২২শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ৭ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, শরৎকাল

মসজিদে নামাজের জামাতে মহিলাদের অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে

প্রকাশিতঃ ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০১৮, ৯:০০ পূর্বাহ্ণ


কাজী আবু হুরায়রা

খতিব, মসজিদে বায়তুল হারাম লালমাটিয়া, ঢাকা ও সভাপতি, বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতি

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মুফতি মুহাম্মদ আবদুল্লাহর এ বিষয়টিসহ সম্প্রতি সমসাময়িক কয়েকটি বিষয়ের ওপর তার লেখা পড়ে ভালো লেগেছে। গতানুগতিক লেখার চেয়ে উম্মাহর কল্যাণে সমসাময়িক আর্থসামাজিক উন্নয়নের বিষয়গুলো নিয়ে বেশি গবেষণা প্রয়োজন
মহিলাদের মসজিদে জামাতে অংশগ্রহণ বর্তমান সময়ে আমি শুধু সমর্থন নয়, বরং খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করি। ঢাকার একটি আভিজাত এলাকায় ২৬ বছর এবং আগে বাইরে প্রায় ১০ বছর ধরে আমি মসজিদের খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছি। ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমিতে দায়িত্বশীল পদে ৩০ বছরের অধিক সময় দায়িত্ব পালন এবং অরাজনৈতিক জাতীয়ভিত্তিক সংগঠন বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতির দায়িত্ব পালনের সুদীর্ঘ অভিজ্ঞতার আলোকে বলছি, মহিলাদের জামাতে অংশগ্রহণ বিশেষত জুমা, ঈদ ও তারাবির জামাতে যাওয়া মুসলিম উম্মাহর স্বার্থে জরুরি হয়ে পড়েছে বলে আমি মনে করি।
তবে সে ক্ষেত্রে অবশ্যই পৃথক ব্যবস্থা ও পর্দার বিধান মানতে হবে। আর মসজিদগুলোতে এ ধরনের পৃথক আয়োজন করা মসজিদ পরিচালনা কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। ইমামদের প্রশিক্ষণের দায়িত্বে থাকাকালীন তাদের এ কথাগুলো বলেছিলাম। তখন অনেক আলেম তা ভালোভাবে নেননি। কিন্তু আজকে সারাদেশে শত শত মহিলা মাদরাসা স্থাপিত হয়েছে। এখন মেয়েরা আলেমে দ্বীন হয়ে ইসলামের খেদমতে নিয়োজিত। মহিলা মাদরাসা আন্দোলনের ইতিহাস নিয়ে পরে একসময় লেখব ইনশাআল্লাহ। সময়ের প্রয়োজনে মসজিদে নামাজের জামাতে মহিলাদের গমন যে কি পরিমাণ জরুরি হয়ে পড়েছে, সেটা সময়ই নির্ধারণ করবে।
যে সব কারণে মহিলাদের মসজিদের জামাতে বিশেষ করে জুমা, ঈদ ও তারাবিতে যাওয়া প্রয়োজন তার কিছু যুক্তি মুফতি আবদুল্লাহ দিয়েছেন। আমিও আমার মতামত সংক্ষেপে তুলে ধরছিÑ
া মুফতি, মুহাদ্দিস ও ফকিহ শুধু পুরুষ নয় মহিলারাও ছিলেন রাসুল (সা.) এর যুগে। মা আয়েশার উদাহরণই যথেষ্ট। আমাদের মেয়েরা মাদরাসায় বা ঘরে ইসলামি শিক্ষার পর এর প্রচারের উত্তম ক্ষেত্র মসজিদ। বর্তমান জামানায় দায়ী ইলাল্লাহ হওয়া মহিলাদের জন্য বেশি প্রয়োজন। কারণ সন্তানরা মাকে বেশি অনুসরণ করে।
া জাহেলি যুগের মহিলারা ইসলাম গ্রহণ করে রাসুলের কাছে শিখতেন। এখন জাহেলি যুগের চেয়ে কোনো অংশে সমাজ ব্যবস্থা ভালো? নবীর ওয়ারিশ আলেম ও ইমাম-খতিবরাই তো শিক্ষকের ভূমিকা পালন করবেন।
া শুধু ঘরে বসে থাকলে কাক্সিক্ষত ফল লাভ হয় না। একে অপরের সঙ্গে মিলিত হলে অনেক কিছু শুনে ও দেখে উদ্বুদ্ধ হয়, আকর্ষণ তৈরি হয়। পরামর্শ করার সুযোগ পায়।
