২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ৮ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, শরৎকাল

ব্রাজিল–আর্জেন্টিনা নয়, চাই বাংলাদেশ বাংলাদেশ করতে

প্রকাশিতঃ জুলাই ১০, ২০১৮, ৮:৫৪ অপরাহ্ণ


বিশ্বকাপ ফুটবল দেখতে দেখতেই অনেক ফুটবলপ্রেমী তন্ময় হয়ে ভাবেন—ইশ্‌, বাংলাদেশ যদি কোনো দিন বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পেত! সারা বিশ্বের লাখো কোটি মানুষ শুনতে পেত আমাদের জাতীয় সংগীত, বাংলাদেশের কোনো ফুটবলারের নৈপুণ্য হয়তো ঝড় তুলত বিশ্ব মিডিয়ায়, সারা দুনিয়া আমাদের চিনত ফুটবলের দেশ হিসেবে!
এসব ভাবতে ভাবতেই হতাশায় ছেয়ে যায় মন। বাস্তবের তপ্ত জমিনে পা রাখেন তাঁরা। কিসের বিশ্বকাপ, আমরা ভবিষ্যতে কোনো দিন এশিয়ান কাপের চূড়ান্ত পর্বে সুযোগ পাব কি না, সেটি নিয়েই তো সংশয়। বিশ্বের সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা ফুটবল-অঞ্চল সাফেও তো এখন আর আমাদের অবস্থান মজবুত নয়। ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে পেছাতে পেছাতে আমরা এসে ঠেকেছি ১৯৪-এ!

অনেক স্বপ্ন ও সাধের ফুটবল এখন রীতিমতো তলানিতে। ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের পরে যেসব দেশ আছে, সেগুলো হয় আন্তর্জাতিক ফুটবল খেলা ছেড়ে দিয়েছে, অথবা তাদের কোনো জাতীয় দল নেই। মোট কথা, ফুটবলে বাংলাদেশের অবস্থান এখন যতটা নিচে, এর চেয়ে নামা হয়তো সম্ভব নয় কোনো দেশের পক্ষেই।

এসব নিয়ে বাংলাদেশের মানুষের ক্ষোভের শেষ নেই। এ দেশের মানুষ ফুটবল কতটা ভালোবাসেন, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশের কোনো সুযোগ নেই। মানুষ বিশ্বকাপ এলেই কেবল ফুটবল দেখেন না, বরং সারা বছর ধরে ইউরোপের বিভিন্ন লিগের খেলাগুলোও তাঁরা মনোযোগ দিয়ে দেখেন। আর এসব দেখতে দেখতেই তাঁরা দেশের ফুটবল নিয়ে স্বপ্ন দেখেন। কিন্তু স্বপ্নের সঙ্গে বাস্তবের ব্যবধানটা যেন তাঁদের জন্য দিন দিন বেড়েই চলেছে। কাল প্রথম আলোতে বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিনের কলামটিতে মন্তব্য করে ফুটবল উন্নয়নে নিজেদের আকুতিটাই জানিয়েছেন ফুটবলপ্রেমীরা।

সালাউদ্দিন তাঁর কলামে ইউরোপের ক্লাব-অবকাঠামোর প্রশংসা করেছেন। বলেছেন, বাংলাদেশে আমরা ব্রাজিল-আর্জেন্টিনাকে নিয়েই পড়ে আছি। সেই সঙ্গে একজন ফুটবল বিশেষজ্ঞ হিসেবে তিনি বিশ্লেষণ করেছেন কীভাবে বিশ্ব ফুটবলে ইউরোপীয় দলগুলো লাতিন ফুটবলকে ছাড়িয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। সালাউদ্দিনের মতে ক্লাব কাঠামো, টাকা ও পরিকল্পনার অভাবেই দেশের ফুটবলকে এগিয়ে নেওয়া যাচ্ছে না, ‘আমরা এগোতে পারছি না ক্লাব কাঠামো না থাকায়। এ জন্য টাকা দরকার। তবে শুধু টাকা থাকলেই হবে না। তাহলে তো সৌদি আরব অঢেল টাকা ঢেলে চ্যাম্পিয়ন হয়ে যেত। এর সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি ও খুব ভালো পরিকল্পনা চাই। যেটি আছে ইউরোপের।’

দেশের মানুষের দুঃখটা এখানেই। দেশের ফুটবলের সর্বোচ্চ কর্তা যখন সবই জানেন-বোঝেন, তাহলে তাঁর অধীনে দেশের ফুটবলের অবস্থা এমন শোচনীয় কেন? তিনবার সভাপতি নির্বাচিত হয়ে দশ বছর ধরে দেশের ফুটবলের মসনদে বসে আছেন সালাউদ্দিন। কিন্তু তাঁর সময়ে ফুটবলকে এগিয়ে নেওয়ার সত্যিকারের কোনো পরিকল্পনা কি বাংলাদেশ দেখেছে? সালাউদ্দিন দেশের ফুটবলে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় তারকা। তাঁর মতো একজন ব্যক্তিত্বের সময় ফিফা র‍্যাঙ্কিং ১৯৪-এ এসে ঠেকবে—এটা বাংলাদেশের ফুটবলের জন্য দুর্ভাগ্যই।

