১৯শে অক্টোবর, ২০১৮ ইং | ৪ঠা কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, হেমন্তকাল

‘ভুলে যাওয়া’ অর্থমন্ত্রীকে মনে করিয়ে দিলেন ছেলে

প্রকাশিতঃ সেপ্টেম্বর ২১, ২০১৮, ১০:৫২ অপরাহ্ণ


ডেস্ক নিউজ:বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্য বিশারদ মিলনায়তনে শুক্রবার বিকেল ৪টায় চন্দ্রাবতী একাডেমি আয়োজিত শিশুসাহিত্য সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেয়ার কথা ছিল অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের। স্বভাব সুলভ হাসি মুখে ব্লু রঙের পাঞ্জাবি পরে প্রধান অতিথি হিসেবে সম্মেলনে যোগ দেন মুহিত।

তবে বিকেল ৪টায় নয়, তিনি প্রায় দেড় ঘণ্টা দেরিতে সাড়ে ৫টার দিকে সম্মেলনস্থলে এসে পৌঁছান। এ কারণেই হয় তো প্রধান অতিথি হিসেবে আবুল মাল আবদুল মুহিত যে বক্তব্য দেন তার অধিকাংশ জুড়েই ছিল অনুষ্ঠানস্থলে আসতে দেরি হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করা।

বক্তব্যের শুরুতেই মুচকি হাসি দিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আজকের অনুষ্ঠানটি শুরু হয়েছে একটু দেরিতে। সেই দেরি করার জন্য আমিই একান্তভাবে দায়ী। আমি যানি না কেন? বোধায় চন্দ্রাবতী বেশি বেশি প্রোগ্রাম করছে সেজন্য।’ অর্থমন্ত্রী বক্তব্যের শুরুতেই এমন কথা বলায় উপস্থিতিরা হেসে উঠেন।

এরপর মুহিত বলেন, গতকালকে রাতে যখন আমার কর্মসূচি শেষ হলো, তখন আমার যারা সহায়ক তারা বললো যে আগামীকাল (আজ) কী আছে। আজকে প্রথমটাই ছিল প্রধানমন্ত্রী বিদেশ যাবেন। সেটা অবশ্য তাদের খুবই ভালো স্মরণে ছিল। তো সেভাবেই সকাল বেলা তারা হাজির হলো। আমার সকালের প্রোগ্রাম শেষ হয়ে গেল।

‘তারপর কেন যেন মনে হলো চন্দ্রাবতীর আজকের প্রোগ্রামে আমি আসবো না। তাদের আর একটা অনুষ্ঠান বোধায় আছে দুই-একদিনের মধ্যে, সেটা বোধায় আমার যাওয়ার কথা। তো আমি তাদের (অর্থমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারীদের) বললাম আজকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার আগে আর কিছুই করার নেই’-যোগ করেন অর্থমন্ত্রী।

এরপর মুহিত বলেন, আজকে আমার জন্য খুব একটা ভালো দিন। আমার ব্যক্তিগত সহকারী যিনি আছেন রাশেদুজ্জামান, তিনি আমার সঙ্গে ৬ মাস ধরে আছেন। আজকে তার জন্য খুব একটা শুভদিন। আজকে তার বিয়ে। তার বিয়ের বয়স হয় তো অনেক আগেই পেরিয়ে গেছে।

‘সে যখন আমার ব্যক্তিগত সহকারী হয়, তখন আমি তাকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম-তুমি কি sবিশেষ কোনো কারণে চিরকুমার? না এমনিই চিরকুমার রয়ে গেছ। তখনি সে আমাকে বলেছিল- চিরকুমার থাকার কোনো ইচ্ছা আমার নেই। এমনিই হয় নাই। নানা কাজে ব্যস্ততার কারণে বিয়ে আর হয়নি’ মুচকি হেসে বলেন অর্থমন্ত্রী।

এ সময় বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগদেয়ার কথা ভালোভাবে মনে থাকার কথাও জানান মুহিত। তিনি বলেন, এটা আমার খুব মনে আছে সন্ধ্যাবেলা আমাকে তার (ব্যক্তিগত সহকারী) আকতে যেতে হবে। সে অনুযায়ী আমি সব ব্যবস্থা করেছি। সকাল বেলা আসার পর বেশ ঘুমাবো কিছুক্ষণ। তারপর এটা সেটা করে সন্ধ্যাবেলা তার বিয়েতে যাবো।