াআমার স্ত্রী অধ্যপিকা মাওলানা শারাবান তহুরা (কামিল এমএ)। তিনি স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম মহিলা মাওলানা। ইফার মহিলা শাখার দায়িত্বে (উপপরিচালক) ছিলেন বহু বছর। সেখানে মহিলাদের জন্য পৃথক মসজিদ রয়েছে। আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম এখানে এসে মহিলাদের কী লাভ হয়। তিনি যা যা বললেন সেগুলো নিয়ে একটি বই রচনা করা যায়। তিনি বললেন, কত সমস্যার কথা মহিলারা জিজ্ঞেস করে, তার শেষ নেই। কারণ তাদের কথা বলার জায়গা নেই। কোথাও গিয়ে কোনো পুরুষের কাছে জিজ্ঞেস করতে পারে না, কোনো পরামর্শ পায় না। শত শত উদাহরণ রয়েছে যে, তারা পরামর্শ নিয়ে ইমাম-খতিব ও বিজ্ঞ মহিলাদের বয়ান শুনে তারাও তাদের পরিবারে দ্বীনি পরিবেশ তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে।
া আমি ও আমার স্ত্রী কিছু দিন আগে প্রায় ২ মাস ইউরোপ সফর করে এলাম। দেখলাম অমুসলিম দেশগুলোতে মুসলিমরা যেসব মসজিদ তৈরি করেছে তার সবগুলোতে মহিলাদের পৃথক নামাজের ব্যবস্থা আছে। মহিলারা ইমাম ও খতিবের কাছে জুমার দিন কাগজে প্রশ্ন পাঠাচ্ছে। বাসাবাড়িতে বাঙালিরা আমাদের দাওয়াত করেছে। তারা জানাল যে, তারা তাদের সন্তানদের জন্য খুবই উদ্বিগ্ন। তাদের নিজ নিজ ঘরে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে দ্বীনি আলোচনার আয়োজন এবং অনান্য দেশের মহিলাদের মতো বাঙালি মুসলিম মহিলাদেরও জুমার জামাতে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছি।
া মসজিদে মহিলারা এলে ফেতনা হবেÑ একথা যারা বলেন, বিগত অর্ধশতাব্দীতে এ ধরনের কোনো উদাহরণ আছে কি? অথচ হাটবাজার, রাস্তাঘাট, যানবাহন, অফিস-আদালত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সর্বত্র ফেতনা হচ্ছে মহিলাদের নিয়ে, সেটা কি আমরা বন্ধ করতে পেরেছি?
যারা এসব অবাস্তব কথাবার্তা বলেন তারা কি জাহেলিয়াতের পথে যাওয়ার ক্ষেত্রে বাধা দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন? বরং একটি পরিবারের একজন মসজিদে এলে তার দেখাদেখি ওই পরিবারের অন্যরা, তার আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীরা মসজিদে এসে নামাজি হবে, পর্দানশীল ও মুত্তাকি হবে। তাতে মহিলাদের নিয়ে যে ফেতনার কথা বলা হচ্ছে, তার পরিবর্তে ফেতনা কমবে। তবে হ্যাঁ, তাদের জন্য সম্পূর্ণ পৃথক চলাচলের ও নামাজের পৃথক স্থান এবং শালীন পোশাক ব্যবহারের দিকে নজর দিতে হবে। স্থানকাল ভেদে কোনো সমস্যা হলে মহিলাদের জামাতে শরিক হওয়া জরুরি নয়।
আমরা যত তাড়াতাড়ি মসজিদে মহিলাদের জন্য পৃথক আয়োজন করে তাদের দ্বীনি কাজে উদ্বুদ্ধ করতে পারব, তত বেশি পরিবারগুলোতে দ্বীনি পরিবেশ ফিরে আসবে বলে আমি দৃঢ়ভাবে আশা করি।

Leave a Reply

৯৭/৩/খ, উত্তর বিশিল, মিরপুর-১, ঢাকা-১২১৬
মোবাইলঃ ০১৭১২-৬৪৩৬৭৩, বার্তা বিভাগঃ ০১৭১২-৬৪৪৩৫০
ইমেইলঃ [email protected], [email protected]

সম্পাদক:
মোঃ সুলতান চিশতী

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ
মহসিন হাসান খান (বুলবুল)

নির্বাহী সম্পাদকঃ
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন

সহকারী সম্পাদকঃ
মোঃ আতোয়ার হোসেন

আইন উপদেষ্টাঃ
শাহিন সরকার


.: Developed By :.
Great IT