২২শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ৭ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, শরৎকাল

ভোটার স্থানান্তর বন্ধ রেখেছে কমিশন!

প্রকাশিতঃ সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৮, ১০:১০ পূর্বাহ্ণ


আগামী একাদশ জাতীয় নির্বাচন উপলক্ষে ভোটার স্থানান্তরের কার্যক্রম অনানুষ্ঠানিক বন্ধ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এর আগে নির্বাচন কমিশন এক আদেশে মাঠ প্রশাসনকে আবাসস্থল পরিবর্তন অথবা অন্যবিধ কারণে ভোটার স্থানান্তরের জন্য প্রাপ্ত আবেদনসমূহ গত ৩১ আগস্টের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ দেয়। কেননা আগামী ২৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ৩০০টি নির্বাচনী এলাকার জন্য চূড়ান্ত সর্বশেষ হালনাগাদকৃত ভোটার তালিকার সিডি উপজেলা/থানা নির্বাচন অফিসসমূহে সরবরাহ করা হবে।
আর আগামী ১০ অক্টোবর ভোটার তালিকার সিডি অনুযায়ী ছবিসহ এবং ছবি ছাড়া ভোটার তালিকা মুদ্রণ শুরু করবে কমিশন। তবে তফসিল ঘোষণার আগ পর্যন্ত ভোটার হওয়ার সুযোগ অব্যাহত রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইসির সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ ইত্তেফাককে বলেন, যৌক্তিক কারণ ছাড়া আপাতত ভোটার স্থানান্তর করা হবে না। কেননা জাতীয় নির্বাচনের জন্য ভোটার তালিকার সিডি প্রস্তুতের কাজ চলছে। তবে যে কেউ চাইলে তফসিল ঘোষণার আগ পর্যন্ত ভোটার হতে পারবেন।
আগামী ৩০ অক্টোবর থেকে ২৮ জানুয়ারির মধ্যে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সংবিধান অনুযায়ী দশম সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্ববর্তী ৯০ দিনের মধ্যে একাদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ২০১৪ সালের ২৯ জানুয়ারি দশম সংসদের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই হিসেবে আগামী বছরের ২৮ জানুয়ারির পূর্ববর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ৩০ অক্টোবর থেকে জাতীয় নির্বাচনের কাউন-ডাউন শুরু হবে। ইসি সচিবের মতে, এরপর যে কোনো সময় তফসিল ঘোষণা করতে পারে নির্বাচন কমিশন।
ইসির সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সংসদ নির্বাচনে সাধারণত ভোটার তালিকার সিডি প্রস্তুত করার কাজ বেশ সময় সাপেক্ষ। সিডি প্রস্তুতির কাজ শুরু হলে ভোটার স্থানান্তর বন্ধ রাখা হয়। একবার সিডি প্রস্তুত করার পর কেউ ভোটার হিসাবে স্থানান্তর হয়ে গেলে পুনরায় দুইটি নির্বাচনী এলাকার সিডি প্রস্তুত করতে হয়। এটি করা বেশ সময়ের ব্যাপার। ভোটার তালিকা করার সুবিধার্থে তফসিল ঘোষণার কমপক্ষে দুই মাস আগে ভোটার স্থানান্তরের কার্যক্রম বন্ধ করা হয়। বিশেষ ব্যবস্থায় ভোটার স্থানান্তর করার সুযোগ রাখা হয়েছে।
ভোটার স্থানান্তরের কার্যক্রম একেবারে বন্ধ রাখা আইনের পরিপন্থী। ভোটার তালিকা আইন, ২০০৯ এর ১০ ধারায় বলা আছে, ‘বিভিন্ন নির্বাচিত সংস্থার নির্বাচনের সময়সূচি ঘোষণার তারিখ হইতে নির্বাচন অনুষ্ঠানের সময়কাল ব্যতিরেকে, অন্য যে কোনো সময়, নির্ধারিত পদ্ধতিতে, প্রয়োজন অনুসারে নিম্নোক্তভাবে সংযোজন ও বিয়োজনপূর্বক ভোটার তালিকা সংশোধন করা যাইবে।’ উপরোক্ত ধারা অনুযায়ী চারটি কারণে জাতীয় নির্বাচনে তফসিল ঘোষণার আগ পর্যন্ত ভোটার তালিকায় সংশোধনের সুযোগ রয়েছে। এর মধ্যে নতুন ভোটার অন্তর্ভুক্তি, মৃত ভোটার কর্তন, ভোটার স্থানান্তর এবং ভোটার তালিকা ত্রুটি-বিচ্যুতি দূর করা।
নতুন ভোটার করার ব্যাপারে ১০ ধারার উপধারা (ক) তে বলা আছে, ‘তালিকায় এমন কোনো ব্যক্তির নাম অন্তর্ভুক্ত করা, যার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয় নাই বা যিনি ইহা প্রণয়নের পর বা ইহার সর্বশেষ পুনঃপরীক্ষার পর অনুরূপ উক্ত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হইবার যোগ্য হইয়াছেন।’
ভোটার স্থানান্তরের বিষয়ে উপধারা (গ) তে বলা আছে, ‘যিনি বাসস্থান পরিবর্তনের কারণে নতুন ভোটার এলাকা বা ক্ষেত্রমতে, নির্বাচনী এলাকার অধিবাসী হইয়াছেন, পূর্বের ভোটার এলাকা বা ক্ষেত্রমতে নির্বাচনী এলাকা তালিকা হইতে তাহার নাম কর্তৃনপূর্বক নতুন এলাকায় বা ক্ষেত্রমতে ভোটার এলাকার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা।’ যদিও নির্বাচন কমিশন শুধু উপরোক্ত ধারা অনুযায়ী ভোটার তালিকায় নতুন ভোটারের নাম অন্তর্ভুক্তির সুযোগ রেখেছে।
ইসির সংশ্লিষ্টদের মতে, আগামী নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহের পর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে। এই সময়ের মধ্যে ইচ্ছা করলে ভোটার হওয়ার যোগ্য যে কেউ সংশ্লিষ্ট নির্বাচন অফিসে গিয়ে ভোটার তালিকার নাম অন্তর্ভুক্ত করতে পারবেন। তফসিলের আগ পর্যন্ত নতুন যারা ভোটার হবেন পরবর্তীতে ভোটার তালিকায় সাপ্লিমেন্টারি হিসেবে যুক্ত করা হয়।

Leave a Reply

৯৭/৩/খ, উত্তর বিশিল, মিরপুর-১, ঢাকা-১২১৬
মোবাইলঃ ০১৭১২-৬৪৩৬৭৩, বার্তা বিভাগঃ ০১৭১২-৬৪৪৩৫০
ইমেইলঃ [email protected], [email protected]

সম্পাদক:
মোঃ সুলতান চিশতী

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ
মহসিন হাসান খান (বুলবুল)

নির্বাহী সম্পাদকঃ
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন

সহকারী সম্পাদকঃ
মোঃ আতোয়ার হোসেন

আইন উপদেষ্টাঃ
শাহিন সরকার


.: Developed By :.
Great IT