‘এর মধ্যে আমার ছেলে, যারা সপ্তাহের অর্ধেকদিন আমার সঙ্গে থাকে এবং বাকি অর্ধেকদিন থাকে অন্য বাড়িতে। আজকে তারা এসেছে। খাওয়া-দাওয়ার পর সে আমাকে বললো তুমি এখানে বসে আছ, তোমার একটা প্রোগ্রাম আছে। আমি বললাম না আমার তো আজ কোনো প্রোগ্রাম নেই। আমি তোমাদের সঙ্গে বিয়েতে যাবো। কিন্তু সে বললো না মনে হয় তোমার একটা প্রোগ্রাম আছে ‘চন্দ্রাবতীর প্রোগ্রাম’। সে জন্য আমার আসতে দেরি হয়েছে’ বলেন বাংলাদেশের রেকর্ড সংখ্যক জাতীয় বাজেট দেয়া মুহিত।

অর্থমন্ত্রীর এমন কথার পর বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্য বিশারদ মিলনায়তন জুড়েই অট্টহাসির রোল পড়ে যায়। এরপর চন্দ্রাবতী একাডেমির সঙ্গে নিজের জড়িত থাকার বিষয়ে কথা বলেন মুহিত।

তিনি বলেন, চন্দ্রাবতীর সঙ্গে আমার পরিচয় অনেকদিন আগে। তার কারণ হলো আমার বন্ধু জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। আনিসুজ্জামান শুরু থেকেই চন্দ্রাবতীর একজন পৃষ্টপোষক। তার বন্ধু হওয়ার ফলে আমিও তাদের সঙ্গে প্রথম থেকে একটু খানি যুক্ত আছি।

এরপর চন্দ্রাবতী একাডেমির বিভিন্ন প্রশংসা করে অর্থমন্ত্রী বলেন, তাদের সঙ্গে কাজ করাটা খুবই আনন্দের। তারা আমার গুটা দু’য়েক বই প্রকাশ করেছে। এই বইয়ের সব থেকে বড় চার্ম হলো- অলমোস্ট বিশুদ্ধ বই। একেবারে প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত ভুলচুকের কোনো সুযোগ থাকে না। আমি মনে করি বইয়ে ভুল থাকা উচিত নয়। কারণ বই আর একজনের জ্ঞান বৃদ্ধির চেষ্টা। সেখানে যদি ভুল থেকে যায়, তাহলে জ্ঞানের চর্চার যে চেষ্টা তাকে অনেক অবনমিত করে ফেলা হয়।

জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান’র সভাপতিত্বে ‘চন্দ্রাবতী শিশুসাহিত্য সম্মেলন-২০১৮’ শীর্ষক সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান, শিশুসংগঠক আবুল মোমেন এবং এবি ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মসিউর রহমান চৌধুরী। অনুষ্ঠানে লেখক সুব্রত বড়ুয়া ও ইমদাদুল হক মিলনকে শিশুসাহিত্য পুরস্কার দেয়া হয়। পুরস্কার হিসেবে তাদের প্রত্যেককে ক্রেস্ট ও ৫০ হাজার টাকা দেয়া হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী ‘চন্দ্রবতী শিশুসাহিত্য সম্মেলন’ শীর্ষক প্রকাশিত বইয়ের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তবে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বইটির বেশি সমালোচনা করেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান।

শামসুজ্জামান খান বলেন, শিশুসাহিত্য হলো বিশেষায়িত সাহিত্য। বড় যত্ন করে এই সাহিত্য লিখতে হয়। ‘চন্দ্রবতী শিশুসাহিত্য সম্মেলন’ বইটি আমি পড়েছি, বড় কষ্ট লেগেছে।

এ সময় তিনি শিশুসাহিত্যকদের উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘এক’শ বই পড়ুন, তারপর ১০ লাইন লিখুন’

Leave a Reply

৯৭/৩/খ, উত্তর বিশিল, মিরপুর-১, ঢাকা-১২১৬
মোবাইলঃ ০১৭১২-৬৪৩৬৭৩, বার্তা বিভাগঃ ০১৭১২-৬৪৪৩৫০
ইমেইলঃ [email protected], [email protected]

সম্পাদক:
মোঃ সুলতান চিশতী

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ
মহসিন হাসান খান (বুলবুল)

নির্বাহী সম্পাদকঃ
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন

সহকারী সম্পাদকঃ
মোঃ আতোয়ার হোসেন

আইন উপদেষ্টাঃ
শাহিন সরকার


.: Developed By :.
Great IT