২০শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ৫ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, শরৎকাল

মন্দিরের প্রতিমা ভাঙচুর

প্রকাশিতঃ সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৮, ৯:৫৯ পূর্বাহ্ণ


নেত্রকোনা ও নীলফামারীর ডিমলায় মন্দিরের প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটিয়াছে—যাহা দুর্ভাগ্যজনক শুধু নহে, অত্যন্ত নিন্দনীয়ও বটে। ডিমলায় ভাঙচুরের পাশাপাশি মন্দিরে অগ্নিসংযোগেরও অভিযোগ পাওয়া গিয়াছে। স্বস্তির বিষয় হইল, ঘটনাদুইটির ধরন ভিন্ন হইলেও উভয় ক্ষেত্রেই স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা প্রশংসনীয়ই বলিতে হইবে। তাত্ক্ষণিকভাবে দুর্বৃত্তদের আটক করা সম্ভব না হইলেও পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পাশাপাশি যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়াছেন। ইহা নিশ্চিতভাবে আতঙ্কিত ভুক্তভোগীদের সাহস ও ভরসা জোগাইয়াছে। ইত্তেফাকে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নেত্রকোনা পৌর শহরের পশ্চিম মালনী এলাকার শ্মশানঘাট কালীমন্দিরে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে গত বৃহস্পতিবার গভীর রাত্রে। অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তরা মন্দিরের ৪টি প্রতিমা ভাঙচুর করে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করিয়াছেন। নেত্রকোনা থানায় মামলা হইয়াছে। জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ এবং জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ দুর্বৃত্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাইয়াছেন।

 

ডিমলায় দুর্বৃত্তদের মূল উদ্দেশ্য ছিল বিধবার ভিটেবাড়ি দখল। জানা যায়, উপজেলা সদর ইউনিয়নের বাবুরহাট পাড়া গ্রামের মৃত নারায়ণ ভুইমালীর স্ত্রী বাসন্তী ভুইমালীর বসতবাাড়ি দখলের উদ্দেশ্যে দুর্বৃত্তরা হামলা চালায় এবং গাছপালা কাটিতে শুরু করে। ইহাতে বাধা দেওয়া হইলে দুর্বৃত্তরা বাসন্তীর কিশোরপুত্রকে কোপাইয়া গুরুতর জখম করে এবং তাহাদের পারিবারিক পূজামণ্ডপে ভাঙচুর চালায়। একপর্যায়ে মন্দিরে অগ্নিসংযোগ করে। ডিমলা থানার একজন কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে গিয়া পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। আমরা আশা করি, ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সহিত দেখা হইবে। সেইসঙ্গে নিশ্চিত করা হইবে ভুক্তভোগী নারী এবং তাহার কিশোর সন্তানের সুচিকিত্সা ও নিরাপত্তা। সর্বোপরি, অনতিবিলম্বে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হইবে।

 

ভিটেবাড়ি দখলের উদ্দেশ্যে মন্দিরে হামলা, প্রতিমা ভাঙচুর ও সংখ্যালঘুদের হয়রানির ঘটনা নূতন না হইলেও নেত্রকোনা ও ডিমলায় যাহা ঘটিয়াছে— তাহা বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলিয়াই প্রতীয়মান হয়। ইহা সুবিদিত যে, বাংলাদেশ এমনিতেই ঐতিহ্যগতভাবে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। শত শত বত্সর ধরিয়া নানা ধর্মের ও জাতিসত্তার মানুষ এখানে শান্তিপূর্ণভাবে সহাবস্থান করিয়া আসিতেছে। রাজনৈতিক মতলব হাসিল এবং ভিটেবাড়ি দখলের উদ্দেশ্যে চিহ্নিত একটি মহল পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন সময়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এই বাতাবরণ ধ্বংস করিবার অপচেষ্টা চালাইলেও বর্তমান সরকারের কঠোর অবস্থানের কারণে তাহা সফল হয় নাই। প্রসঙ্গত কক্সবাজারের রামু, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর ও রংপুরের গঙ্গাচড়ার দৃষ্টান্ত তুলিয়া ধরা যায়। প্রতিটি ক্ষেত্রে সরকার ও প্রশাসন সময়োচিত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি প্রশংসনীয় দৃঢ়তা ও দূরদর্শিতার পরিচয় দিয়াছে। কোনো কুচক্রী মহল যাহাতে কোনো অজুহাতে সরকারের এই অর্জনকে নস্যাত্ করিতে না পারে সেইজন্য স্থানীয় জনগণ, জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনকে সর্বদা সজাগ থাকিতে হইবে।

Leave a Reply

৯৭/৩/খ, উত্তর বিশিল, মিরপুর-১, ঢাকা-১২১৬
মোবাইলঃ ০১৭১২-৬৪৩৬৭৩, বার্তা বিভাগঃ ০১৭১২-৬৪৪৩৫০
ইমেইলঃ [email protected], [email protected]

সম্পাদক:
মোঃ সুলতান চিশতী

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ
মহসিন হাসান খান (বুলবুল)

নির্বাহী সম্পাদকঃ
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন

সহকারী সম্পাদকঃ
মোঃ আতোয়ার হোসেন

আইন উপদেষ্টাঃ
শাহিন সরকার


.: Developed By :.
Great IT