২২শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ৭ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, শরৎকাল

মসজিদে আকসার মর্যাদা

প্রকাশিতঃ জানুয়ারি ৮, ২০১৮, ১০:৪৫ পূর্বাহ্ণ


মসজিদে আকসা সব মুসলমানের হৃদয়ের স্পন্দন। এটি শুধু একটি পবিত্র স্থানই নয়, এটি মুসলমানের কাছে বিভিন্ন কারণে তাৎপর্যম-িতও। কোনো মুসলমানের জন্য চিন্তা বা স্মৃতি থেকে এটিকে মুছে ফেলা সম্ভব নয়, কেননা তা মুসলমানের আত্মপরিচয়ের স্থাপত্য। ইসলামী ঐতিহ্যের একটি আদি নিদর্শন, যাকে কেন্দ্র করে অনেক নবী-রাসুল পৃথিবীতে পা দিয়েছেন। এখানে রয়েছে অনেক নবী-রাসুলের জন্মস্থান ও রওজা শরিফ। এ স্থানকে কেন্দ্র করে পবিত্র কোরআনে বিভিন্ন বর্ণনা পাওয়া যায়।

সূরা বনি ইসরাইলের ১নং আয়াতে এরশাদ হচ্ছে, ‘পবিত্র ও মহিমাময় সত্তা তিনি, যিনি স্বীয় বান্দাকে রাত্রি বেলায় ভ্রমণ করিয়েছিলেন মসজিদে হারাম থেকে মসজিদে আকসা পর্যন্ত, যার চারদিক আমি রহমতময় করেছি। যাতে আমি তাকে কুদরতের কিছু নিদর্শন দেখিয়ে দেই, নিশ্চয়ই তিনি পরম শ্রবণকারী ও সর্বদ্রষ্টা।’ রাসুলে আকরাম (সা.) মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করার পর, মদিনায় ১৬ বা ১৭ মাস বাইতুল মুকাদ্দাসের দিকে ফিরে নামাজ আদায় করেন। ইবনুল আজিম (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘আমরা নবী করিম (সা.) এর সঙ্গে ১৬ বা ১৭ মাসব্যাপী (মদিনায়) বাইতুল মুকাদ্দাসের দিকে মুখ করে সালাত আদায় করেছি। অতঃপর আল্লাহ তাকে কাবার দিকে ফিরিয়ে দেন।’ (বোখারি : ৪৪৯২)।
বাইতুল মুকাদ্দাসের ব্যাপারে অন্য একটি হাদিসে হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) বর্ণনা করেন, নবী করিম (সা.) বলেন, ‘সুলাইমান ইবনে দাউদ (আ.) বাইতুল মুকাদ্দাসের কাজ সম্পন্ন করে আল্লাহর কাছে তিনটি বিষয় প্রার্থনা করেন। ১. আল্লাহর বিধানের অনুরূপ সুবিচার। ২. এমন রাজত্ব যা তার পরে আর কাউকে দেয়া হবে না এবং ৩. যে ব্যক্তি বাইতুল মুকাদ্দাসে শুধু সালাত আদায়ের জন্য আসবে, সে তার গোনাহ থেকে সদ্য প্রসূত সন্তানের মতো নিষ্পাপ অবস্থায় বের হবে।’ অতঃপর নবী করিম (সা.) বলেন, ‘প্রথম দুইটি তাকে দেওয়া হয়েছে। আর আমি আশা করি, তৃতীয়টি আমাকে দান করা হবে।’ (ইবনে মাজাহ : ১৪০৮)।
আল্লাহর নৈকট্য লাভ ও অনুগ্রহ বা রহমত অর্জনের নিয়তে যে তিনটি মসজিদের দিকে গমন করা শরিয়তসম্মত তার মধ্যে একটি হলো মসজিদে আকসা। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল (সা.) বলেন, ‘তিন মসজিদ ব্যতীত অন্য কোনো মসজিদের দিকে ভ্রমণ করা যাবে না। মসজিদে হারাম, আমার এই মসজিদ এবং মসজিদে আকসা।’ (সুনানে নাসায়ি : ৭০০)। অপর হাদিসে মসজিদে আকসাকে ‘আল্লাহর দ্বিতীয় ঘর’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
হজরত আবু জর গিফারি (রা.) বর্ণনা করেন, একদিন আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল (সা.), সর্বপ্রথম কোন মসজিদটি নির্মিত হয়েছে? তিনি বলেন, ‘মসজিদে হারাম। আমি ফের বললাম, তারপর কোনটি? তিনি বলেন, মসজিদে আকসা। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, উভয়ের মাঝে ব্যবধান কত বছরের? তিনি বলেন, ৪০ বছর। এখন তোমার জন্য সমগ্র পৃথিবীই মসজিদ। অতএব যেখানেই তোমার সালাতের সময় হয়, সেখানেই তুমি নামাজ আদায় করো।’ (বোখারি : ৩৩৬৬)। রাসুল (সা.) কর্তৃক আজাদকৃত দাসী জাইমুনাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল (সা.), বাইতুল মুকাদ্দাস সম্পর্কে আমাদের বিধান বর্ণনা করুন। তখন তিনি বলেন, ‘তা হাশর ও পুনরুত্থানের ভূমি, তোমরা সেখানে যাতায়াত করবে, সেখানে নামাজ আদায় করবে। সেখানের নামাজ হাজার নামাজের সমতুল্য।’ (ইবনে মাজাহ)।

Leave a Reply

৯৭/৩/খ, উত্তর বিশিল, মিরপুর-১, ঢাকা-১২১৬
মোবাইলঃ ০১৭১২-৬৪৩৬৭৩, বার্তা বিভাগঃ ০১৭১২-৬৪৪৩৫০
ইমেইলঃ [email protected], [email protected]

সম্পাদক:
মোঃ সুলতান চিশতী

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ
মহসিন হাসান খান (বুলবুল)

নির্বাহী সম্পাদকঃ
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন

সহকারী সম্পাদকঃ
মোঃ আতোয়ার হোসেন

আইন উপদেষ্টাঃ
শাহিন সরকার


.: Developed By :.
Great IT