১৭ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ৩রা অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, হেমন্তকাল

মাকে লালন-পালনের খরচ দিতে ছেলেকে নির্দেশ

প্রকাশিতঃ জানুয়ারি ৩, ২০১৮, ৭:১৯ অপরাহ্ণ


লালন-পালনে মায়ের যে খয়খরচা হয়েছে, সেটা সন্তানকে পরিশোধের আদেশ দিয়েছেন তাইওয়ানের এক আদালত। আদালতে আট বছর মামলা লড়ে এ অধিকার আদায়ের সুযোগ পেয়েছেন লো নামের এক নারী।

১৯৯০ সালে স্বামীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হয়ে যায় লোর। এরপর দুই ছেলেকে বড় করেন তিনি। ছেলেদের বয়স ২০ বছর পেরোলে মায়ের দেখভাল নিয়ে মা ও ছেলেদের মধ্যে চুক্তি হয়। ছেলেরা চুক্তি অমান্য করায় মা বাধ্য হয়ে আদালতের দ্বারস্থ হন।

এএফপির খবরে জানানো হয়, সন্তান লালন-পালনে একলা দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে একপর্যায়ে লো আশঙ্কা করেন, ছেলেরা কোনো একসময় তাঁকে পরিত্যাগ করতে পারে। তাই ২০ বছর পেরোলে ছেলেদের সঙ্গে তিনি লিখিত চুক্তি করেন। সেখানে বলা হয়, ছেলেদের আয়ের লভ্যাংশের ৬০ শতাংশ অবশ্যই তাঁকে (মা) দিতে হবে।

স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে জানানো হয়, লো অভিযোগ করেন, দুই ছেলে যখন প্রেম-ভালোবাসায় জড়িয়ে যান, তখন থেকে তাঁরা তাঁকে অবহেলা করছেন। তাঁদের বান্ধবীরা পর্যন্ত আইনজীবীর মাধ্যমে তাঁকে চিঠি পাঠিয়ে ছেলেদের ‘বিরক্ত’ না করতে বলেন।

ছেলেরা চুক্তি প্রত্যাখ্যান করায় আট বছর আগে লো মামলা করেন। তবে বড় ছেলে বিষয়টি মিটমাট করার জন্য ১০ লাখ তাইওয়ান ডলার দেন।

কিন্তু দন্তচিকিৎসক ছোট ছেলে অভিযোগ করেন, এই চুক্তি মা-বাবা ও সন্তানদের মধ্যে চিরন্তন যে রীতি, তা লঙ্ঘন করে। সন্তানকে লালন-পালন করার বিষয়টি কখনোই আর্থিকভাবে পরিমাপ করা উচিত নয়। তিনি এ নিয়ে মায়ের বিরুদ্ধে আদালতে যান।

নিম্ন আদালত ছেলের পক্ষে রায় দেওয়ার পর লো সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেন। সর্বোচ্চ আদালত তাঁর দেওয়ার রায়ে বলেছেন, এই চুক্তি বৈধ। কারণ, চু (ছেলেদের বংশগত নাম) যখন এতে সই করেন, তখন তিনি প্রাপ্তবয়স্ক। আর যেহেতু তিনি একজন দন্ত চিকিৎসক, তাই তিনি ওই অর্ধ পরিশোধ করতে সক্ষম।

সর্বোচ্চ আদালত দন্তচিকিৎসক ছেলেকে বলেছেন, তাঁকে লালন-পালন করে বড় করতে এবং পড়াশোনা করাতে মায়ের যে কষ্ট ও খরচ হয়েছে, এ বাবদ ২ কোটি ২৩ লাখ ৩০ হাজার তাইওয়ান ডলার (৭ লাখ ৪৪ হাজার মার্কিন ডলার) পরিশোধ করতে হবে।

তাইওয়ানে সম্প্রতি কয়েক বছর ধরে বয়স্ক ব্যক্তিদের সঙ্গে খারাপ আচরণ ও তাঁদের একা ফেলে যাওয়ার ঘটনা বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে যাঁরা তাঁদের বৃদ্ধ মা-বাবার দেখাশোনা করবে না, তাদের দণ্ড দেওয়ার আইন করার দাবি উঠেছে, যদিও এটি এখনো পাস হয়নি।

Leave a Reply

৯৭/৩/খ, উত্তর বিশিল, মিরপুর-১, ঢাকা-১২১৬
মোবাইলঃ ০১৭১২-৬৪৩৬৭৩, বার্তা বিভাগঃ ০১৭১২-৬৪৪৩৫০, সার্কুলেশন বিভাগঃ০১৯১৬০৯৯০২০
ইমেইলঃ [email protected], [email protected]

সম্পাদক:
মোঃ সুলতান চিশতী

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ
মহসিন হাসান খান (বুলবুল)

নির্বাহী সম্পাদকঃ
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন

সহকারী সম্পাদকঃ
মোঃ আতোয়ার হোসেন

আইন উপদেষ্টাঃ
শাহিন সরকার


.: Developed By :.
Great IT