২২শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ৭ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, শরৎকাল

মাদকের পৃষ্ঠপোষকতায় সাংসদের নাম

প্রকাশিতঃ জানুয়ারি ১৪, ২০১৮, ৩:৩৩ অপরাহ্ণ


রাজশাহীতে মাদক ব্যবসায় ব্যবহৃত হচ্ছেন নিরীহ মানুষজন। আর অবৈধ এই ব্যবসা থেকে অল্প সময়ে বিত্তবৈভব গড়ছেন কিছু অসাধু রাজনীতিক। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রতিবেদন এ কথা বলছে। ওই প্রতিবেদনে ১৫ জন প্রভাবশালী মাদক ব্যবসায়ীর নাম রয়েছে। তাঁদের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে নাম রয়েছে রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) আসনের সাংসদ, সাবেক শিল্প প্রতিমন্ত্রী ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরীর।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক অধিশাখা-২ থেকে এই তালিকা রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে আসে গত বছরেরমাঝামাঝিতে। এতে উপসচিব মো. নায়েব আলীর সই রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজশাহীতে উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের একশ্রেণির অসাধু রাজনীতিক মাদক ব্যবসায় জড়িত। তাঁরা ফেনসিডিল, হেরোইন, ইয়াবাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকের ব্যবসা করেন। মাদক ব্যবসা বা চোরাচালান এলাকায় নতুন নতুন মাদকসেবী সৃষ্টি করেছে। এসব মাদকসেবী অর্থের জোগান পেতে ছিনতাই, চাঁদাবাজি, খুনসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ছেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবেই ফারুক চৌধুরী মাদক ব্যবসায়ীদের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে উল্লেখ রয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকায় সাংসদের পাশাপাশি মাদক ব্যবসায়ীদের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে গোদাগাড়ী পৌরসভার সাবেক মেয়র ও জামায়াত নেতা আমিনুল ইসলামের নামও আছে। অবশ্য আমিনুল ইসলাম এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

এই বিষয়ে সাংসদ ওমর ফারুক চৌধুরী বলেন, এ রকম প্রতিবেদন সরকারের কোন সংস্থা দিয়েছে, তিনি জানেন না।

কে ষড়যন্ত্র করেছে, এ প্রশ্নের জবাবে সাংসদ বলেন, ‘ওই ডিআইজি আছে। তার চেলাচামুণ্ডা থাকতে পারে। তারা হয়তো কাউকে দিয়ে এ রকম কিছু করাইছে।’

ওমর ফারুক চৌধুরী ডিআইজি বলতে যাঁকে বুঝিয়েছেন, তিনি আসলে অবসরপ্রাপ্ত পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক মতিউর রহমান। তিনি ২০০১ সালে চাকরিচ্যুত হন। তাঁর বাড়ি রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে, তিনি বর্তমানে রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা। আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে মাঠে আছেন।

সাংসদের অভিযোগের বিষয়ে মতিউর রহমান কোনো জবাব দিতে রাজি হননি। তিনি বলেন, ‘আমি নোংরা কথা কম বলি। অসত্য কথা বলি না। ঘুষ যারা খায়, কখনোই হারিকেন জ্বালিয়ে খায় না। এ বিষয়ে আমি কিছু বলব না।’

শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকা

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকায় রাজশাহীর শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে যাঁদের নাম এসেছে, তাঁদের মধ্যে প্রথম ১০ জনের বাড়ি গোদাগাড়ী উপজেলায়। তাঁরা হলেন রবিউল ইসলাম ওরফে রবি (৩৫), নওশাদ আলী (৬০), মো. সেলিম (৩০), মো. হযরত আলী (৩৫), নাজিবুর (৩৫), তোফাজ্জল (৩৭), হায়দার আলী (৪৩), সোহেল (২৮), সেতাবুর রহমান ওরফে বাবু (২৭) ও টিপু (২৫)। বাকিরা হলেন চারঘাট উপজেলার মো. আশরাফ আলী (৪২), দুর্গাপুর উপজেলার মো. সেলিম, খুকু রানি (বয়স দেওয়া নাই) ও মো. সিদ্দিক (বয়স দেওয়া নেই) ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের কোদালকাটি গ্রামের জব্বার আলী (বয়স দেওয়া নেই)।