তাঁর সময়ই আমরা ভুটানের কাছে হেরেছি। আচ্ছা, এটাকে যদি দুর্ঘটনা হিসেবে ধরা যায়, তারপরেও তো ঘুরে দাঁড়ানোর কোনো পরিকল্পনা এখন পর্যন্ত দেখা যায়নি। দেশের কোনো বয়সভিত্তিক দল নেই। নেই ফুটবল একাডেমি। ক্লাবগুলো যুব উন্নয়নে উৎসাহী নয়। জেলা ও বিভাগীয় ফুটবল নামকাওয়াস্তে হয়। মোট কথা, নতুন প্রতিভা যেসব পথ দিয়ে উঠে আসবে, তার সব কটিই অকেজো করে রাখা হয়েছে। সে কারণেই পাঠকেরা সালাউদ্দিনের কলামটিতে উগরে দিয়েছেন নিজেদের যত ক্ষোভ। সঙ্গে জানিয়েছেন এই অবস্থা থেকে ফুটবলকে বাঁচানোর আকুতিও।

একজন পাঠক লিখেছেন, ‘কাজী সাহেব, আপনি দয়া করে ফুটবল নিয়ে কোনো মন্তব্য করবেন না।’ দেশের ফুটবলকে এই অবস্থায় নিয়ে আসার জন্য তিনি বাফুফে সভাপতির দায় দেখছেন।

সালাউদ্দিন যে বিষয়গুলোকে ফুটবল উন্নয়নের অন্তরায় হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। স্বাভাবিকভাবে এগুলো তো তাঁরই সমাধান করার কথা। কিন্তু সেগুলো হচ্ছে না বলেই কষ্ট মঈন অনীকের, ‘ক্লাব কাঠামো ঠিক নাই, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিতে হবে—এসব আমাদের বলছেন কেন? এগুলো ঠিক করার কথা বলেই তো আপনি বাফুফে সভাপতির চেয়ারে বসছেন। পরপর তিনবার দায়িত্ব নিয়ে কিছু করতে পারলেন না, আর কত বছর দায়িত্বে থাকলে আপনার “দীর্ঘমেয়াদি” পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হবে? দলের খারাপ রেজাল্টে কোনো দোষ কাঁধে নেন না, কিন্তু কোন দিক দিয়ে হঠাৎ কোনো সাফল্য আসলে তো ক্রেডিট নিতে ছাড়েন না।’

সালাউদ্দিনের ফুটবলার সত্তা নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই। তিনি কত বড় মাপের ফুটবলার ছিলেন, সেটি নিয়ে কোনো দ্বিমত নেই দেশের ফুটবলপ্রেমীদের। খেলোয়াড় সালাউদ্দিনের ভক্ত-সংখ্যাও কম নয়। কিন্তু সংগঠক হিসেবে সালাউদ্দিনকে পাস মার্ক দিতে নারাজ মোহাম্মদ রজ্জব, ‘তিতা হলেও সত্য, সালাউদ্দিন সাহেব আপনি ভালো খেলোয়াড় তবে দক্ষ সংগঠক না। কীভাবে লিগ, ক্লাব ও জাতীয় দল পরিচালনা করতে হয়, কীভাবে খেলোয়াড় বানাতে হয়, তাদের তুলে আনতে হয়, কীভাবে দীর্ঘমেয়াদি হিসাবে তাদের গড়ে তুলতে হয়, আপনি তার কিছুই জানেন না।’

বিশ্বকাপের সময় বাংলাদেশ ভাগ হয়ে যায় ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার সমর্থনে। কয়েক দিন আগেও বাড়ির ছাদে, গাছের মগডালে শোভা পেয়েছে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার পতাকা। কিন্তু ভিনদেশি দল নিয়ে পড়ে থাকতে থাকতে মানুষ এখন ক্লান্ত। তাঁরা চান নিজের দেশের ফুটবল নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে। একজন লিখেছেন, ‘আমরা তো “বাংলাদেশ বাংলাদেশ”ই করতে চেয়েছিলাম।’

Leave a Reply

৯৭/৩/খ, উত্তর বিশিল, মিরপুর-১, ঢাকা-১২১৬
মোবাইলঃ ০১৭১২-৬৪৩৬৭৩, বার্তা বিভাগঃ ০১৭১২-৬৪৪৩৫০
ইমেইলঃ [email protected], [email protected]

সম্পাদক:
মোঃ সুলতান চিশতী

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ
মহসিন হাসান খান (বুলবুল)

নির্বাহী সম্পাদকঃ
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন

সহকারী সম্পাদকঃ
মোঃ আতোয়ার হোসেন

আইন উপদেষ্টাঃ
শাহিন সরকার


.: Developed By :.
Great IT