১৮ই অক্টোবর, ২০১৮ ইং | ৩রা কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, হেমন্তকাল

বিশ্বকাপ একাদশে মেসি-রোনালদো থাকবে না!

প্রকাশিতঃ জুলাই ১০, ২০১৮, ৯:০৮ অপরাহ্ণ


লোথার ম্যাথাউস লিখেছেন…

সেমিফাইনালে ঢুঁ মারার আগে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে একটু ঘুরে আসা যাক। আমাকে সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ করেছে বেলজিয়ানরা। ব্রাজিলের বিপক্ষে ২-১ গোলে জয়ের ম্যাচটা এই বিশ্বকাপেরই সেরা ম্যাচগুলোর একটি। খেলোয়াড়দের নিজেদের উজাড় করে দেওয়া, দক্ষতার প্রদর্শনী ও নাটকীয়তা-একটি ফুটবল ম্যাচ থেকে আপনি যা যা প্রত্যাশা করেন তার সবই ওই ম্যাচে ছিল। বেলজিয়ামের জয় আমার কাছে খুব বেশি চমক হয়ে আসেনি। তথাকথিত ছোট দলগুলো বড় দলকে বিদায় করে দেওয়ার এই বিশ্বকাপের ধারাটা ওই জয়ে আরও একবার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

আগেরবারের চ্যাম্পিয়ন জার্মানির মতো ব্রাজিলকেও একই ভাগ্য বরণ করতে হয়েছে। যেমনটা হয়েছে আর্জেন্টিনা ও স্পেনের ক্ষেত্রেও। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে কেউ যদি বলত, এই চার দলের একটিও সেমিফাইনালে যাবে না। তবে নির্ঘাত তার মানসিক সুস্থতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতাম। তবে এখন বলতেই হচ্ছে ফ্রান্স, বেলজিয়াম, ইংল্যান্ড ও ক্রোয়েশিয়ার প্রত্যেকেই যোগ্য দল হিসেবেই শেষ চারে জায়গা করে নিয়েছে। তারা উঁচু মানের ফুটবল খেলেছে এবং সেটাও ধারাবাহিকভাবে।

ইংল্যান্ড গতিময় খেলোয়াড়, ক্রোয়েশিয়া চাতুর্য, ফ্রান্স দলীয় সমন্বয় ও বেলজিয়াম নিখুঁত ট্যাকটিকস দিয়ে সফল হয়েছে। রোমেলু লুকাকুর ডান দিক দিয়ে আক্রমণে যাওয়া এবং কেভিন ডি ব্রুইনাকে ফলস নাইন হিসেবে খেলানোর বেলজিয়ান কৌশলের কাছে মার খেয়েছে ব্রাজিল। ওই দুজনকে আটকানোর উপায় ব্রাজিলিয়ান রক্ষণের জানা ছিল না। বেলজিয়ামের ট্যাকটিক্যাল মাস্টারপিসের প্রকৃষ্ট উদাহরণ ছিল এটি। দলটির ব্যক্তিগত প্রতিভা ও দক্ষতার সঙ্গে ট্যাকটিকসের এই দুর্দান্ত সংমিশ্রণই বেলজিয়ামের সাফল্যের মূল রহস্য। ব্রাজিলও যে খারাপ খেলেছে, এটা বলতে পারবেন না। ওরা মাথা উঁচু করেই বিদায় নিয়েছে। বেলজিয়াম ম্যাচে ওরা খারাপ খেলেনি। কিন্তু শেষমেশ শক্তিশালী একটি বেলজিয়ান দলের কাছে হার মেনেছে। অন্যদিকে জার্মানি হেরেছে দক্ষিণ কোরিয়া ও মেক্সিকোর মতো মাঝারি মানের দলের কাছে।