এলাকায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে তালিকায় থাকা এই ১৫ জনের মাদক বেচাকেনায় যুক্ত থাকার বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেছে। তাঁদের বেশির ভাগের বিরুদ্ধে মাদক ও চোরাচালানের মামলাও আছে।

নিরাময় না আসক্ত কেন্দ্র?

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকা অনুযায়ী, প্রভাবশালী মাদক ব্যবসায়ী ও চোরাকারবারিদের একজন নওশাদ আলী। বাড়ি গোদাগাড়ী পৌরসভার মাদারপুর মহল্লায়। একসময় উপজেলা জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। পরে বিএনপিতে যোগ দিয়ে ওয়ার্ড সভাপতি হয়েছিলেন। এখন পদে না থাকলেও দলে সক্রিয় আছেন।

নওশাদের দুই ছেলে জাহাঙ্গীর ও আলমগীরের বিরুদ্ধেও মাদক ব্যবসার অভিযোগ রয়েছে। জাহাঙ্গীর গত বছর কুমিল্লায় ২ লাখ ইয়াবা বড়িসহ র‍্যাবের হাতে ধরা পড়েন। পরে জামিনে মুক্তি পান। এর আগে টাঙ্গাইলে হেরোইনসহ ধরা পড়ার ঘটনায় জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে মামলা হয়। গোদাগাড়ী থানায়ও তাঁর বিরুদ্ধে মামলা আছে। গোদাগাড়ী থানার পুলিশও তাঁকে একবার আটক করেছিল।

গোদাগাড়ীর মহিশালবাড়ি এলাকায় আছে ‘আসক্ত নিরাময় কেন্দ্র’ (আনিক)। এটি নওশাদ ও তাঁর ছেলেদের প্রতিষ্ঠান। নামে মাদক নিরাময় কেন্দ্র হলেও প্রতিষ্ঠানটি তাঁদের মাদক ব্যবসা আড়াল করার একটি ঢাল বলে মনে করেন স্থানীয় লোকজন। যদিও নওশাদ আলী নিরাময়কেন্দ্রের আড়ালে মাদক ব্যবসার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

২০১৩ সালের ২ নভেম্বর রাতে এই নিরাময়কেন্দ্রে জুয়া খেলার সময় পুলিশ ১৯ জনকে আটক করে। তাঁদের মধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকার ৫ নম্বরে থাকা নাজিবুর রহমানও ছিলেন। তাঁদের ছাড়াতে পরদিন সকালে অর্ধশত মাদক ব্যবসায়ী গোদাগাড়ী থানায় ভিড় করেন। বেলা তিনটার দিকে আটক ব্যক্তিদের আদালতে পাঠানোর আগ পর্যন্ত তাঁরা থানায় ছিলেন। ৭ জানুয়ারি এই নিরাময়কেন্দ্রে গিয়ে ৭ জন রোগী পাওয়া যায়।

Leave a Reply

৯৭/৩/খ, উত্তর বিশিল, মিরপুর-১, ঢাকা-১২১৬
মোবাইলঃ ০১৭১২-৬৪৩৬৭৩, বার্তা বিভাগঃ ০১৭১২-৬৪৪৩৫০
ইমেইলঃ [email protected], [email protected]

সম্পাদক:
মোঃ সুলতান চিশতী

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ
মহসিন হাসান খান (বুলবুল)

নির্বাহী সম্পাদকঃ
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন

সহকারী সম্পাদকঃ
মোঃ আতোয়ার হোসেন

আইন উপদেষ্টাঃ
শাহিন সরকার


.: Developed By :.
Great IT