১৬ই অক্টোবর, ২০১৮ ইং | ১লা কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, হেমন্তকাল

মানসিকতাও বদলাইতে হইবে

প্রকাশিতঃ সেপ্টেম্বর ২০, ২০১৮, ১২:৫৬ অপরাহ্ণ


গত রবিবার রাত্রে রাজধানীর খিলগাঁওয়ে যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় এক রিকশাচালক নিহত হয়। রাত্রি ভোর না হইতেই বাংলামোটর মোড়ে মালবোঝাই একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারাইয়া সড়ক দ্বীপে উঠিয়া পড়ে। প্রায় একই সময়ে দিনাজপুরে নিয়ন্ত্রণ হারাইয়া মসজিদে ঢুকিয়া পড়ে একটি লরি। পরের দিন সোমবার বিকালে খিলক্ষেতে বাসের ধাক্কায় রাইড শেয়ারিং অ্যাপ পাঠাও-এর মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়, আহত হয় ওই মোটরসাইকেল চালক। সমগ্র দেশের হিসাব ধরিলে, বিভিন্ন স্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় সোমবার সাতজন নিহত হইয়াছেন। সপ্তাহের অন্য যেকোনো দিনও সাত বা ততোধিক সড়ক দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যুর খবর চোখে পড়িবে। দুর্ঘটনা গবেষণা কেন্দ্রের হিসাবে ২০১৫ হইতে চলতি বত্সর জুন পর্যন্ত দেশে প্রায় ১৮ হাজার দুর্ঘটনা হইয়াছে এবং এসকল দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাইয়াছে প্রায় ২৪ হাজার মানুষ।

বাংলাদেশের সংবাদপত্রে চলতি বত্সরের ১৭ই এপ্রিল তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থী রাজীবের বিচ্ছিন্ন হাতের ছবি দেখিয়া সকলেই শিহরিত হন। ভয়াবহ সেই ঘটনার রেশ না কাটিতেই ২৯শে জুলাই ফুটপাতে বাস চাপায় দুই স্কুল শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ভয়াবহ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হইয়া ওঠে মানুষ। শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নামিয়া আসে এবং এক পর্যায়ে তাহারাই ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের কাজ করিতে থাকে। সরকারের দিক হইতেও সড়কের নানা অনিয়ম নৈরাজ্যের বিষয়টি আমলে নিয়া নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়। ইতোমধ্যে সড়ক পরিবহন আইনের খসড়া অনুমোদিত হইয়াছে। কাগজপত্রহীন যানবাহন এবং লাইসেন্সবিহীন চালকদের বিরুদ্ধে অভিযানও চলিতেছে। আন্দোলনের পর যত্রতত্র রাস্তা পারাপারের প্রবণতা কমিয়াছে বটে, কিন্তু মহাসড়কে বড় দুর্ঘটনা কমে নাই। চালকদের বেপরোয়া মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ এখনও দেখা যাইতেছে। ঢাকা শহরের বাসগুলোর মধ্যে যাত্রী তোলার প্রতিযোগিতাও আগের মতোই আছে। আন্দোলনের পর রাজধানীর রাস্তায় সংকেতব্যবস্থা ও যানবাহন নিয়ন্ত্রণপদ্ধতির বিষয়টি আবারো আলোচনায় আসে। ঢাকাসহ দেশের ট্রাফিক-ব্যবস্থার সার্বিক উন্নয়ন ও নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করিতে উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটিও করে সরকার। কমিটির একটি সভাও হইয়াছে। দেওয়া হইয়াছে গুরুত্বপূর্ণ কিছু নির্দেশনাও। কিন্তু সামগ্রিকভাবে পরিস্থিতি প্রায় অপরিবর্তিতই আছে।

ইউএনডিপি প্রকাশিত মানব উন্নয়ন প্রতিবেদনে দেখা যাইতেছে যে, বাংলাদেশ সার্বিকভাবে আরও দুই ধাপ আগাইয়াছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন সামাজিক সূচকে ভারত ও পাকিস্তানের চাইতেও আগাইয়া আছে বাংলাদেশ। গড় আয়ু, মাতৃমৃত্যু, শিশুমৃত্যু, স্কুলে পাঠগ্রহণ ইত্যাদি খাতে বাংলাদেশ বেশ আগাইয়াছে। এই আনন্দ সংবাদের পাশে দুঃখের কথা হইল, সরকারের আন্তরিকতা সত্ত্বেও সড়কের বেহাল দশা কাটিতেছে না। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পরেও বারবার আলোচনায় আসিয়াছে সড়কে বিশৃঙ্খলা ও দুর্ঘটনার বিষয়টি। বিশেষত চট্টগ্রামে ভাড়া নিয়া ঝগড়ার পরিণতিতে যাত্রীকে ধাক্কা দিয়া চলন্ত বাস হইতে ফেলিয়া চাপা দিয়া খুন কিংবা কুষ্টিয়ায় মায়ের কোল হইতে বাসের ধাক্কায় শিশুর ছিটকাইয়া পড়ার ঘটনা সকলকেই নাড়া দিয়াছে। অযান্ত্রিক যানগুলি আবারও ফিরিয়া আসিতে শুরু করিয়াছে মহাসড়কে। আমরা তাই পরিবহন মালিক, চালক এবং যাত্রীদের মানসিকতা পরিবর্তনে আরও গভীর অনুসন্ধান এবং ট্রাফিক আইনের কঠোর বাস্তবায়ন প্রত্যাশা করি। এইক্ষেত্রে পিছাইয়া আসার কোনো সুযোগ নাই।

Leave a Reply

৯৭/৩/খ, উত্তর বিশিল, মিরপুর-১, ঢাকা-১২১৬
মোবাইলঃ ০১৭১২-৬৪৩৬৭৩, বার্তা বিভাগঃ ০১৭১২-৬৪৪৩৫০
ইমেইলঃ [email protected], [email protected]

সম্পাদক:
মোঃ সুলতান চিশতী

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ
মহসিন হাসান খান (বুলবুল)

নির্বাহী সম্পাদকঃ
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন

সহকারী সম্পাদকঃ
মোঃ আতোয়ার হোসেন

আইন উপদেষ্টাঃ
শাহিন সরকার


.: Developed By :.
Great IT