২১শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ৬ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, শরৎকাল

মমতা-সর্বানন্দ: আইনি তিরে পরস্পরকে ঘায়েলের চেষ্টা

প্রকাশিতঃ আগস্ট ৪, ২০১৮, ১১:৪৮ পূর্বাহ্ণ


দুজনেই মুখ্যমন্ত্রী। একজন পশ্চিমবঙ্গের, অন্যজন আসামের। একজন বাঙালি, অন্যজন অসমিয়া। একজন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অন্যজন সর্বানন্দ সোনোয়াল। একজন তৃণমূল কংগ্রেস, অন্যজন বিজেপি। এখন এই দুই মুখ্যমন্ত্রী আসামের এনআরসি ইস্যু নিয়ে রাজনীতির ময়দানে নেমেছেন। চলছে দুজনের বাদানুবাদ। সর্বশেষ অস্ত্র একটি। এফআইআর। এফআইআর দিয়ে ঘায়েল করা।

গত বৃহস্পতিবার আসামের পুলিশ পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতার বিরুদ্ধে তিনটি এফআইআর করেছে। আসামের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়ালের নির্দেশে এসব হয়েছে বলে অভিযোগ করা হচ্ছে। আসামের লখিমপুর, পানবাজার ও বশিষ্ঠ থানায় এসব এফআইআর হয়েছে। মমতার অপরাধ, তিনি গত সোমবার আসামের জাতীয় নাগরিক নিবন্ধন (এনআরসি) প্রকাশিত হওয়ার পর অশালীন মন্তব্য করে আসামের মানুষের মধ্যে বিভেদ তৈরি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে চেয়েছেন। তাই আসাম সরকার মমতাকে ঘায়েল করার জন্য তিনটি থানায় তিনটি এফআইআর করেছে।

আসামের এনআরসি তালিকা থেকে ৪০ লাখ বাঙালির নাম বাদ যাওয়ায় ক্ষুব্ধ মমতা বলেছিলেন, তিনি এটা মানেন না। এটি বাতিল চান। এভাবে ৪০ লাখ বাঙালিকে আসাম থেকে বিতাড়নের বিরুদ্ধে তিনি সোচ্চার। তিনি এর শেষ অবধি দেখে নেবেন। এরই ধারাবাহিকতায় তিনি এনআরসি তালিকা থেকে বাদ পড়া মানুষের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা এবং তাঁদের কথা শোনার জন্য গত বৃহস্পতিবার তৃণমূল কংগ্রেসের আটজনের একটি প্রতিনিধিদলকে আসামে পাঠান। বেলা দুইটার দিকে প্রতিনিধিদলটি আসামের বাঙালি-অধ্যুষিত শিলচর বিমানবন্দরে নামে। কিন্তু আসাম পুলিশ প্রতিনিধিদলের সদস্যদের বিমানবন্দর থেকে বের হতে দেয়নি। কার্যত আটকে রাখে। এ নিয়ে বাগ্‌বিতণ্ডার একপর্যায়ে পুলিশ তাঁদের ওপর চড়াও হয়। তাঁদের হেনস্তা করে, মারধর করে। এমনকি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ারও অভিযোগ ওঠে। রাতভর তাঁদের বিমানবন্দরে আটকে রাখা হয়। ১৯ ঘণ্টার পর গতকাল শুক্রবার ভোরে তাঁদের জোর করে ফেরত পাঠানো হয়। এর মধ্যে ছয়জন চলে আসেন কলকাতা আর দুজন চলে যান দিল্লিতে।

কলকাতায় ফিরে আসার পর এই প্রতিনিধিরাও কলকাতার দুটি থানায় আসামের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়ালের বিরুদ্ধে তিনটি এফআইআর ঠুকে দেন। অভিযোগ করা হয়, সর্বানন্দের নির্দেশেই বাংলার আট প্রতিনিধিকে হেনস্তা করা হয়। মারধর করা হয়। বেআইনিভাবে বিমানবন্দরে আটকে জনপ্রতিনিধিদের অধিকারে বাধা দেওয়া হয়, যেটা অগতান্ত্রিক। এমনকি হেনস্তার পাশাপাশি শ্লীলতাহানি এবং মুঠোফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও ওঠে।

কলকাতার আলীপুর থানায় এই নিয়ে এফআইআর করেন বিধায়ক মহুয়া মৈত্র। এয়ারপোর্ট থানায় আরও দুটি এফআইআর দায়ের করেন সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার ও সাংসদ মমতাবালা ঠাকুর। ইতিমধ্যে মামলার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

শিলচরে তৃণমূলের আট জনপ্রতিনিধিকে হেনস্তা এবং আসামের এনআরসি তালিকা বাতিলের দাবিতে তৃণমূল কংগ্রেস আজ শনিবার এবং কাল রোববার রাজ্যব্যাপী ‘কালা দিবস’ পালনের ঘোষণা দিয়েছে। এ লক্ষ্যে এই দুদিন গ্রাম থেকে শহর সর্বত্র তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা কালো ব্যাজ পরেন, মুখে কালো কাপড় বেঁধে প্রতিবাদ জানাবেন। আর স্লোগান তুলবেন, ‘দানবিক সরকার, আর নেই দরকার’।

এই কালা দিবস পালনের ঘোষণা দিয়ে তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেছেন, আসামে শুধু মুসলিম নয়, ওই রাজ্যে সাড়ে ১২ লাখ হিন্দুর নামও কাটা গেছে। নাম কাটা গেছে শিখ, নেপালিদেরও।

অন্যদিকে, আসামে ৪০ লাখ বাঙালির নাম বাদ দেওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের মতুয়া সম্প্রদায়। তারা দাবি করেছে, ওই ৪০ লাখ নামকাটা মানুষের মধ্যে ১৩ থেকে ১৪ লাখ রয়েছে মতুয়া সম্প্রদায়ের। ১ আগস্ট কলকাতাসহ পশ্চিমবঙ্গে মতুয়া মহাসংঘের নামে যে রেল ও সড়ক অবরোধ করা হয়েছিল, তা মতুয়া সম্প্রদায়ের ছিল না বলে জানিয়ে দিয়েছে সারা ভারত মতুয়া মহাসংঘের সভাপতি শান্তনু ঠাকুর। তিনি বলেছেন, মতুয়া সম্প্রদায়ের ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য ভুয়া সংগঠন করে এই রেল ও সড়ক অবরোধ করা হয়। ওখানে কোনো মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষ ছিল না। বলেন, যাঁরা অবরোধ করেছিলেন, তাঁরা মতুয়া নন।

Leave a Reply

৯৭/৩/খ, উত্তর বিশিল, মিরপুর-১, ঢাকা-১২১৬
মোবাইলঃ ০১৭১২-৬৪৩৬৭৩, বার্তা বিভাগঃ ০১৭১২-৬৪৪৩৫০
ইমেইলঃ [email protected], [email protected]

সম্পাদক:
মোঃ সুলতান চিশতী

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ
মহসিন হাসান খান (বুলবুল)

নির্বাহী সম্পাদকঃ
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন

সহকারী সম্পাদকঃ
মোঃ আতোয়ার হোসেন

আইন উপদেষ্টাঃ
শাহিন সরকার


.: Developed By :.
Great IT