ইংল্যান্ডের দিকে তাকালেই বোঝা যায়, হ্যারি কেন-জন স্টোনসদের মতো তরুণদের নিয়ে গড়া এই দলটা কী দারুণ প্রতিভাবান। কেনের করা ৬ গোলই ওকে পছন্দ করার একমাত্র কারণ নয়। সে দল-অন্তঃপ্রাণ একজন খেলোয়াড় এবং সামনে থেকে দলকে নেতৃত্ব দেয়। ইংল্যান্ডে দারুণ একটা বদল আসছে সেটা দেশটির যুব দল ও তরুণ প্রতিভা তুলে আনা দেখলেই বোঝা যায়। দারুণ সব আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়; হোসে মরিনহো, পেপ গার্দিওলা ও ইয়ুর্গেন ক্লপদের মতো কোচদের নিয়ে সাজানো শক্তিশালী প্রিমিয়ার লিগ দিয়েও উপকৃত হচ্ছে ইংল্যান্ড। সামনের সব বড় টুর্নামেন্টেও ইংল্যান্ডের ওপর তাই নজর রাখতে হবে।

দুটি সেমিফাইনালেই সমানে সমান লড়াই হবে। ফ্রান্স-বেলজিয়াম ও ইংল্যান্ড-ক্রোয়েশিয়া ম্যাচে তাই পরিষ্কার কোনো ফেবারিট নেই। ইংল্যান্ড বা ক্রোয়েশিয়ার কেউ ফ্রান্স বা বেলজিয়ামের বিপক্ষে ফাইনাল জিততে পারে-এমনটা ভাবতে একদমই কষ্ট হচ্ছে না। চার দলের মধ্যে শুধু ফ্রান্সই হয়তো টুর্নামেন্ট শুরুর আগে দ্বিতীয়, তৃতীয় বা চতুর্থ হওয়ার দৌড়ে ফেবারিট ছিল। কিন্তু অন্যদের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা একদমই তেমন ছিল না। ক্রোয়েশিয়া আমাকে ১৯৯০ সালের আর্জেন্টিনার কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে, যারা দুটি পেনাল্টি শুটআউট দিয়ে ঘেমেনেয়ে ফাইনালে উঠেছিল।

ফ্রান্স দারুণ যূথবদ্ধ একটা দল। দলটা সুশৃঙ্খল ও গোছানো। তরুণ একটা দলের কাছ থেকে এটা চমকই হয়ে এসেছে। দুর্দান্ত সব ফুটবলারে ঠাসা ফ্রান্স, বেলজিয়ামেরও তা-ই। কিন্তু ফরাসিরা বেলজিয়ামের চেয়েও বেশি দল হিসেবে খেলে। তবে ফ্রান্সের তুলনায় বেলজিয়ানদের আক্রমণভাগ বেশি শক্তিশালী। আমি লুকাকুর পারফরম্যান্সে উচ্ছ্বসিত। সেটা শুধু ওর ৪ গোলের কারণেই নয়। বরং মাঠে নিজেকে উজাড় করে দেওয়ার জন্য। সঙ্গে ওর অসামান্য শক্তি আর মাঠে ওর উপস্থিতি তো আছেই। লুকাকু, ডি ব্রুইনা ও এডেন হ্যাজার্ড মিলে গড়ে তোলা আক্রমণভাগের ত্রয়ী ফ্রান্সের ত্রয়ীর চেয়ে ভালো। ফ্রান্সে কিলিয়ান এমবাপ্পে ও আঁতোয়ান গ্রিজমানের সঙ্গে থাকা সেন্টার ফরোয়ার্ড অলিভিয়ের জিরু খুব দ্রুত পাস করে, এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বেলজিয়ান ত্রিফলার যে কারও চেয়ে ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের ঝলকে জিরু পিছিয়েই থাকবে। দল দুটির মধ্যে এই রকম ছোট ছোট পার্থক্য সত্ত্বেও লড়াইটা হবে একদম সমানে সমান। আর যার ফল শেষমেশ দুই দলের কোনো সুপারস্টারই নির্ধারণ করে দিতে পারে।

Leave a Reply

৯৭/৩/খ, উত্তর বিশিল, মিরপুর-১, ঢাকা-১২১৬
মোবাইলঃ ০১৭১২-৬৪৩৬৭৩, বার্তা বিভাগঃ ০১৭১২-৬৪৪৩৫০
ইমেইলঃ [email protected], [email protected]

সম্পাদক:
মোঃ সুলতান চিশতী

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ
মহসিন হাসান খান (বুলবুল)

নির্বাহী সম্পাদকঃ
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন

সহকারী সম্পাদকঃ
মোঃ আতোয়ার হোসেন

আইন উপদেষ্টাঃ
শাহিন সরকার


.: Developed By :.
Great IT