময়ে স্বামী তার উপর শারীরিক নির্যাতন করতো বলে জানায় সাবিহা শারমিন। এক পর্যায়ে আসলাম জানায় তাকে ১০ লক্ষ টাকা যৌতুক দেয়া না হলে কাবিন করবেনা এবং স্ত্রী হিসেবে তাকে স্বীকৃতি দেবে না।
স্থানীয় ভাবে বিষয়টি মিমাংসার চেষ্টা করা হলেও তা সফল হয়নি। আবেদনের প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক বিষয়টি অবগত হলে তিনি জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে রুহুল আসলামকে নিয়ে তার অফিসে যেতে বললেও রুহুল আসলাম হাজির হয়নি। এর কিছু দিন পরে রুহুল আসলাম বদলী হয়ে একই জেলার মুকসুদপুর উপজেলায় যোগদান করেন।
সাবিহা শারমিন আরো জানায় মুকসুদপুরের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে বিষয়টি মিমাংসার জন্য অনেক চেষ্টা করেও তিনি ব্যর্থ হোন। অবশেষে সে বাধ্য হয়ে গত ৯ এপ্রিল ২০১৮ তারিখে গোপালগঞ্জ বিজ্ঞ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেন। প্রমান হিসাবে বিয়ের আগে ও পরে রুহুল আসলামের পাঠানো শতাধিক মোবাইল ফোন ম্যাসেজের ফটো কপি আদালতে দাখিল করে বলে জানায় সাবিহা শারমিন। আদালত মামলা আমলে নিয়ে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করলেও টাকার জোরে প্রকাশ্যে মুকসুদপুর উপজেলা শিক্ষা অফিসার হিসেবে রয়েছেন।
গত ৩ জুলাই সাবিহার আইনজীবী আদালতে ডিএনএ টেষ্ট এর আবেদন করলে আদালত আসামীকে ডিএনএ টেষ্ট পর্যন্ত জামিন দেন।
গত ১২ জুলাই গোপালগঞ্জ সদর থানার এসআই ও মামলার আইও বকুল শিক্ষা কর্মকর্তা মুন্সি রুহুল আসলাম, সাবিহা শারমিন ও তাদের ছেলে মুুন্সি আবরার রুহিতকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে ১৩ জুলাই তাদের ঢাকায় ডিএনএ টেষ্ট করান। অপর দিকে মুকসুদপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্র্তা মুন্সি রুহুল আসলাম কে বিএসআর প্রথম খন্ডের ৭৩ (২) বিধি এবং সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ের স্মারক নং ইডি (রেগ-৬)১২৩/৭৮/১১৫(৫০০) তারিখ ২১-১১-১৯৭৮ অনুযায়ী গত ১২ আগষ্ট ২০১৮ তারিখে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন-২) নার্গিস সাজেদা সুলতানা স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে সরকারী চাকুরি থেকে তাকে সাময়িক ভাবে বরখাস্ত করা হয়।
মুকসুদপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্র্তা মুন্সি রুহুল আসলামের সাময়িক ভাবে বরখাস্তের ঘটনা জানাজানি হলে মুকসুদপুরের বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মাঝে আনন্দ দেখা যায়। এ সময় তারা এক অপরকে মিষ্টি মুখ করান বলে জানা গেছে। বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝেও মিষ্টি বিতরন করে।
এ ব্যাপারে মুকসুদপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্র্তা মুন্সি রুহুল আসলামের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে বার বার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোনটি রিসিভ করেননি।

Leave a Reply

৯৭/৩/খ, উত্তর বিশিল, মিরপুর-১, ঢাকা-১২১৬
মোবাইলঃ ০১৭১২-৬৪৩৬৭৩, বার্তা বিভাগঃ ০১৭১২-৬৪৪৩৫০
ইমেইলঃ [email protected], [email protected]

সম্পাদক:
মোঃ সুলতান চিশতী

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ
মহসিন হাসান খান (বুলবুল)

নির্বাহী সম্পাদকঃ
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন

সহকারী সম্পাদকঃ
মোঃ আতোয়ার হোসেন

আইন উপদেষ্টাঃ
শাহিন সরকার


.: Developed By :.
Great IT