২১শে নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, হেমন্তকাল

ভিন্ন ভাষায় মিথ্যা বলা সহজ!

প্রকাশিতঃ জুলাই ২৩, ২০১৮, ১০:৩৮ পূর্বাহ্ণ


কেউ মিথ্যাচার করছে কি না, তা ধরে ফেলা এমনিতেই কঠিন। এই মিথ্যা যদি কেউ বিদেশি ভাষায় বলে, তবে তা ধরা আরও কঠিন। গবেষকেরা এমন কথাই বলছেন। জার্মানির উর্জবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই মনোবিদ সম্প্রতি জানিয়েছেন, মাতৃভাষার চেয়ে অন্য ভাষায় মিথ্যা বলা সহজ।

জার্নাল অব এক্সপেরিমেন্টাল সাইকোলজিতে সম্প্রতি প্রকাশিত এক গবেষণা নিবন্ধে জানানো হয়, মাতৃভাষার চেয়ে অন্য কোনো ভাষায় মানুষ সহজে মিথ্যা বলতে পারে। অনেকটা সহজাত হওয়ায় এই মিথ্যাচার ধরাও তুলনামূলক কঠিন। গবেষণাটি করেছেন উর্জবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের গবেষক ক্রিস্টিনা সুকোটজকি ও ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের অধ্যাপক ম্যাথিয়াস গ্যামার।

গবেষণাপত্রে বলা হয়, বিদেশি ভাষায় মিথ্যা বলা যেমন সহজ, তেমনি বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জনও কঠিন। সাধারণত, বিভিন্ন সীমান্তে কিংবা শরণার্থীশিবিরে এ ধরনের প্রবণতা বেশি দেখা যায়। এ ছাড়া বিদেশি ভাষায় কথা বলা ব্যক্তিদের প্রতি মানুষ সাধারণত একধরনের সন্দেহ পোষণ করে বলেও মত দিয়েছেন গবেষকেরা।

এ বিষয়ে প্রধান গবেষক ক্রিস্টিনা সুকোটজকি সায়েন্সডেইলিকে বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক কাঠামোয় মানুষের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ছে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে একটি সাধারণ ভাষায় সবাই নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ করছেন। এমন আলোচনার ক্ষেত্রও পাওয়া যাবে, যেখানে সব আলোচকই বিদেশি ভাষায় কথা বলছেন। ধরা যাক, কোনো ব্যবসায়িক আলোচনা কিংবা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের ঘটনায় বিদেশি কারও সঙ্গেই কথা বলতে হচ্ছে। দুই ক্ষেত্রেই ওই বিদেশি নিজের পক্ষে আলোচনাকে চালিত করতে চাইবে। এটাই স্বাভাবিক। এ ক্ষেত্রে যে ব্যক্তি বিদেশি ভাষায় কথা বলছে, তার প্রতি অন্যদের একধরনের আস্থার ঘাটতি দেখা যায়। এই আস্থাহীনতা অযৌক্তিক হতে পারে। কিন্তু এটাই হয়। অপরাধবিজ্ঞানের বিভিন্ন গবেষণার ক্ষেত্রেও এমন কথা বলা হয়েছে। কিন্তু এটা কখনো কেউ খুঁজে দেখেনি যে আসলেই কি মাতৃভাষা ছাড়া অন্য কোনো ভাষায় মানুষ সহজে মিথ্যা বলে।

এ ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত প্রতিষ্ঠিত তত্ত্বটি হচ্ছে মানুষ মাতৃভাষায় সহজে মিথ্যা বলে। কারণ, বিদেশি ভাষায় খুব কমই মিথ্যা বলার মতো চাতুর্য দেখাতে পারে। সত্যের চেয়ে মিথ্যা বলায় মানুষের ভাষা দক্ষতার বেশি প্রয়োজন হয়। কিন্তু গবেষক ক্রিস্টিনা বলছেন অন্য কথা। তাঁর মতে, মিথ্যা বলার সময় মানুষের মধ্যে আবেগীয় বেশ কিছু পরিবর্তন হয়, যা দেখে তার মিথ্যাচারিতা ধরা সম্ভব। কিন্তু বিদেশি ভাষায় কথা বলার সময় মানুষের মধ্যে তুলনামূলক কম আবেগ দেখা যায়। ফলে অন্য ভাষায় মিথ্যা বলার সময় মানুষের পক্ষে তার আবেগ ও শরীরী ভাষা নিয়ন্ত্রণ করা তুলনামূলক সহজ।

এই নতুন তত্ত্বের পক্ষে প্রমাণ সংগ্রহের জন্য গবেষকেরা ৫০ জন স্বেচ্ছাসেবকের ওপর একটি গবেষণা চালান। এই স্বেচ্ছাসেবকদের কিছু সুনির্দিষ্ট প্রশ্ন করা হয়, যার উত্তর মাতৃভাষা ও অন্য কোনো ভাষায় করতে বলা হয়। এই অংশগ্রহণকারীদের দেওয়া উত্তর এবং এতে ব্যয় করা সময়সহ বিভিন্ন বিষয় পর্যবেক্ষণ করেন গবেষকেরা। এতে দেখা যায়, ব্যক্তিগত প্রশ্নের চেয়ে সাধারণ প্রশ্নের উত্তর দিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা কম সময় নিচ্ছেন। মাতৃভাষায় উত্তর দেওয়ার ক্ষেত্রেও কম সময় নিতে দেখা যায়। আর সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে, বিদেশি ভাষায় সত্য ও মিথ্যা উত্তর দেওয়ার ক্ষেত্রে অংশগ্রহণকারীরা প্রায় সমান সময় ব্যয় করছেন। কিন্তু মাতৃভাষায় এই সময় ব্যবধান উল্লেখযোগ্য।

সাধারণত, মিথ্যা বলার সময় মানুষ তুলনামূলক বেশি সময় নেয়। ফলে বিদেশি ভাষায় সত্য ও মিথ্যার মধ্যে প্রভেদ করা অনেক কঠিন হয়ে পড়ে।

Leave a Reply

৯৭/৩/খ, উত্তর বিশিল, মিরপুর-১, ঢাকা-১২১৬
মোবাইলঃ ০১৭১২-৬৪৩৬৭৩, বার্তা বিভাগঃ ০১৭১২-৬৪৪৩৫০, সার্কুলেশন বিভাগঃ০১৯১৬০৯৯০২০
ইমেইলঃ [email protected], [email protected]

সম্পাদক:
মোঃ সুলতান চিশতী

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ
মহসিন হাসান খান (বুলবুল)

নির্বাহী সম্পাদকঃ
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন

সহকারী সম্পাদকঃ
মোঃ আতোয়ার হোসেন

আইন উপদেষ্টাঃ
শাহিন সরকার


.: Developed By :.
Great IT