২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ১০ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, শরৎকাল

ভারতে হজের ভর্তুকি প্রসঙ্গ

প্রকাশিতঃ জানুয়ারি ২৩, ২০১৮, ৯:২৮ পূর্বাহ্ণ


ভর্তুকির টাকাটা
খরচ করা হবে মুসলমান মেয়েদের শিক্ষা খাতে। বেশ ভালো কথা। আমরা অপেক্ষা করব। কিন্তু গলদটা রয়ে যাচ্ছে ভুল সিস্টেম বা পদ্ধতিতে। তোমাদের এটা দেব না, ওটা দেব না। কোথায় যেন মনে হচ্ছে একটা রাজনীতি
কাজ করছে।’

হজের ভর্তুকি তুলে দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেছেন মোদি সরকারের সংখ্যালঘুবিষয়ক মন্ত্রী মুখতার আব্বাস নাকভি। তোষণ নীতির বদলে সংখ্যালঘুদের ক্ষমতায়ন এবং মর্যাদা রক্ষা করাই এর মূল উদ্দেশ্য বলে দাবি করেছেন তিনি।
সুপ্রিমকোর্টের নির্দেশ অনুসারে বার্ষিক হজযাত্রার ভর্তুকি ধাপে ধাপে তুলে দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে মোদি সরকার। শীর্ষ আদালতের নির্দেশ ছিল, ২০২২ সালের মধ্যে তা তুলে দিতে হবে। কিন্তু মোদি সরকার তার ৪ বছর আগেই তা তুলে দেওয়ার কথা ঘোষণা করে। সরকারের সংখ্যালঘুবিষয়ক মন্ত্রী মুখতার আব্বাস নাকভি বলেন, তোষণ না করে মর্যাদার সঙ্গে সংখ্যালঘু বিকাশই মোদি সরকারের লক্ষ্য। এ ভর্তুকি তুলে নিলে যে টাকাটা বাঁচবে, তা খরচ করা হবে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের, বিশেষ করে কন্যা সন্তানের শিক্ষা তথা কল্যাণ খাতে।
মুসলমানদের কল্যাণে সরকারের দায়বদ্ধতার কথা মাথায় রেখেই এ সিদ্ধান্ত বলে দাবি করছে সরকার। হজযাত্রার ভর্তুকি বাবদ সরকারি তহবিল থেকে খরচ হয় বছরে প্রায় ৪৫০ কোটি টাকা। এর মধ্যে আছে হজযাত্রীপিছু রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান সংস্থা এয়ার ইন্ডিয়ায় যাতায়াতের বিমান ভাড়া। হজ কমিটির ফি এবং মক্কা ও মদিনায় থাকার ঘরভাড়া মিলিয়ে দুই লাখ ২১ হাজার টাকা।
২০১২ সালে কংগ্রেস জোট সরকারের আমলেই সুপ্রিমকোর্টের মুসলিম বিচারপতি আফতাব আলমের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চের নির্দেশ ছিল, ১০ বছরের মধ্যেই হজযাত্রার ভর্তুকি ধাপে ধাপে তুলে নিতে হবে। সেটাই কার্যকর করতে সরকারের এ পদক্ষেপ। কিন্তু মোদি সরকার ভর্তুকি তুলে নেওয়ার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে চাইছে, এমনটাই অভিযোগ বিরোধীদের। শুরু হয়েছে এর পক্ষে-বিপক্ষে নানা আলোচনা।
কংগ্রেস নেতা গুলাম নবী আজাদের অভিযোগ, ‘সংখ্যালঘুদের তোষণের রাজনীতি করি না’ বলে মোদি সরকার যেভাবে ঢাক পেটাচ্ছে, তা সংগত নয়। হিন্দু তীর্থযাত্রীদের জন্য কি সরকার ভর্তুকি দিচ্ছে? তাহলে সেটা কি হিন্দু তোষণ কিংবা ভোট ব্যাংক রাজনীতির পর্যায়ে পড়ে না? মুসলমানদের হজযাত্রার জন্য ভর্তুকি দেওয়াটা কোন দিক থেকে অসাংবিধানিক?
হায়দরাবাদের এআইএমআইএমের সাংসদ আসাদউদ্দিন ওয়েসি ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, নীতিগতভাবে তিনি হজ ভর্তুকি তুলে দেওয়ার পক্ষপাতী; কিন্তু সব ধর্মের ক্ষেত্রেই সেটা প্রযোজ্য হবে। হজ তীর্থযাত্রীদের ক্ষেত্রে তুলে দেওয়া হলে মানস সরোবরের ক্ষেত্রে তা নয় কেন। তবে কোনো কোনো মুসলিম সংস্থা এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। লক্ষেèৗয়ের মাওলানা খালিদ রসিদ ফারাঙ্গি মনে করেন, ভর্তুকি তুলে দিয়ে বিমান ভাড়া ইত্যাদির জন্য টেন্ডার ডাকা উচিত। এতে সব বিমান সংস্থাই যোগ দিতে পারবে এবং ভাড়া কমতে সাহায্য হবে।
তামিলনাড়– রাজ্যের এআইএডিএমকে সরকার কেন্দ্রের এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে বলেছে, কেন্দ্রের উচিত এ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা। রাজ্যের অপর দল ডিএমকের নেতা এমকে স্টালিনের মতে, মোদি সরকার ধর্মনিরপেক্ষতার সাংবিধানিক শর্ত থেকে বিচ্যুত হচ্ছে। দ্বিতীয়ত, সরকার তো গোটা দেশে বিভিন্ন অনুদান বা ভর্তুকি দিয়ে থাকে। এর মধ্যে হিন্দু তীর্থযাত্রীদের জন্য ভর্তুকি অন্যতম। যেমন, প্রতি বছর অমরনাথ তীর্থযাত্রীদের পরিষেবার জন্য সরকার খরচ করে থাকে ১০ কোটি টাকা। কেরালা সরকার ত্রিভাঙ্কুর দেবস্থানমের জন্য রাজ্য সরকার সরকারি কোষাগার থেকে প্রতি বছর খরচ করে প্রায় ৪৭ কোটি টাকা। গত বছর কর্নাটকে চার্চের জন্য রাজ্য সরকার দিয়েছে সাড়ে ১৬ কোটি টাকা। উত্তর প্রদেশের আদিত্যনাথের বিজেপি সরকার কাশী, মথুরা ও অযোধ্যার জন্য বাজেট বরাদ্দ রেখেছে ৮০০ কোটি টাকা। তাহলে সেগুলো তুলে দেওয়া হচ্ছে না কেন, জানতে চান তিনি।
এ বিষয়ে উত্তরবঙ্গের নজরুল হাফেজ, যিনি ‘হাজী সাহেব’ নামে পরিচিত, তার কাছে মোদি সরকারের এ সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি বললেন, ‘হজ সাবসিডি উঠে যাবে বা তুলে দেওয়া হবে, এটা কোনো বড় ব্যাপার নয়। কারণ, আমাদের কোরআনেও আছে, যার টাকা আছে সে-ই হজে যাবে। আসলে একের পর এক টার্গেট করা হচ্ছে আমাদেরই। তা সে তিন তালাক হোক বা হজ ভর্তুকি হোক। একটা নন-ইস্যুকে যে ইস্যু করা হচ্ছে, ভয়টা এখানেই। একটা ভয়ের বা আতঙ্কের পরিম-ল সৃষ্টি করা হচ্ছে। এটার বিরুদ্ধে আমরা তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’ হাজী সাহেবের মতে, ‘সুপ্রিমকোর্ট বলেছিলেন, ৪ বছরের মধ্যে; কিন্তু মোদি সরকার ৪ বছর আগেই তা করতে চাইছে। এত তাড়াহুড়ো করার দরকার কী ছিল? অহেতুক একটা ভীতি সৃষ্টি করা? ভর্তুকির টাকাটা খরচ করা হবে মুসলমান মেয়েদের শিক্ষা খাতে। বেশ ভালো কথা। আমরা অপেক্ষা করব। কিন্তু গলদটা রয়ে যাচ্ছে ভুল সিস্টেম বা পদ্ধতিতে। তোমাদের এটা দেব না, ওটা দেব না। কোথায় যেন মনে হচ্ছে একটা রাজনীতি কাজ করছে।’
হিন্দুদের তীর্থযাত্রায় ভর্তুকি প্রসঙ্গে হাজী সাহেব বলেন, ‘মোদ্দা কথা, যাদের হজে যাওয়ার আর্থিক সামর্থ্য নেই, তারা হজে যাবেন না। সরকারি ভর্তুকি নিয়ে হজে যেতেই হবে, এমন কোনো কথা নেই। হিন্দু তীর্থ অমরনাথ যাত্রায় ভর্তুকি তুলে নেওয়া হোক, এমন কথা আমরা বলব না। সেটা যাদের ভাবার কথা তারা ভাববেন। আমরা দুই ধর্মের মানুষই মিলেমিশে থাকি আমাদের এখানে। ভালো লাগে থাকতে। গর্ববোধ করি। হিন্দুদের বিয়ে-শাদি এমনকি শ্রাদ্ধানুষ্ঠানেও আমরা নিমন্ত্রণ পাই। আমরা যাই। অনর্থক ভুল বোঝাবুঝি চাই না।’
হডয়চে ভেলে অবলম্বনে

Leave a Reply

৯৭/৩/খ, উত্তর বিশিল, মিরপুর-১, ঢাকা-১২১৬
মোবাইলঃ ০১৭১২-৬৪৩৬৭৩, বার্তা বিভাগঃ ০১৭১২-৬৪৪৩৫০
ইমেইলঃ [email protected], [email protected]

সম্পাদক:
মোঃ সুলতান চিশতী

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ
মহসিন হাসান খান (বুলবুল)

নির্বাহী সম্পাদকঃ
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন

সহকারী সম্পাদকঃ
মোঃ আতোয়ার হোসেন

আইন উপদেষ্টাঃ
শাহিন সরকার


.: Developed By :.
Great IT